দেশ বিদেশ

আন্তর্জাতিক সৌজন্য:– চোদ্দোদিন পর উদ্ধার ভারতীয় ট্রলার।


রঘুনাথ ভট্টাচার্য্য:চিন্তন নিউজ:১৮ই জুলাই :–পশ্চিম পাশে যখন এক ভারতীয়কে ফাঁসি দেবার জন্য
উদ্যত প্রতিবেশী এক সরকার( কুলভূষণ যাদবকে
ফাঁসির আদেশ পুনর্বিবেচনার
জন্য পাকিস্তানকে নির্দেশ
আন্তর্জাতিক আদালতের), পূর্ব দিকে অন্য এক সরকার আন্তর্জাতিক সৌজন্যের অসামান্য নজির রাখলেন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

গত ৪ঠা জুলাই কাকদ্বীপ থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ৩২টি ট্রলারে ৫১৬ জন বাঙ্গালী
মৎসজীবীরা। ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ও পশ্চিমা ঝড়ের উত্তাল তরঙ্গে তাড়িত হয়ে তাঁরা ক্রমশঃ বাংলাদেশ সীমান্ত
অতিক্রম করে যেতে বাধ্য হন,
নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে। অসামান্য মানবিকতার নিদর্শন রেখে বাংলাদেশ আশ্রয় দেন তাঁদের। অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষে তাঁরা নিরাপদেই ১৭ই
জুলাই ঘরে ফিরে এলেন রুবেন দাস, বিকাশ দাস,নিত্য
দাস, দিলীপ দাসেরা। তাঁরা দুঃখ প্রকাশ করে জানান যে,
তাঁরা প্রত্যক্ষ করেন অনেক মৎসজীবী সহ বাংলাদেশী ট্রলার উল্টে যেতে।এতে তাঁরা নিদারুণ বিহ্বল হয়ে পড়েন।
তাঁরা বলেন, সেই বিপন্ন মৎসজীবিদের তখন নিজেদের স্বজন বলেই মনে হচ্ছিল। দুঃখের বিষয়, অপর দুই ভারতীয় ট্রলার-‘নয়ন ও দশভূজার ২৪জন মৎসজীবী এখনও নিরুদ্দেশ। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন মাত্র দুজন।

বাংলাদেশের পায়রা বন্দর থেকে কাকদ্বীপে পৌঁছে তাঁরা
জানান , ‘সমুদ্রের করাল গ্রাস
থেকে রক্ষা পাবার পর কখনো ভাবতে পারিনি প্রতিবেশী দেশে আমরা এমন
সমাদর পাব। আরাম আশ্রয় পেয়েছি, খাদ্য পেয়েছি, ঘোরাফেরার
স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা অভিভূত, আমরা কৃতজ্ঞ।’


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।