রাজনৈতিক রাজ্য

সন্দেশখালি নিয়ে প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারের বিধানসভায় – দুষ্ক‍ৃতিদের দ্বারা সন্ত্রাস, জমি জবরদখল,ধর্ষণ এবং পুলিশী নিস্ক্রিয়তার কথা উল্লেখ করে বারে বারে স্পিকার, স্বরাষ্ট্র তথা মুখ‍্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ


প্রতিবেদনে উত্তম দে: চিন্তন নিউজ: ২৭/০২/২০২৪:– সন্দেশখালিতে শাসক নেতা ও তাদের শাগরেদদের বর্বরোচিত নারী নির্যাতন, জমি লুঠ, জমিতে নোনাজল ঢুকিয়ে দেওয়া দীর্ঘদিন শাসক দলের ত্রাসে মুখ বন্ধ করে রেখে, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর, যখন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা ঝাঁটা, লাঠি নিয়ে প্রতিরোধে নামতে বাধ‍্য হলেন,তারপর থেকেই শেখ শাহজাহান, শিবু হাজরা,উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে ওঠা ন্যক্কারজনক নারী নির্যাতনকে মিথ‍্যে প্রমাণ করতে শাসকদল কখনো বহিরাগত, কখনো সিপিআই(এম) এর উস্কানি বলে ব‍্যাখ‍্যা করতে শুরু করেন। তৃণমুলের এক কাউন্সিলর কখনো ভিডিও ফুটেজের দাবী করেন তো কখনো এক মুখপাত্র অভিযোগকারিনীর ঘোমটা সরাতে বলেন। গতকাল শাসক দলের এক বিধায়ক আরো নিচে নেমে ভাড়া করা ও সিগারেট পান করা মহিলা বলে, প্রতিবাদী ও নির্যাতিতাদের চরম অসম্মাণ করেন। আসলে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ,বাম প্রতিনিধি দলকে প্রবেশ করতে না দেওয়া, প্রতিবাদীদের গ্রেফতার,রাতের অন্ধকারে হুমকি দেবার পরেও যখন প্রতিরোধ কমছে তো না, উল্টে তা সন্দেশখালি থেকে আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ছে,তখন এভাবে মহিলাদের অপমান ও মিথ‍্যাচার করে বামেদের উস্কানি বলে চালিয়ে এটা প্রমাণের চেষ্টা হচ্ছে যে,আসলে নারী নির্যাতনের ঘটনা সম্পুর্ণ মিথ‍্যা।

অন‍্যদিকে শাহজাহান ও তার দুষ্কৃতি বাহিনীর বিরুদ্ধে মুখ খোলায় সম্পুর্ণ মিথ‍্যে মামলায় সন্দেশখালির প্রাক্তণ সিপিআই(এম) বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়। সাথে সাথে শাসকদলের তরফ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হতে থাকে তৃণমুলের দুষ্কৃতিদের বিরুদ্ধে আনা নিরাপদ সর্দারের অভিযোগকে মিথ‍্যা প্রমাণের চেষ্টা করা হতে থাকে। সাথে সাথে, এটাও বলা হয়, সিপিআই(এম) এর প্রাক্তন বিধায়ক কোনদিনই এই অত‍্যাচারের কথা উল্লেখ করেন নি। বিধানসভার প্রশ্নোত্তর পর্বের তথ‍্য ঘাঁটলে ঠিক এর উল্টোটাই দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন,২০১৪ র সরকারী তথ‍্য অনুযায়ী, ৬ থেকে ১৮ জুন চলা এই অধিবেশনে সন্দেশখালির শাসকদলের দুষ্ক‍ৃতিদের দ্বারা সন্ত্রাস, জমি জবরদখল,ধর্ষণ এবং পুলিশী নিষ্কৃয়তার কথা উল্লেখ করে, নিরাপদ সর্দার বারে বারে স্পিকার, স্বরাষ্ট্র তথা মুখ‍্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এবং তা করতে গিয়ে তাকে বাধার মধ‍্যে পড়তে হয় এমনকি তার অভিযোগ না শুনে মাইক পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আসলে শাসকদলের বরাবরের সমস‍্যা বামেদের নিয়েই। তা যতই তারা বিধানসভায় শূন‍্য থাকুক না কেন। শুন‍্য থাকার পরেও মানুষের স্বার্থে তাদের লড়াই কমেনি,বরং আরো তীব্র হয়েছে। বিজেপি সন্দেশখালির ঘটনা কখনো ধর্মের বিভাজনে বিভক্ত করে সাম্প্রদায়িকরণের চেষ্টা করে. কখনো তৃণমুল নেত্রীর জয়প্রকাশ নারায়ণের গাড়ির বনেটে ওঠার ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে গাড়ির বনেটে উঠে নাটক করে, কার্যত মেরুকরণের মধ‍্য দিয়ে, মূল সমস‍্যা থেকে নজর ঘুরিয়ে ভোট রাজনীতির খেলা খেলে শাসক দলের সুবিধা করে দিচ্ছেন। তাই শাসকদলের প্রধান বিপদ প্রতিরোধিরা আর বামেরা। তাই প্রতিরোধিদের মিথ‍্যে মামলায় গ্রেফতার,হুমকি,তাদের কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। আর বামেদের গ্রেফতার, অত‍্যাচারীতদের কাছে যেতে বাধা ও মিথ‍্যাচার করে আসল সমস‍্যা থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।