দেশ

নাগরিক পঞ্জী নয়, তৈরী হোক বেকার পঞ্জী


চৈতালী নন্দী, চিন্তন নিউজ, ১৮ জানুয়ারি: সৎসাহস থাকলে নরেন্দ্র মোদি বেকার পঞ্জী তৈরি করুন এবং দেশের কর্মসংস্থানের ছবি স্পষ্ট করে দিন দেশবাসীর সামনে। এনআরসি র বিরুদ্ধে দেশ জোড়া বিক্ষোভের আগুন ঠিক কতোটা জোড়ালো হতে পারে তা হয়তো মোদী সরকারের সম‍্যক ধারনা ছিলনা। এখন এই এনআরসি ইস‍্যুতে মোদী সরকারের অবস্থা সাপের ছুঁচো গেলার মত।

কিন্তু একথাও ঠিক যে এনআরসির ঘোষণা বহু মানুষের দিন রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। সমাজের সব স্তরের মানুষের, বিশেষতঃ ছাত্রদলের মিলিত প্রতিবাদের মধ‍্যেই উঠে আসছে আর একটা প্রশ্ন, যে সরকার দেশের জনগননার সুরক্ষার জন‍্যে নাগরিক পঞ্জী তৈরীতে এতো আগ্রহী, সেই সরকার সব কর্মহীন মানুষের কাজ জোগানোর তালিকা তৈরিতে অনাগ্রহী কেন? যেখানে সরকারী সমীক্ষাই জানাচ্ছে দেশের বেকারত্ব চার দশকে সর্বাধিক!

আমজনতার তথ‍্য সমৃদ্ধ যে সব প্রমাণ সরকারের ঘরে রয়েছে, যেমন রেশনকার্ড, আধার কার্ড, প‍্যান কার্ড বা ভোটার কার্ড এর কোনোটা থেকেই দেশের কাজের বাজারের বা বেকারত্বের ছবিটা স্পষ্ট হয়না। সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব মনে করেন, দেশের জনগননার আগে  ঘরে ঘরে জিজ্ঞাসা করা হোক সবার হাতে কাজ আছে কিনা বা তারা সেই কাজে সন্তুষ্ট কিনা। এখন যে কাজ করছেন তা তার জীবনধারণের পক্ষে যথেষ্ট কিনা। তার ভিত্তিতেই তৈরি হোক তালিকা। এনআরসি নয় তৈরী হোক এনআরইউ(ন‍্যাশনাল রেজিস্টার অব আনএমপ্লয়মেন্ট বা জাতীয় বেকারত্ব পঞ্জী)।

জেঅএনইউ এর অধ‍্যাপক জয়তী ঘোষের কথায়, যারা কর্মহীন বা যা হোক একটা কিছু করছেন, বা কাজ খুঁজছেন তারা সকলেই আদপে কর্মহীন। এদের চিহ্নিত করে তালিকাভুক্ত করা সবার আগে দরকার। জেএনইউ থেকে জামিয়া মিলিয়া সব বড় বড় শিক্ষায়তনেই বিভিন্ন সমাবেশে উঠে এসেছে উপযুক্ত কাজের অভাব ও আশঙ্কার কথা। দিল্লি স্কুল অব ইকনমিক্সের অর্থনীতির অধ‍্যাপক দিব‍্যেন্দু মাইতির কথায়, নোটবন্দী থেকে জিএসটির সব পদক্ষেপের কারনই অসংগঠিত  ক্ষেত্রের কর্মকান্ডের কথা বলা হলেও কাজের বাজারের ক্ষেত্রে সেই যুক্তি কেন  খাটবেনা?

কর্মহীনদের তালিকা সঠিক ভাবে তৈরি করতে পারলে তবেই বেকারদের সুরক্ষায় বিভিন্ন প্রকল্প বা বেকারভাতা চালু করা সম্ভব। এর জন‍্যে চাই সঠিক পরিকল্পনা ও আর্থিক হিসেব নিকেশ, যা বিভিন্ন উন্নত দুনিয়ার দেশগুলো করে থাকে।
জাতীয় নমুনা সমীক্ষাতেও উঠে এসেছে কর্মসংস্থানের এক বিবর্ণ ছবি। নোটবন্দির ঠিক পরে ২০১৭সালে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ ( ৬.১%)। গ্রামের প্রকৃত আয় বাড়ছেনা, কম বেতন ও কম শিক্ষাগত যোগ‍্যতার কাজের ক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষিতদের কম্প্রোমাইজ, কাজের অভাবে বিদেশে পাড়ি, যোগ‍্যতার তুলনায় কম দক্ষতার কাজ করার বাধ‍্যবাধকতাও উল্লেখযোগ্য।

সরকার এনআরসির  যুক্তিহীন জেদ ছেড়ে বেকারত্বের তালিকা তৈরীতে নজর দিলে তা বেকার সমস্যা দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে সমাজকর্মী যোগেন্দ্র দাবী করেন। ঐ তালিকার মধ‍্যেই থাকবে বেকারদের যোগ্যতা, বয়স, দক্ষতা ও বিভিন্ন ধরণের তথ‍্য। দেশে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ থাকলেও তা শুধু একটা নেমপ্লেট  মাত্র, যাকে সদর্থক ও কার্যকরী করে তুলবে এই বেকারত্ব তালিকা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।