জেলা

হুগলি বার্তাঃ–


চিন্তন নিউজঃ- চৈতালি নন্দীঃ–শহর চন্দননগর এবং সংলগ্ন সকল এলাকার অধিবাসীবৃন্দ গোন্দলপাড়া জুটমিল কর্তৃপক্ষের লাগাতার বেআইনি কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত আছেন । তাঁরা এও জানেন যে গত নয় মাস যাবৎ মিলটি বন্ধ পড়ে আছে । ইতিপূর্বেও বহুবার এই মিল বন্ধ করা হয়েছে । সেই সকল সময়েও বহু শ্রমিক এবং অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক অনন্যোপায় হয়ে আত্মহত্যা করেছেন, অনাহার এবং বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন আরও অনেকে । শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক গৌতম গুহ রায় এবং সবুজের অভিযান ক্লাবের সম্পাদক শিবনাথ লাঙ্গল জানান এই দুই সংগঠন ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নানাভাবে এই কর্মচ্যুত শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে । এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নি । গত ১১ই সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে তাঁরা সাধ্যমতো কিছু অসহায় শ্রমিকদের হাতে যথাসাধ্য খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন । বারবার রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক দপ্তরে গোন্দলপাড়া জুটমিল খোলা এবং সকল কর্মহীন শ্রমিকদের FAWLAI Act অনুযায়ী বিধিসম্মত প্রাপ্য ও সকল অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের বকেয়া পাওনাগন্ডা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে দাবি জানানো হয়েছে । ত্রিপক্ষীয় চুক্তিও সাক্ষরিত হয়েছে । কিন্তু মিল কর্তৃপক্ষ কোন কথাই শোনেননি । আইনি নিয়মনীতি পালন করার কোন উদ্যোগই নেননি ।

আজ ১৬ ই সেপ্টেম্বর ২০২২ সকালে চন্দননগর বড়বাজারে অবস্থিত ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের মর্মর মূর্তির সম্মুখে জড়ো হয়ে শ্রমিকরা এবং নাগরিক সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মিল কর্তৃপক্ষের এই অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে গণসাক্ষর অভিযানে নেমেছিলেন । শহরের বহু চিকিৎসক, শিক্ষক, বাস্তুকার সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে এই সাক্ষর সংগ্রহ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন । সম্প্রতি যে শ্রমিক আত্মহত্যা করেছেন তাঁর হতভাগ্য মায়ের হাতে এই সভাস্থল থেকে কিছু খাদ্যসামগ্রী এবং অর্থ তুলে দেওয়া হয় ।

ইতিমধ্যে গোন্দলপাড়া জুটমিল কর্তৃপক্ষের বেআইনি কার্যকলাপের আরো একটি ঘৃণ্য নিদর্শন শ্রমিকদের নজরে এসেছে । আক্রমণ করা হয়েছে শ্রমিক কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা মাননীয় বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়কে । মিল চত্বরে নোটিশ সাঁটিয়ে এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে যে বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়ের জন্যই নাকি তাঁরা কারখানাটি খুলতে পারছেন না ! অভিযোগ করা হয়েছে যে শ্রী মুখোপাধ্যায় নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে কাজ করছেন । প্রকৃত সত্য হল বিশ্বজিৎ বাবু এবং তাঁর আইন সহায়তা কেন্দ্র বঞ্চিত এবং সর্বার্থে অসহায় শ্রমিকদের বিভিন্নরকমের বিশেষ করে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আইনি সাহায্য দিয়ে থাকেন । এবং এর ফলে মাঝে মধ্যেই ভয়ংকর বিপদ এবং বিপাকের সম্মুখীন হতে হয় মিল মালিকদের । এই কারণেই বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়ের উপর তাঁদের গাত্রদাহ এবং এই মিথ্যা অভিযোগ ।

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, অসহায় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর এই কাজ বিশ্বজিৎ বাবু কেবলমাত্র গোন্দলপাড়া জুটমিলের কর্মচ্যুত শ্রমিকদের ক্ষেত্রেই করেননা, দক্ষিণবঙ্গ সহ এই রাজ্যের যে কোন বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের জন্যও তিনি এবং তাঁর সংগঠন একইরকমভাবে সদা সক্রিয় থাকেন । উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা বাগানের অসহায় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাঁরই উদ্যোগে এখান থেকে ডাঃ অলোক রায়চৌধুরী এবং ডাঃ শিপ্রা রায়চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি সাহায্যকারী দল পৌঁছে গেছিলো সুদূর উত্তরবঙ্গে । আসলে এই মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে জুটমিল কর্তৃপক্ষ কেবলমাত্র তাঁদের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতিই আড়াল করতে চাইছেন না, প্রকারান্তরে ঘোষণা করে দিচ্ছেন যে তাঁরা এই মিলটি আর খুলবেন না ।

সভায় বক্তব্য রাখেন রতন বন্দ্যোপাধ্যায়, হীরালাল সিংহ, ডঃ কুনাল সেন, জগদীশ শর্মা, রতনলাল রায়, স্বস্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অমৃতেন্দু মোহান্তি, রাজেশ জয়সোয়ারা এবং বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ বিশিষ্ট জনেরা । সভাস্থল থেকে একটি প্রতিনিধি দল চন্দননগর মহকুমার মাননীয় মহকুমা শাসকের কাছে এই সমগ্র বিষয়টি নিয়ে একটি ডেপুটেশনও দেন ।

গোন্দলপাড়া জুটমিল কর্তৃপক্ষের প্রত্যেকটি বেআইনি কাজের তীব্র প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে কারখানা খোলা ও সকল অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকের প্রাপ্য অবসরকালীন বকেয়াও মিটিয়ে দেওয়ার দাবি সম্বলিত এই পত্র গণসাক্ষরিত অবস্থায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে । সভামঞ্চ থেকে এই দাবিও উঠে আসে যেন অবিলম্বে বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোলা যাবতীয় উদ্দেশ্যমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় ।

সৌরেন বসুঃ-আজ পান্ডুয়া থানার বেলুন-ধামাসীন গ্ৰাম পঞ্চায়েত অফিসে কৃষক সমিতি,ক্ষেতমজুর ইউনিয়ন অন্যান্য বামগনসংগঠন সমূহের উদ্যোগে ১০০দিনের কাজ চালু করা ও বকেয়া মজুরীর দাবী,মাটির ঘর যাদের আছে তাদের পাকা ঘরের দাবী,৬০উর্দ্ধ সকলের জন্য বার্ধ্যক্য ভাতার দাবী,রাস্তার আলো গুলি সচল রাখার দাবী সহ বিভিন্ন দাবী নিয়ে ডেপুটেশন সংগঠিত হয়।

দেবারতি বাসুলীঃ-নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির হুগলী জেলা কমিটির পক্ষ থেকে আজ নির্মল বিদ্যালয় পাক্ষিক অভিযান ২০২২ প্রসঙ্গে হুগলী জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের ডিস্ট্রিক্ট এডুকেশন অফিসার কে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কমল মল্লিক, জেলা সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হবিবুর রহমান, জেলা সহ-সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা জয়দেব ঘোষ, জেলা সহ-সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য সন্দীপ রায়, জেলা সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য গোপাল দাস, জেলা কমিটির নেত্রী দেবারতি বাসুলি, সমীর রায়, তপন মুখার্জি, দুলাল মিস্ত্রি সহ নেতৃত্ব।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।