দেশ

কাজের অভাব ও ঋণের বোঝা ডেকে আনছে মৃত্যু


সূপর্ণা রায়:চিন্তন নিউজ:১৯শে জানুয়ারি:–কাজের অভাব ডেকে আনে মৃত্যু__________প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয় দফায় সরকারে।।১লা ফেব্রুয়ারি পাশ হতে চলেছে ২০২০ সালের অর্থবর্ষের বাজেট। মোদী দুদফায় সরকার চালোনার ক্ষেত্রে যেমন কোন সমস্যার সমাধান হয়নি তেমনি সমাধান হয়নি বেকার সমস্যার।। এই দেশে গড়ে প্রতিদিন ৩৫ জন আত্মহত্যা করেন যার বেশিরভাগই বেকার যুবক ও ছোটখাটো কারবারিরা।।

২০১৯ সালের মোদী জামানায় আত্মঘাতী মানুষের বড় অংশ হলেন কাজ না পাওয়া বেকার এবং ঋনে ডুবে যাওয়া ছোট উদ্যোগীরা।। এই সংকট কালে বেকারি সমস্যা নিয়ে কেন্দ্র ও পশ্চিমবাংলা সরকার উভয়েই হাত ধুয়ে ফেলেছে।।। সম্প্রতি ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর রিপোর্ট এ বেকার ভারতের এক হতাশার চিত্র ধরা পড়েছে যা সাধারণ মানুষকে আরও হতাশার দিকে টেনে নিয়ে চলছে।।

এমতাবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েই বেকার সমস্যার সমাধান এর জন্য হাস্যকর সমাধান বাতলেছেন।। বেকারত্ব দূর করতে কেন্দ্র সরকার পকোড়া ভাজার আর রাজ্যসরকার চপ ভাজার নিদান দিয়েছে।। দুই সরকারই পকোড়া ও চপ ভাজাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে কিন্তু এই করেও জীবন ধারণের মতো আয় হচ্ছে না।।

বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু ক্ষেত্র বাদ দিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তীব্র আর্থিক সঙ্কটে পড়ে মানুষ আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নিচ্ছে।। বেকারত্ব বাড়ছে আর তার সাথে বাড়ছে আত্মহত্যার সংখ্যা।। বেকার আর ক্ষুদ্র উদ্যেগীদের মতো কৃষকদেরও মধ্যে আত্মঘাতী হওয়ার প্রবনতা বাড়ছে।।দেশে কৃষি সঙ্কট চরমে উঠেছে।। ফসলের দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা ফলে তাদের ঋণ নিতে হচ্ছে আর সেই ঋণের বোঝা তাদের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে ।। ঋণ শোধ করতে না পেরে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।।কেন্দ্রে মোদী সরকার আসার পর থেকে বেকার সমস্যা সমাধানের কোনো রকম উদ্যোগ নেয় নি।।আর এই বেকার সমস্যা এত বড় আকারের হয়েছে দেখে নির্বাচনের প্রচারে ২কোটি বেকার এর চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করতে ভোলেননি।।। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর দেখা গেছে সব প্রতিশ্রুতিই সার কাজেরকাজ কিছুই হয়নি।। কৃষক ফসলের দাম পাচ্ছেন না আর এটা একবছরের ঘটনা নয় _বছরের পর বছর এইভাবে চলছে।। ফলে মানুষের চাহিদা থাকা স্বত্বেও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছে না আর এর ফলে শিল্পে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।। এইজন্য মালিক পক্ষ উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে আর মানুষও কাজ হারাচ্ছে।। ছাঁটাই চলছে প্রতিনিয়ত।।

শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা প্রাকবাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে মানুষের দূর্দশার কথা জানালেও তিনি আমল দেননি উল্টে কর্পোরেট কর ছাড়,ঋন মকুব, সুদের হার কমানোর তোফা বিলিয়ে গেছেন।।এতে শিল্প হয়নি আর মানুষ প্রয়োজন মতো কাজ ও পায়নি।। অর্থমন্ত্রী সঙ্কট হচ্ছে মানেননি কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির জানিয়েছেন যে দেশে চাহিদা ও যোগান এর সমস্যা জন্য শিল্পে সঙ্কট তৈরি হয়েছে।। বিশ্ব বাজারে মন্দা চলছে তাই রপ্তানি বাড়ছে না।। তাই জন্য আভ্যন্তরীণ বাজার বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।।

গড়কড়ি জানান যে দেশে মুলধন, কাঁচামাল, খনিজ সম্পদ ও সবচেয়ে বড় দক্ষশ্রমিিকের কোন অভাব নেই। পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন অভাব রয়েছে নেতৃত্বের।। সঠিক নেতৃত্ব দিলে লক্ষ্য পূরণ অসম্ভব নয়।। প্রশ্ন উঠেছে তবে কি মোদী নেতৃত্ব দিতে পারছেন না???? এবিষয়ে তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেননি।।।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।