দেশ

ভারত কি শিল্পে মন্দার মুখোমুখি?


রঘুনাথ ভট্টাচার্য, চিন্তন নিউজ, ১২ আগষ্ট: কেন্দ্রের পরিসংখ্যান মন্ত্রকের অধীন কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান সংস্থা (সেন্ট্রাল স্ট্যাটিসটিকাল অর্গানাইজেশন) এক রিপোর্টে জানান জুন ‘১৮তে শিল্প উৎপাদন সুচকে বৃদ্ধির হার যেখানে ছিল ৭%, জুন ‘১৯শে সেটা নেমে দাঁড়িয়েছে ২%।

এ বছরে প্রতি মাসেই বৃদ্ধির হার কমে যাচ্ছে। মার্চ: ১৯ – ২.৭%, মে: ১৯ – ৩.১%, জুন: ১৯- ২%। সবচেয়ে বেশি কমেছে ম্যানুফ্যাকচারিং ও খনিজ শিল্পে, যে দুটি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান হয় সব চেয়ে বেশি। ম্যানুফ্যাকচারিং-এ বৃদ্ধির হার মাত্র ১.২% আর খনি শিল্পে ১.৬%, যা ছিল গত বৎসর যথাক্রমে ৬.৯ ও ৬.৫% এবং ফলত বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে গত বৎসরের ৮.৫% স্থলে ৮.২%। রিপোর্ট বলছে, এই সব তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, এইক্ষেত্রে শিল্পে মুলধন বিনিয়োগও নিম্নমুখী। সেখানে হার কমে ৬.৯% যেখানে গতবৎসর ছিল ৯.৭%।

রিজার্ভ ব্যাংকও এই নিম্নমুখী শিল্প বিনিয়োগের তথ্য সমর্থন করেছে তাদের রিপোর্টে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলির উৎপাদন বৃদ্ধির হার ও কিছু উৎসাহব্যঞ্জক নয়। যেমন : কাগজ শিল্প: (-)১৯.৯%, আসবাবপত্র: (-)১৪.৩%, গাড়ি: (-)১৩.৯%, নির্মাণ: (-)১.৮%। শ্রমনিবিড় শিল্পেই বিশেষ করে এই নেতিবাচক প্রবণতা ফুটে উঠেছে।

এই অবস্থায় শ্রমিক – কর্মসংস্থান যার পর নাই ক্ষতিগ্রস্ত। এক অটোমোবাইল শিল্পেই প্রায় ৩ লক্ষ কর্মী ইতিমধ‌্যেই কাজ হারিয়েছেন। অন্যান্য ক্ষেত্র মিলিয়ে কর্ম-চ্যুতির পরিমান প্রায় ১০লক্ষ। বাজারে গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় বড় বড় অটোমোবাইল সংস্থা উৎপাদন বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দিচ্ছে। বহু ডিলার তাদের শোরুম বন্ধ করে দিচ্ছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে সাম্প্রতিক কালে এরকম ঘটনা দেখা যায় নি।

অটোমোবাইল সংস্থা মাহিন্দ্রা এন্ড মাহিন্দ্রা তাদের বিভিন্ন প্ল্যান্টের উৎপাদন আগামী তিন মাস ৮ থেকে ১৪ দিন বন্ধ রাখবে। টাটা মোটরস্ উৎপাদন কমাতে শিফ্ট কমিয়ে দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী অস্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যাও কমানো হয়েছে। মারুতি তাদের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ২৫.১৫% কমিয়েছে এ মাসে। ফলে, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গুলিও তাদের উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। জাম্মা অটো বা বস্ক অটোর মত যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী কোম্পানি কেউ সারা মাস কেউ মাসে ১৩ -১৫ দিন তাদের কারখানা বন্ধ রাখবে।

এই অবস্থায় স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, সরকারি ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবদদের একাংশ যখন দেশের শিল্পের অগ্রগতির কথা বিভিন্ন ভাবে বলে যাচ্ছেন, তখন সরকারের নিজেরই তথ‌্যে ভিন্ন সুর কেন? স্বাধীন ভারতবাসী উদ্বিগ্ন চিত্তে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে অনিশ্চিত আশঙ্কায়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।