কলমের খোঁচা

ধারাবাহিক সংগ্ৰামই মানব সভ্যতার ইতিহাস রচনা করে।


কাকলি চ্যাটার্জি:চিন্তন নিউজ:১২ই এপ্রিল:- সমগ্ৰ মানবসভ্যতা আজ এক ভয়ংকর ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে উপস্থিত। করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত করার জন্য আবিষ্কৃত হয়নি কোনো প্রতিষেধক। এই মারণব্যাধির মোকাবিলা করার জন্য লকডাউনের পথে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না ঠিকই কিন্তু শ্রমজীবী মানুষ বিশেষ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক যাদের এক বিরাট অংশই পরিযায়ী তাঁদের কাছে খাদ্যসামগ্রী ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি পৌঁছে দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যা সঠিক নয়।লকডাউনের উদ্দেশ্যকে সফল করার জ‌ন্য সিপিআইএম পলিটব্যুরো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে লকডাউন ঘোষণার অনেক আগেই ১১ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—(১) যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যেক জনধন ও বি পি এল প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি গ্ৰাহকের একাউন্টে ৫০০০ টাকাকেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের তরফে ২০০০ টাকা দিতে হবে।
(২) এফ সি আই এর গুদামে মজুত সাড়ে সাত কোটি টন খাদ্যভান্ডার উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক সাধারণের জন্য যাতে প্রত্যেক দরিদ্র পরিবারকে মাসে ৩৫ কেজি করে খাদ্যদ্রব্য রেশনের মাধ্যমে দেওয়া যায়। রেশন কার্ড না থাকলেও প্রত্যেককে সমপরিমাণ খাদ্যশস্য দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার ১লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিগ্ৰস্তদের সরাসরি দেওয়া হবে যা বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন।
(৩) জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় আট ঘণ্টার পরিবর্তে সর্বোচ্চ বারো ঘণ্টা কাজ করানো যেতে পারে কিন্তু তার জন্য উপযুক্ত এক্সট্রা পারিশ্রমিক দিতে হবে। যদিও শ্রম আইন সংশোধন করে কাজের সীমা দৈনন্দিন বারো ঘণ্টা করতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং সেটা কোনো ভাতা না বাড়িয়েই। এই আইন এখনও পাশ হয়নি, সর্বত্র বিরোধিতা চলছে।
(৪) স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বেসরকারিকরণ নয়— রাষ্ট্রীয় বরাদ্দে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। আশাকর্মী, আইসিডিএস সহ বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়া ও বাড়ি পৌঁছনোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

করোনার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংগ্ৰামে জনগণ গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিবাচক ভূমিকা গ্ৰহণ করেছেন। চীন, কিউবা, ভিয়েতনাম দেখিয়ে দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় যেভাবে এই মারণব্যাধির সঙ্গে যুদ্ধ করে তাকে প্রতিহত করা যায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। পুঁজির স্বার্থে সরকারি নীতি তুষ্ট করতে সদা তৎপর বেসরকারী স্বাস্থ্যপরিষেবাকে। নিজের অক্ষমতা ঢাকতে সে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিরোধিতা করে অবৈজ্ঞানিক কার্যকলাপকে মান্যতা দিতে বদ্ধপরিকর। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে ধারাবাহিক সংগ্ৰামই মানব সভ্যতার ইতিহাস রচনা করে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।