দেশ

অপরিকল্পিত লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিণতিতে ডিজিটাল ভারতের মুখোশ খুলে গেল।


গৌতম প্রামানিক: চিন্তন নিউজ:২০শে জুন:- মূলত ‘লক ডাউন’ প্রক্রিয়ায় দেশের সরকারের ভুমিকায় আজ জানতে পারা গেল সারা দেশে কত ধরনের শ্রমিক আছে, যারা একটা রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে দেশের উন্নয়নের ধ্বজা তুলে ধরার কাজে শ্রমের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করে। যদিও এই উপার্জন তাদের শ্রম দানের উপযুক্ত নয়।

দেশের সরকার হাতে প্রচুর বা পর্যাপ্ত সময় থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্য মূলক পরিকল্পনা হীন এই লক ডাউনের ঘোষণা। বলবেন কেনো!? গত ২৫ জানুয়ারী,২০ দেশের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ঘোষণা যতো শীঘ্রই শারীরিক ও সামাজিক (যদিও এই শব্দ মানা সম্ভব নয়, কারণ সামাজিক বিষয় নিয়েই আমাদের মূল কাজ) দুরত্ব অবশ্য গড়ে তুলতে হবে, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০ দেশের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য নিয়ামক সংস্থা ঘোষণা করে শারীরিক দূরত্ব, কোনো জমায়েত, অনেক মানুষ নিয়ে সভা, দর্শক নিয়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা করা যাবে না। স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে, সাবান দিয়ে ঘনঘন হাত ধুতে হবে, ইত্যাদি সতর্কতা মূলক নির্দেশ।

ততদিনে ৩০ জানুয়ারী প্রথম কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীর হদিশ মিললো কেরলে। তখনি কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন এক্ষুনি আন্তর্জাতিক বিমান ভারতে ঢোকা বন্ধ করুন, কারন, এই ভাইরাস আমদানি বিদেশ থেকে, যদিও কেরলে বামপন্থী সরকার; তাই কর্ণপাত করলেন না। উল্টে ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ‘নমস্তে ট্রাম্প’ বন্দনায় মেতে উঠলেন, ১০০ কোটির বেশি অর্থ ব্যয় করে গুজরাটের স্টেডিয়ামে দেড় লাখ মানুষের জমায়েত করে , ট্রাম্পকে নিয়ে আসার রাস্তায় কোটি কোটি অর্থ ব্যয়ে ট্রাম্পের পায়ে দেশের নিষেধাজ্ঞাকে অঞ্জলি দিলেন।

৯ মার্চ মহারাষ্ট্রে ২ জন কোভিড১৯ আক্রান্ত হলো, তখনো হাজার হাজার ভারতীয় বিদেশ থেকে আসা-যাওয়া, এবং বিদেশিদের যাতায়াত ক্রমাগত চলতেই থাকলো, তাদের কোনো প্রকার স্ক্রিনিং করানো হলোনা। ইতিমধ্যেই সংক্রমণ হু হু করে ছড়িয়ে পড়তে লাগলো, তখন দুম করে ২২ মার্চ লক ডাউন ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সারা দেশ ব্যাপী উপসর্গ ছড়িয়ে পড়তে লাগলো। সমগ্ৰ দেশবাসী তালা বন্দি। খেটে খাওয়া, দিন আনে দিন খায় মানুষ দিশেহারা!!

প্রথম ১৪ দিন দেশবাসী ভেবেছিলেন একটা কিছু পরিকল্পনা সরকার নেবেই!! দেশের সমস্ত কলকারখানা স্তব্ধ, বেসরকারি সংস্থা গুলো এই সুযোগে শ্রমিক কর্মচারী বিরোধী চিন্তা ভাবনা শুরু করে দিয়েছে, তারা দেশের অতিমারী রূপ কি হতে চলেছে, সুতরাং, কর্মীদের বেতন ছাঁটাই, কর্মী সংকোচন, কাজের সময় বাড়ানোর মতন অমানবিক পদক্ষেপ।

বালুরঘাটের মিজানুরের ভাই শ্রমজীবী বন্ধু লতিফ বর্তমানে এই পদক্ষেপের স্বীকার। পরবর্তী লক ডাউন ঘোষণা হলো কিন্তু ভিন রাজ্যে থাকা শ্রমিকদের কি হবে!? তাদের ভবিষ্যৎ কি!? বাড়ি ফিরে তাদের সংসার কিভাবে চলবে, বহু পরিশ্রমে সঞ্চিত অর্থ- যা এক কথায় বলা যায় তাদের স্বপ্নের ভরসা। হাত পড়তে লাগলো তাতে,– অবশ্যই এই পর্যায়ে আসার মধ্যেই আমাদের চোখ দুটো খুলে গেল!!
বুর্জোয়া এই ব্যবস্থা ও দক্ষিণপন্থি সরকারের দৃষ্টিতে এরা আজো কতো অবহেলিত, ঘৃণ্য!!

কোনো এডভেঞ্চার নয়, সর্বহারা হয়ে অন্তত আপনজনের টানে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ হেঁটে বাড়ি ফেরা, পশুর মতন গাদাগাদি করে একটা ট্রাকে বাড়ি ফেরা।

আমরা ১৫ আগষ্ট স্বাধীনতা পালন করি, মাইক ফুকে দেশ প্রেম জানাই!! কিসের স্বাধীনতা?
যে দেশের সরকার দেশের উন্নয়নের কারিগরদের দায়িত্ব নেওয়া দূরের কথা, তাদের সুরক্ষা দিতে পারেনা!!

হাজার হাজার কিলোমিটার পথ হাঁটতে হাঁটতে পেটে খিদে নিয়ে, এক ফোঁটা জলের অভাবে রাস্তায় আছড়ে পরে মৃত্যু হয়! ট্রেন লাইন ধরে হাঁটার সময় পিছন থেকে তাদের পিষে দিয়ে কচু কাটা করে চলে যায়, ট্রাকে আসার সময়ে ট্রাক উল্টে মৃত্যু হয়, চলন্ত ট্রেনে চিকিৎসা না পেয়ে তরতাজা যুবক শ্রমিক ভাইয়ের মৃত্যু হচ্ছে। তখন এই হতভাগ্য শ্রমিকদের পরিবারের আপনজনেরা হাঁ করে অপেক্ষায় আছে কখন আসবে সেই আপনজন, যার পাঠানো অর্থের ওপর সংসার চলে। এখন কিছু নাই পাই সে আসুক। এক সাথে থাকবো!!!
দেশের ও রাজ্যের সরকার? তারাই তো ঐ শ্রমিকদের পাশে এবং মৃত শ্রমিকদের পরিবারের পাশে থাকবে, তাইতো হওয়া উচিত, তা না হলে সরকার কাদের দায়িত্ব নেবে?
ক্রমশ


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।