রাজ্য

ধর্মঘটের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কাজ হারানো ফলতা


সুপর্ণা রায়, চিন্তন নিউজ, ২৮ ডিসেম্বর: উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে গিয়ে ৮৫ কারখানার জায়গায় এখন ২৩টি কারখানা। ফলতা শিল্পাঞ্চলের হাল বেহাল গত ৯/১০ বছরে। আগে যেখানে ৮৫ টা কারখানা চলতো এখন তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ টি। আগে কারখানা গুলোয় কর্মী ছিলেন ২৮ হাজার আর এখন কাজ করেন মাত্র ৬ হাজার শ্রমিক। বহু সংস্থায় বেতন সেই ২২০ টাকা। যে শ্রমিকরা কাজ করে কারখানা গুলোতে তাদের মধ্যে বেশির ভাগ অস্থায়ী শ্রমিক। এমনই হাল ফলতা শিল্পাঞ্চলের।

উন্নয়নের জোয়ারে মুক্ত বানিজ্য কেন্দ্রের কাজ হারানো ঠিকা শ্রমিক আজ দিনমজুর। এরকমই এক দিনমজুর অসীম মন্ডল জানান, তিনি ৮ই জানুয়ারি ভারত বনধের দিন কাজ বন্ধ রেখেই ধর্মঘটে সামিল হবেন। সেই ধর্মঘটে সামিল হবেন আরও কাজ হারানো শ্রমিক। সূত্রের খবর, এই বনধে সামিল হতে চলেছেন বিষ্ণুপুরের ২২ মাস বেতন না পাওয়া শ্রমিকরাও। পথে নেমেছেন বাম কর্মী সমর্থকরা, চলছে জোরদার প্রস্তুতি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বনধ সফল করার জন্য আবেদন রাখছেন। শুধু মজুরি বৃদ্ধি নয়, কাজ হারানো শ্রমিকরা যাতে কাজ পায় তাই নিয়ে চলছে প্রচার। ৮ই জানুয়ারি নিজেদের জীবনের উপর আসা দূর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে ধর্মঘটের প্রচারে সাড়া দিচ্ছেন শ্রমিকরা।

ফলতা বানিজ্য কেন্দ্রে ২০১১ সাল অবধি কাজ করত ২৮ হাজার শ্রমিক আর কারখানার সংখ্যা ছিল ৮৫ টি। সেসব এখন অতীত। বন্ধ হয়ে গেছে একের পর এক কারখানা। শ্রমিকদের কথা অনুযায়ী এখন চলছে মাত্র ২৩টি কোম্পানি। গত তিন বছরে মজুরি বাড়েনি এক পয়সাও। এখন যত শ্রমিক কাজ করেন তাদের বেশির ভাগ ঠিকা শ্রমিক। শ্রমিকদের অভিযোগ তৃনমুল নেতাদের অশুভ আঁতাতে মজুরি বৃদ্ধি হচ্ছে না। ২২০ টাকা মজুরিতেই কাজ করতে হচ্ছে।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য অগ্নিমুল্য। মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। অসহায় হয়ে পড়েছে কাজ হারানো শ্রমিক পরিবার গুলো। গ্রামে কাজ নেই, তাই অনেকেই বাইরে দিনমজুরের কাজ করে বলে জানান দিনমজুর অসীম মন্ডল।

সিপিআইএম ফলতা এরিয়াল কমিটির সম্পাদক শম্ভু কূর্মী বলেন, লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে, কাজ ও কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দামের দাবি তে, এন আর সি – সিএএ-এনপিআর’র বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প রক্ষার স্বার্থে ৮ ই জানুয়ারি দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটে শ্রমিক কৃষক সহ শ্রমজীবী মানুষকে শামিল করতে বাড়ি বাড়ি প্রচারের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অঞ্চল সভা সংগঠিত করা হচ্ছে। তৃনমুল নেতাদের বাধা সত্বেও প্রচন্ড সন্ত্রাসের পরিবেশের মধ্যে চলছে প্রস্তুতি। ৮ই জানুয়ারি স্তব্ধ হবে সমস্ত কলকারখানা।

সিআইটিইউ নেতা প্রনব গাঙ্গুলী জানান শিল্পাঞ্চল এলাকায় পথসভা, মিছিল, দেওয়াল লিখন, পোস্টারিং করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি প্রচার পত্র পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হচ্ছেন সংগঠিত অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক শ্রমজীবী মানুষ।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।