দেশ

নির্বাচনী বিধিভঙ্গ মোদীর : নির্বিকার কমিশন


মীরা দাস, চিন্তন নিউজ, ২৫ এপ্রিল: নির্বাচন কমিশন সমস্ত রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সুস্পষ্ট ভাবে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় এবং সেনাবাহিনীর পদক্ষেপকে কোন অবস্থাতেই নির্বাচনী প্রচার বা ভাষনে ব্যবহার করা যাবে না। এই নির্দেশ সব দল মানলেও শাসক দল ব্যতিক্রম। কমিশনকে তোয়াক্কা না করে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী লঙ্ঘন করে চলেছেন।মোদীর ভাষনে সিংহ ভাগ দখল করে আছে উগ্র দেশপ্রেম, উগ্র জাতীয়তাবাদ, এর কেন্দ্রবিন্দুতে অবশ্যই পাকিস্তান। মোদীর ভাষন শুনলে মনে হয়, দেশে আর কোন সমস্যা নেই, শুধু সমস্যা পাকিস্তানকে নিয়ে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খালি চোখা চোখা শব্দবাণ নিক্ষেপ করাই যেন মোদীর প্রধান কাজ ।
মানুষের দৈনন্দিন রুটি, রুজি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষকের ফসলের দাম কমানো, অগুনতি বেকারের কাজের প্রয়োজন নেই, জিনিস পত্রের দাম কমানোর প্রয়োজন নেই, শুধু ধর্মীয় জিগির তুলে হিন্দু মুসলিম লড়ে যাও। দাঙ্গার আগুন লাগিয়ে মানুষকে জাতপাতের দোহাই দেখিয়ে ভাগ করে যাও। সব কিছু ভুলে যাও, ধর্ম আর জাতপাত নিয়ে লড়ে যাও, আর পাকিস্থানকে গালাগাল করে যাও, এই হচ্ছে মোদী সরকারের নীতি।
মোদী সরকার জেনে গেছে পাঁচ বছরে কিছুই কাজ হয়নি যা মানুষের সামনে তুলে ধরা যায়। নিজের অপদার্থতাকে আড়াল করার জন্য, ভাষনে বিরোধীদের সমালোচনা, পুলওয়ামার শহীদদের নাম করে ভোট চাইছেন। বালাকোটে বিমান হানাকে নিজের কৃতিত্ব বলে দাবি করছেন, এমনকি পরমানু অস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানকে আক্রমন করার কথাও বলেন ।
মোদীর ভাষন শুনে মনে হচ্ছে ,বাচ্চা ছেলেরা খেলতে খেলতে নিজেদের মধ্যে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা একে অপরের বিরুদ্ধে যেমন বলে, ঠিক সেইরকম যুক্তিহীন কথা ।
অন্য দিকে মোদীর যথেচ্ছ বিধিভঙ্গের কথা জেনেও নির্বাচন কমিশন নীরব, একবারের জন্য ও সতর্ক করেনি। কমিশন তাদের দায়িত্ব পালনে এতটা নিস্পৃহ কেন বোঝা যাচ্ছে না। সন্দেহ তৈরী হচ্ছে কেন এতো ছাড় মোদীকে দেওয়া হচ্ছে ?


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।