দেশ

বামেদের দেখানো পথে,সিএএ প্রত‍্যাহারের দাবিতে এবার পাঞ্জাব বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ।।


চৈতালী নন্দী: চিন্তন নিউজ:১৯শে জানুয়ারি:–বামেদের দেখানো পথে,সিএএ প্রত‍্যাহারের দাবিতে এবার পাঞ্জাব বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ।।নয়া সাংবিধানিক আইনের বৈধতাকে চ‍্যালেঞ্জ করে মাত্র দুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে বাম শাসিত কেরল। এই প্রথম কোন রাজ‍্য সরকার এই আইনের বিরুদ্ধে কোর্টের দ্বারস্থ হোলো, যা নিশ্চিতভাবেই কংগ্রেস ও তৃনমলের মতো দলগুলোকে চাপে ফেলে দিয়েছে। কেরালার দেখানো পথে এবার পা রেখে পাঞ্জাব বিধানসভাও অবিলম্বে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন(সিএএ) প্রত‍্যাহারের দাবি তুলে বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করলো।

কেরালার মুখ‍্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের পর এবার দ্বিতীয় রাজ‍্য হিসেবে পাঞ্জাব বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করালো ক‍্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহের সরকার। শুক্রবার পাঞ্জাব বিধানসভায় মন্ত্রী ব্রক্ষ মহীন্দ্রা বিষয়টি প্রস্তাব আকারে আনেন। তিনি বলেন গত ডিসেম্বরে পাশ হওয়া নতুন আইন টি(সিএএ) পাঞ্জাব সহ সমগ্র দেশজুড়ে অস্থিরতা, ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।আইন টি নিঃসন্দেহে বৈষম‍্যমূলক ও বিভেদ সৃষ্টিকারী।তিনি আরও বলেন সিএএ আইনটি দেশের সংবিধানের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী। এতে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ‍্যমে দেশবাসীর মধ‍্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের জন‍্যেই আইনের সাম‍্য নিশ্চিত করা উচিত। মুক্ত ও সুষ্ঠু গনতন্ত্র যা সাম‍্যের কথা বলে, আইনটি তার পথে বাধা স্বরূপ।দেশের কিছু নাগরিকের ভাষাগত, ধর্মগত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় এই আইনে বিপন্ন হবে যা মানবিকতা বিরোধী, যা ১৯৩০ সালে জার্মানির হিটলারের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে এনআরসি এবং তার পরবর্তী ধাপ এনপিআর লাগু করা হচ্ছে দেশের এক শ্রেণীর নাগরিকদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে। তিনি জানিয়ে দেন, পাঞ্জাব সহ যে যে রাজ‍্য এই আইনটির বিরোধিতা করছে সেখানে এই আইনটি বলবৎ করার আগে কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে। তারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ২০২১ সালের আদমসুমারি পুরোনো মাপকাঠির ভিত্তিতেই হবে।ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে এই আইনটির বিরুদ্ধে ৬০ টি পিটিশন দাখিল হয়েছে।যদিও পশ্চিমবঙ্গের মতো বিরোধী শাসিত কয়েকটি রাজ‍্যসরকার মৌখিক বিরোধিতা করলেও এখনো এর বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।