রাজ্য

লকডাউনে ফুলবাজার খোলার সরকারি অনুমতি- ফুলচাষীদের পক্ষে শাঁখের করাত


কাকলি চ্যাটার্জি:চিন্তন নিউজ:১০ই এপ্রিল:- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গতকাল ৯ ই এপ্রিল জগন্নাথঘাট, কোলাঘাট, দেউলটি ফুলবাজার খুলে গেল। অভিজ্ঞতার নিরিখে ফুলচাষীদের সঙ্গে মাননীয়ার ফারাক সহস্র যোজন।

প্রচন্ড গরমে রৌদ্রে বিঘার পর বিঘা ফুলের খেত ঝলসে যাচ্ছে, পরম যত্নে, মহাজনের থেকে ঋণ নিয়ে নিজেদের কষ্টের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে অভাবী চাষীর মাথায় হাত। কিন্তু বাস্তবতা অনুধাবন করে বাজার খোলার প্রথম দিন তাঁরা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম ফুল নিয়েই এসেছিলেন বাজারে। আশা ছিল হয়তো সেই ফুল বিক্রি করে দিনের শেষে কিছুটা হলেও ক্ষতির পরিমাণ কমবে। কিন্তু পরিবহনের অভাবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাজারে আসতে পারছেন না, খুচরো ফুল খুব সামান্যই বিক্রি হল। সিংহভাগ ফুল বাজারেই ফেলে রেখে বাড়িমুখো হলেন কৃষকরা।

ট্রেন চলাচল বন্ধ,ভরসা সেই ম্যাটাডোর অথবা নিজের বাইক। ফলে ফুল বাজারে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ও প্রচুর খরচ যা লাভ তো নয়ই লোকসানের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এর ওপর আছে রাস্তায় পুলিশের হয়রানি। গোলাপ গাছ করোনা ভাইরাসের কবলে, গাছ বাঁচাতে জলসেচ ও কীটনাশকের খরচ। হাওড়ার বাগনান, দেউলটিসহ মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, ক্ষীরপাইয়ের ফুলচাষীদের মাথায় হাত। কীভাবে মহাজন অথবা ব্যাঙ্কের ঋণ শোধ করবেন কিংবা পরিবারের অন্নের জোগাড় করবেন সেই চিন্তা তাড়া করে বেড়াচ্ছে এই চাষীদের। তাঁরা চাইছেন লকডাউনের বাজারে বাজার না খুলতে।

দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে তাঁদের দাবি ফুলচাষকে বীমার আওতায় নিয়ে আসা। পুনরায় সেই দাবি সামনে এনেছেন তাঁরা। এছাড়া লকডাউনে বাজার খুললে যাতে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আসতে পারেন সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে সরকারকে । এছাড়া কৃষি ঋণ মকুব ও প্রধানমন্ত্রী কৃষিনিধি সম্মান যোজনার টাকা কৃষিবন্ধু ও ফুলচাষীদের মধ্যে বন্টনের ব্যবস্থা করুক সরকার। এখন অপেক্ষা রাজ্যের সরকার তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটা দেখার।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।