কলমের খোঁচা

শ্রদ্ধায় স্মরণে বিংশ শতাব্দীর রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ


মিতা দত্ত: নিজস্ব প্রতিবেদন: চিন্তন নিউজ:১৭ই ফেব্রুয়ারি:–. “চারিদিকে এখন সকাল—
রোদের নরম রং শিশুর গালের মতো লাল;
মাঠের ঘাসের প’রে শৈশবের ঘ্রাণ—
পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের এসেছে আহ্বান”
——- জীবনানন্দ দাশ।
জীবনানন্দ দাশ – আবহমানের কবি। তাঁর লেখায় ইতিহাস , সাহিত্য, সংস্কৃতি, প্রকৃতি, সময়ের সংকট, দাবী – সবটা ধরা পড়েছে।তিনিই বলেছেন , মৃতেরা এ পৃথিবীতে ফেরে না কখনও। আবার তিনিই বলেছেন , আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায় ।কতরূপে সেই আসা। বিশ্বপ্রকৃতির জয়যাত্রা বারংবার ধ্বনিত হয়েছে তাঁর কলমের ছোঁয়ায়।
জীবনানন্দ দাশের অবিভক্ত বাংলায় বরিশাল জেলায় জন্ম।কবির কোল আলো করে আর এক কবির আর্বিভাব। আমাদের সকলের মণিকোঠায় যে লাইনগুলো বিনিসুতোয় গাঁথা আছে, ” আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?” – কুসুমকুমারী দেবী তাঁর মাতা। জীবনানন্দ দাশের কবি হয়ে ওঠার পেছনে যে মায়ের ভূমিকা আছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর পিতা ছোটোবেলায় বাচ্চাকে স্কুলে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। তাই শৈশব শিক্ষা তাঁর মায়ের কোলে আদরে আবদারে শাসনে অতিবাহিত হয়। তাই কবি হবার বীজ সেই সময়ে প্রোথিত হয়। বড়ো হয়ে তা মহীরূহে পরিণত হয়।

স্কুল জীবন শেষে তিনি ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হলেও বিভিন্ন কারণে পেশাগত তৃপ্তি তিনি পাননি।কবিতার জগতে তাঁর প্রকাশ কিশোর বয়স থেকে। কবিতা ছাড়া সাহিত্য জগতের অন্যান্য ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা উল্লেখের দাবী রাখে।

এই ব্যক্তিত্ব নিয়ে কতটুকুইবা জানি। যে সামান্যটুকু জানি তাই যেন ভীড় করে উঁকি দিচ্ছে। মনে পড়ছে সেই দোয়েল পাখি। প্রকৃতির অপরূপ মহিমা ফুটিয়ে তুলেছেন। ইতিহাস , পুরাণে কি অনায়াস বিচরণ।বেহুলা যেন গ্রামবাংলার লড়াকু মেয়ের প্রতিনিধি হয়ে উঠেছে।বেহুলার অবরুদ্ধ কান্নায় প্রকৃতিও সাড়া দিচ্ছে। কবি পাঠককে নিয়ে যাচ্ছেন এক ভিন্ন জগতে।

আবহমান কাল উঠে এসেছে তাঁর লেখায় বারংবার । লেখার মাধ্যমে আমাদের শিকড়ের স্বাদ যেমন দিয়েছে, তেমন তৎকালীন সময়কে ধরেছেন।” শুনিলাম তাকে নিয়ে গেছে লাশকাটা ঘরে ” । তার সাথেই বলেছেন সুন্দর পৃথিবীতে তার হলো মরিবার সাধ। সময়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে এক অসামান্য সৃ‌ষ্টি। ছাড়িয়ে দিয়েছে মাকে কাজ থেকে চিরতরে। দুটো দয়া মা পেয়েছে ঠিকই কিন্তু তা দিয়ে পেট ভরে না। প্রত্যেকটি লেখা আজও প্রাসঙ্গিক।

তাঁর সৃ‌ষ্টি রূপসী বাংলা থেকে শুরু করে সবটা আমাদের প্রাণের সম্পদ। বহুচর্চিত বনলতা সেন – যেন অতৃপ্তি ঠিকানা। আমাদের সকলের হৃদমাঝারে বনলতা সেনের অবস্থান। আমরা ভালোবাসতে চাই – এই বার্তা দিয়ে গেছেন।

এই সমসমস্যাসঙ্কুল সময়ে আমরা জীবনানন্দে ডুব দিলে সুস্থ সকাল আনার জন্য রসদ পাবো। এই কাজই হবে জন্মদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।