দেশ

কেন্দ্রীয় কোষাগারের ঘাটতি মেটাতে বিপুল পরিমাণে সোনা বেচছে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক।।


চৈতালী নন্দী:চিন্তন নিউজ:২৭শে অক্টোবর:–কেন্দ্রীয় কোষাগারের ঘাটতি মেটাতে বিপুল পরিমাণে সোনা বেচছে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক।। কেন্দ্রের অদূরদর্শী আর্থিক নীতির ফলে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার তলানিতে।কোষগারে মজুত সঞ্চয় বাড়ন্ত।আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আর্থিক দিক থেকে ক্রমেই নীচের দিকে নামছে ভারত।ডলারের তুলনায় টাকার দাম ক্রমাগত নিম্নমুখী।এই অবস্থায় রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কের জরুরী সঞ্চয়ে হাত দিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

প্রথমবারের মোদী সরকারের সময়েই রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কের জরুরী মজুতে হাত দেওয়ার অভিসন্ধি ছিল সরকারের।কিন্তু সেসময় রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কের গভর্নর উর্জিত প‍্যাটেল ও ডেপুটি গভর্নর বিরল আচার্যের আপত্তিতে মোদি সরকার তা কার্যকর করতে পারেনি। ফলে সরকারের চাপেই তারা পদত‍্যাগে বাধ‍্য হন। এরপর মোদির বশংবদ বিশ্বস্ত আমলা শক্তপদ দাসকে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল মোদি সরকারের যে কোন সিদ্ধান্তই যিনি সমর্থন করবেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথেই  তিনি রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কের মজুত অর্থ কেন্দ্রীয় কোষাগারে পাঠানোর ব‍্যবস্থা করতে বিমল জালানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন। গত আগস্টে এই কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ে।

এরপরই মোদি সরকারের প্রস্তাব মতো ৫%–৬% রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কে জমা রেখে বাকী সমস্ত মজুদ অর্থ কেন্দ্রীয় তহবিলে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কে মজুত জমার ১.৭৬ লক্ষ কোটি টাকা পর্যায়ক্রমে চলে যাবে কেন্দ্রীয় তহবিলে।
কিন্তু কেন্দ্রীয় কোষাগারের দূরবস্থা এতোই আশঙ্কাজনক যে শুধুমাত্র ঐ মজুদ টাকায় তা পূরন করা প্রায় অসম্ভব। ফলে ঘাটতি পূরন ক‍রতে কেন্দ্রের নির্দেশে এবারে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্কের সোনা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক। একমাত্র বিগত প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের আমলেই আন্তর্জাতিক মন্দাসামাল দিতে ও বানিজ‍্যে বিদেশি মূদ্রার ঘাটতি মেটাতে সোনা বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ছিল। এভাবে কোষাগারের ঘাটতি মেটাতে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ককে যথেচ্ছ ব‍্যাবহার করার ঘটনা নজিরবিহীন।বর্তমানে মোদী সরকারের নির্দেশে দ্রুত সোনা বিক্রি করে সেই অর্থ কেন্দ্রের তহবিলে জমা করতে বলা হয়েছে।প্রসঙ্গত বিদেশি মূদ্রা ডলারের মূল‍্যের হারে এইব‍্যাঙ্কে সোনা মজুত রাখে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক।জরুরী ভিত্তিতে দেশের বিপদেই ঐ মজুতে হাত দেবার কথা।বর্তমান আর্থিক বছরে ৫১০ কোটি ডলারের সোনা কেনে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক, আগস্টের শেষে মজুদ সোনার পরিমাণ ৫৫৭.৮ টন।

বিশেষজ্ঞদের মতে পূর্বে মাসে মাত্র একবার মজুত সোনার মূল‍্যায়ন করা হোতো। কিন্তু এখন প্রতি সপ্তাহে ই এই মূল‍্যায়ন করা হচ্ছে।দ্রুত সোনা বিক্রির জন‍্যেই তা ক‍রা হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন। এর সঙ্গেই গত নভেম্বর থেকে হঠাৎ করে রিজার্ভ ব‍্যাঙ্ক খোলা বাজার থেকে সোনা কিনছে।
বর্তমানে মোদী সরকারের নিদারুণ আর্থিক দূর্দশার কারনে অর্থসংগ্রহের উদ্দেশ্যে একের পর এক বেচে দেওয়া হচ্ছে লাভজনক ও সুনামের সঙ্গে ব‍্যাবসা করা রাষ্ট্রায়ত্তসংস্থা গুলিকে।মন্দার অজুহাতে বার বার মকুব করা হচ্ছে বড় মূলধনের কর্পোরেট সংস্থা গুলির ঋন।ফলে সরকারের কোষাগারে ঘাটতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে।মরছে কৃষক ,মরছে শ্রমিক ,মরছে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।সরকার নির্বিকার….. ফুলে ফেঁপে উঠছে কর্পোরেট সংস্থা গুলি….বিপুল পরিমাণ ঋন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে মোদি ঘনিষ্ঠ ব‍্যাবসায়ীরা।দেউলিয়া হবার পথে পা বাড়াচ্ছে দেশ


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।