জেলা

কমরেড শরদীশ রায় স্মরণে


তরুণ মালি: চিন্তন নিউজ:৫ই মে:–আজ মহান দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর জন্মদিন। তাঁর ছবির পাশে যে ছবিটি দেখতে পাচ্ছেন। তাঁর নাম কমরেড শরদীশ রায়।

আজকের দিনে ১৯৮৫ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। আজকে বীরভূম জেলায় সর্বত্র মর্যাদার সঙ্গে তার প্রতিকৃতি’তে মাল্যদান করে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হয়।

কিন্তু কে এই শরদীশ রায়?

বীরভূম কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথিকৃৎ। বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের ৪ বারের সাংসদ।

কমরেড শরদীশ রায় জন্মগ্ৰহন করেন সিউড়ি থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নগরী গ্ৰামে।

১৯৪২ সাল। বর্ধমানে পড়তে পড়তে ছাত্র ফেডারেশনের সদস্য হওয়া। তারপর বীরভূমে এসে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ অর্জন।

১৯৪৮। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি তেলেঙ্গানায় ‘ এ আজাদি ঝুটা হ্যায়’ স্লোগানে মুখরিত হয়।

তারপর রাষ্ট্র ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি’কে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করে দেয়।

সেই সময়ে শরদীশ রায় আত্মগোপন করে যেভাবে বীরভূমের কমিউনিস্ট আন্দোলন’কে মানুষের মধ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

১৯৬৪ সাল।
ভারতের কমিউনিস্টপার্টি( মার্কসবাদী)।

কমরেড সুরেণ ব্যানার্জী’র পর বীরভূম জেলার সম্পাদক হন। সাল ১৯৮৪।

সেই সময় সিউড়ি বারুই পাড়ায় অবস্হিত ধূসর মাটি জেলা অফিস থেকে জেলার কমিউনিস্ট আন্দোলন পরিচালিত হত।

১৯৭১ সাল থেকে পরপর চারবার বোলপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হন।

তারপর ২০০৪ সাল। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি( মার্কসবাদী) জেলা দপ্তর স্থান পরিবর্তন হয়। নতুন জেলা দপ্তরের নামকরণ হয় কমরেড সুরেণ ব্যানার্জী ও কমরেড শরদীশ রায় ট্রাস্টি ভবন।

আমাদের জেলার ধূসর মাটি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কমরেড শরদীশ রায়। যেভাবে পত্রিকাটি খেটে খাওয়া মানুষের কথা তুলে ধরা হ’ত। জেলার বামপন্থী আন্দোলনকে প্রত্যন্ত গ্ৰামে পৌঁছে দিত। এর পিছনে শরদীশ রায়-এর অবদান কম নয়।

দুর্ভাগ্যজনক। পত্রিকাটি ২০১১ সালের পর বন্ধ হয়ে যায়।

আজ ৫’ই মে। তাঁর মৃত্যুর দিন। আমাদের শপথের দিন। ধূসর মাটি পত্রিকাটি পুনরায় চালু করে তাঁর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।