বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

পৃথিবীতে জলসংকট। ভূগর্ভস্থ জল ফুরিয়ে যাচ্ছে।


কাকলি চ্যাটার্জি :চিন্তন নিউজ:২১শে জুন:–স্রষ্টা না থাকলে যেমন সৃষ্টি অসম্ভব তেমনই প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষায় অপরিহার্য জল। জলশূন্য পৃথিবী হয়তো সম্ভব কিন্তু সেখানে থাকবেনা প্রাণের স্পন্দন। বিশ্ব উষ্ণায়ন, নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদ, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় একদিকে যেমন জলসংকট তেমনি অপরদিকে মেরুঅঞ্চলের হিমবাহগুলি দ্রুতহারে গলে যাওয়ার জন্য সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার জন্য নীচু দ্বীপ অঞ্চলগুলো চলে যাবে জলের তলায়। পৃথিবীর তিনভাগ জল কিন্তু সেই জল পানের অযোগ্য। লবণমুক্ত করে সেই জল ব্যবহার করার মত পরিকাঠামো বা আর্থিক স্বাচ্ছল্য কোনোটাই আমাদের মত উন্নয়নশীল দেশে নেই। যেটা আছে সেটা হল মানুষের হঠকারিতা, সরকারের সীমাহীন অজ্ঞতা আর অপরিণামদর্শীতা। ২০২০ সালের পর আমার দেশের চারটি প্রধান শহর—– দিল্লি, চেন্নাই, ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদ এ ভূগর্ভস্থ পানীয় জল ফুরিয়ে যাবে। জলসংকটে ভুগবেন প্রায় দশ কোটি ভারতীয়। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ৪০% মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে এই সংকট। কিন্তু এই পরিস্থিতে আমরাও দায় এড়াতে পারি? জল অপচয় যেন মানুষের জন্মগত অধিকার। যা সহজলভ্য( এখনও পর্যন্ত) তার উপযুক্ত মর্যাদা কেই বা কবে দিয়েছে? প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল ব্যবহার, রাস্তার ধারে ট্যাপকলের জল অপচয় রোধের ব্যবস্থা নেয়া অবিলম্বে দরকার। ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, বিভিন্ন গণসংগঠনগুলোকে এ ব্যাপারে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি নিতে হবে। বিজ্ঞানভিত্তিক গণসংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এমনিতেই অনেক দেরী হয়ে গেছে, দাবি তোলা হোক রাজ্যব্যাপী জল সচেতনতা যাত্রার। সরকার যেখানে স্থবির সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে আপনার আমার উত্তরাধিকারীর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে গ্ৰহণ করা হোক সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে কর্মসূচি রূপায়ন। আন্দামান এ যেমন বৃষ্টির জল সংরক্ষণ করে পানীয় হিসাবে ব্যবহার করা হয় এই ব্যবস্থা এখানেও সরকারীভাবে গ্ৰহণ করার আওয়াজ উঠুক। বহুজাতিক সংস্থাগুলো কে কোনোমতেই ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না বাণিজ্যিক প্রয়োজনে আমাদের ভূগর্ভস্থ জল। শুরুটা হোক নিজের বাড়ি দিয়ে। সবাইকে আজ থেকেই সচেতন হতে হবে নিজের বাড়ির ঐ শিশুটিকে ,তার হাত ধরেই শুরু হোক এই প্রয়াসের শুভ সূচনা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।