দেশ

অখিল গগৈ এর মুক্তিসহ ৮ দফা দাবিতে গুয়াহাটি সেন্ট্রাল জেলে বন্দীদের অনশন ::—-


রত্না দাস: চিন্তন নিউজ:২রা জুলাই:- গুয়াহাটি সেন্ট্রাল জেলের বন্দিরা গত সপ্তাহে কৃষকনেতা অখিল গগৈ এর মুক্তির দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালন করেন। প্রায় ১২০০ কর্মী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

বন্দীদের অভিযোগ জেলের যেসব নতুন বন্দীদের আনা হচ্ছে তাদের কোনো রকম কোভিড-১৯এর টেস্ট না করেই তাদের পুরোনো বন্দীদের সাথে একই ঘরে রাখা হচ্ছে।এর ফলে প্রায় বারোশো বন্দির জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে জেল কর্তৃপক্ষ।

এই সময় যে সমস্ত নতুন বন্দিদের আনা হচ্ছে তাদের আলাদাভাবে কোয়ারান্টাইন করে রাখার আবেদন জানিয়ে জেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন বন্দিরা। আর গুয়াহাটি জেল থেকে কৃষক নেতা অখিল গগৈ এর মুক্তিসহ আটটি আবেদন পূরণের দাবি ছিল বন্দীদের। এই নিয়ে ২৪ শে জুন জেল কর্তৃপক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয় কিন্তু তাতে কোন সমাধানসূত্র মেলেনি।

২৫শে জুন সকাল ৯-‘টা থেকে অনশনে বসেন বন্দিরা। ২৬শে জুনও চলে এই অনশন। পরিস্থিতির অবনতি হলে জেলের শীর্ষস্থানীয় কারা অফিসার ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বন্দীদের সাথে বৈঠক করেন। বন্দীদের উন্নত স্বাস্থ্যপরিসেবা, পানীয় জল সরবরাহ,আইনজীবী ও আত্মীয়দের সাথে দেখা করার দাবি সহ একাধিক দাবিতে করা এই অনশনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার হওয়া কৃষক নেতা অখিল গগৈ।

বন্দীদের এই দাবিগুলো রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলের ইন্সপেক্টর জেনারেল দশরথ দাস। তিনি আরো জানান এখন থেকে কারাগার চত্বরে পৃথক ওয়ার্ডে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারণটাইনে রাখা হবে নতুন বন্দীদের। বন্দীদের এ কথা জানানোর পর তারা তাদের অনশন প্রত্যাহার করে নেন।

ইতিমধ্যেই রাজ্যসভার সাংসদ অজিত ভুঁইয়া সহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি অখিল গগৈর মুক্তি চেয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এর সাথে দেখা করেছেন। প্রসঙ্গত, গত ২৩শে এপ্রিল থেকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে আরো কয়েকজন কৃষক নেতার সাথে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অখিল গগৈকে। ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ পিপলস মুভমেন্টের পক্ষ থেকেও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে অখিল গগৈকে বন্দি করার সিদ্ধান্তে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।