দেশ

বেসরকারীকরনের পথ থেকে সরে এসে বিএসএনএল এবং এমটিএনএল কে সংযুক্তির পথে হাঁটতে চলেছে সরকার


চৈতালী নন্দী : চিন্তন নিউজ : ২৫শে অক্টোবর :-বিলগ্নিকরন রুখে দিয়ে এবার কর্মী সঙ্কোচনের বিরোধীতায় বিএসএনএল ইউনিয়ন।।বিভিন্ন বাম ইউনিয়নের চাপে শেষপর্যন্ত পিছু হটলো কেন্দ্রীয় সরকার।বেসরকারীকরনের পথ থেকে সরে এসে বিএসএনএল এবং এমটিএনএল কে সংযুক্তির পথে হাঁটতে চলেছে সরকার। এর ফলে বিপুল সংখ্যক কর্মী সঙ্কোচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।কিন্তু এর পিছনে রয়েছে এক গভীর ষড়যন্ত্র।

এই কর্মী সঙ্কোচনের যে সরকারী সিদ্ধান্ত তা রূপায়ন করতে লাগবে বিপুল পরিমাণ অর্থ। কারন দুই প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে কর্মী ছাঁটাই হবে ৯০ হাজার। তার মধ‍্যে বিএসএনএল এর ৭০-৭৫ হাজার এবং এমটিএনএল এর ১৬ হাজার। এছাড়াও অবসরের বয়স কমিয়ে আরও কর্মী সঙ্কোচনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

কিন্তু এই দুই সংস্থার কর্মীরা মনে করছেন এই বিপুল সংখ্যক কর্মী সঙ্কোচন না করে ঐ অর্থেই প্রযুক্তির দিক থেকে আরও আধুনিক এবং আরোও‌ উন্নত পরিষেবা ,ও পরিকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব ছিল। কর্মী ছাঁটাই না করে
সংস্থাটির পুনরুজ্জীবন ঘটালে কর্মী ছাঁটাই না হয়ে বরং কর্মসংস্থানের ব‍্যবস্থা করা সম্ভব হোতো। এদিন ইউনিয়নের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশ , যে অর্থ খরচ করে সরকার বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করছে সেই অর্থেই বৃহত্তম পুরোনো ঐতিহ‍্যসম্পন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা টিকে আরও উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন করে গড়ে তোলা উচিত ছিল।

সরকারের মতে বিপুল কর্মীভারে জর্জরিত এই সংস্থা টির লোকসানে চলছে এই যুক্তিও ইউনিয়ন খারিজ করে দেয়।তারা দেখায় বিএসএনএল এ ১৯০৪/৫ সালে ১ লক্ষ কর্মী সংখ্যা বেশী হাওয়া সত্বেও লাভ করেছিল ১০ হাজার কোটি।সেসময় বেশী কর্মী নিয়ে ও সংস্থাটি যদি লাভের মুখ দেখে থাকে তবে এখন পারছে না কেন।কারন হোলো বেসরকারী টেলিকম সংস্থাগুলিকে নতুন প্রযুক্তি ব‍্যবহারের যে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, বিএসএনএল কে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সত্বেও তা দেওয়া হয়নি।বেসরকারী সংস্থা গুলো কে পাইয়ে দেওয়ার এই ভ্রান্ত নীতি ই বিএসএনএল এর সর্বনাশ করেছে।এর জন‍্যে দায়ী সরকার।

দেশে যে হারে বেকারীর হার বেড়েছে সেখানে এই কর্মী সঙ্কোচনের নীতি না নিয়ে ,কর্মীদের উপর লোকসানের দায় না চাপিয়ে বরং কিভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যায় সেই পথ ভাবা উচিত।সরকারের কথায় বেসরকারি টেলিকম সংস্থা গুলির কর্মীপ্রতি খরচ অনেক কম যা বিএসএনএল অনেক বেশী।কিন্তু বিএসএনএল এর কর্মী ইউনিয়নের মতে এর মধ‍্যে সত‍্যতা নেই কারন বেসরকারী সংস্থা গুলো বেশিরভাগ কাজ বাইরে থেকে বরাত দিয়ে করায়।এইভাবেই কারচুপি করে সরকার অসত‍্য হিসেব পেশ করছে।

বিএসএনএল দীর্ঘদিন ধরেই ফোর-জি স্পেকট্রামের দাবি জানিয়ে আসা সত্বেও তা শুধুমাত্র বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিগত পরিষেবায় পিছিয়ে পড়েছে বিএসএনএল। এর দায় কর্মীদের উপর চাপালে ভূল হবে।
অন‍্যদিকে সরকারী টেলি সংস্থা টির বন্ড বিক্রির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে কর্মীইউনিয়ন। এর সঙ্গে তারা দাবি করেছে দুটি সংস্থা সংযুক্তিকরনের আগে দুটি সংস্থার আর্থিক দায় যেন মিটিয়ে দেওয়া হয়।এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার দুটি সংস্থা র জমি বিক্রি করে ৩৮ হাজার কোটি সংগ্রহের যে লক্ষ‍্যমাত্রা ধার্য করেছে তাতে স্বচ্ছতা থাকা জরুরী।সরকারী জমি যেন জলের দরে বিক্রি না হয়ে যায় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরী।সেই সঙ্গে লক্ষ‍্য রাখতে হবে সংস্থা টির আর্থিক দায়ভার কমিয়ে দিয়ে সহজে বেসরকারিকরনের সরকারী নীতি যেন সংস্থা টির উপর বলবৎ না হয়।অতএব ….লড়াই জারি থাকবে!


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।