দেশ রাজনৈতিক

মনোনয়ন বিতর্ক


রঘুনাথ ভট্টাচার্য্য:চিন্তন নিউজ:১৮ই মার্চ:- ইদানিং বিচারব‍্যবস্থার ভূমিকা ও সাংবিধানিক কর্তব্য সম্পর্কে নানা মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশিত হচ্ছে।তাঁর মধ‍্যে বিচারব‍্যবস্থার সক্রিয়তা ও বিধান তথা শাসনব‍্যবস্থার সম্পর্ক বিষয়ে সমণ্বিত তীব্রতর সমালোচনাও বিরল নয়। এই প্রেক্ষিতে একটি সংবাদ অবশ‍্যই সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

খবরে প্রকাশ , শীর্ষ আদালতের অধুনা প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি শ্রীযুক্ত রঞ্জন গগৈ রাজ‍্যসভার মনোনীত – সদস‍্য হিসাবে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ সোমবারেই তার নির্দেশনামা অনুমোদন করেন বলে জানা যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সংবিধানের ৮০ নম্বর ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি রাজ‍্যসভায় বারোজন সদস‍্যকে পাঠাতে পারেন তাঁর মনোনীত সদস্য হিসাবে।রঞ্জন গগৈ-এর মনোনয়নকে ঘিরে শুরু হয়েছে নানা তর্ক-বিতর্ক, যার কিছু কিছু বিভিন্ন সংবাদমাধ‍্যমে উঠে আসছে।

শ্রীযুক্ত গগৈ – এর সভাপতিত্বে শীর্ষ-আদালতের কিছু সিদ্ধান্ত জনমানসে বিরূপতা সৃষ্টি করেছিল, যার রেশ এখনও বর্তমান। এই গণপ্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতটিও যথেষ্ট অনুধাবন যোগ‍্য বলে উল্লিখিত হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। প্রকাশ থাকে যে, প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেবার অব‍্যবহিত পূর্বেই তিনি অন‍্য আরও তিনজন প্রবীন বিচারপতির সঙ্গে সহমতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তীব্র অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রে বিজেপি জোট সরকারের বিরুদ্ধে বিচার ব‍্যবস্থায় শাসকদের হস্তক্ষেপ বিষয়ে। এই পদক্ষেপ সেসময়ে স্বাধীনতা প্রিয় মানুষের অকুন্ঠ প্রশংসা ও আস্থা অর্জন করে।এরপর তিনি যখন প্রধান বিচারপতি হন তখনও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ছিল যে এবার তাঁদের নাগরিকত্বের সম্মান প্রতিষ্ঠিত হতে বিচারব‍্যবস্থার পূর্ণ সহ-মর্মীতা পাবেন। কিন্তু পরপর কিছু ঘটনায় তাঁদের সে স্বপ্নভঙ্গ হয়।

প্রথমতঃ বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলার গতিপ্রকৃতি তথা ঐ জমি বিষয়ক সিদ্ধান্ত জনমনে হতাশা সৃষ্টি করে। ঐ সিদ্ধান্ত নেয় যে নয়-সদস‍্যের ডিভিসন বেঞ্চ তার প্রধান ছিলেন তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি গগৈ। তখন সেই
বিচার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছতার অভাবদুষ্ট ও একদেশদর্শী বলে অভিহিত করে বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং দায়িত্বশীল ব‍্যক্তিত্ব ও সংস্থা, যার ছায়া পড়েছে আম সাধারণ‍্যে। অনেকের​ মতে, প্রথমে মসজিদ ধ্বংসে ক্ষোভ জানিয়ে কার্যকরী ক্ষেত্রে সমস্ত জমি রামমন্দির নির্মাণে বরাদ্দের নির্দেশ দেওয়ার মধ‍্যে অনেক আইনজ্ঞই যুক্তির অভাব দেখেছেন।

এছাড়াও, জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ অধিকার সংক্রান্ত ৩৭০ ধারা রদের ব‍্যাপারে শীর্ষ আদালতের ভূমিকায় নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে সরব হন অভিজ্ঞ-মহল। এবিষয়ে যে অভিযোগগুলি দায়ের হয় সেগুলিও অনেকের মতেই যথেষ্ট ছিল না। অযোধ‍্যা মামলার নিষ্পত্তিও বিতর্ক তোলে ।

অভিজ্ঞ মহলের​ মতে ধর্মনিরপেক্ষ দেশে আইনের শাসন লঙ্ঘনের দোষে দুষ্ট ঐবিচার প্রক্রিয়া ও রায়ের স্বপক্ষের যুক্তিজাল।বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য প্রকাশ পাচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা যশোবন্ত সিনহার মতে রঞ্জন গগৈ যদি এই নিয়োগ গ্রহণ করেন তবে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে মানুষের ধারণা ভীষণ ক্ষুণ্ণ হবে।

আরও প্রকাশিত মতের মধ‍্যে উল্লেখযোগ্য যে , এটা হবে রামমন্দির রায়ের প্রধান বিচারপতিকে পুরস্কৃত করার ইঙ্গিত।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।