রাজ্য

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন দিতে হবে রাজ্যের চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষকদের


মল্লিকা গাঙ্গুলী, চিন্তন নিউজ, ৫ জুলাই: “সমকাজে সমবেতন” এই দাবিতে বহু পূর্বে রাজ্য সরকারের কাছে বেতন বৃদ্ধির আবেদন করেন পশ্চিমবঙ্গের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অস্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকারা। পার্শ্ব শিক্ষক নামে খ্যাত শিক্ষকদের এই দাবি রাজ্য সরকার খারিজ করে দিলে তাঁরা মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আজ ৫ই জুলাই বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য রায় দেন ঐ অস্থায়ী শিক্ষকদের স্থায়ী শিক্ষকদের মতোই ন্যূনতম মূল বেতন বা basic pay দিতে হবে।

রথযাত্রা বাম্পার হিসেবে রাজ্যের হাজার খানেক চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক শিক্ষিকার জন্য বেতন বৃদ্ধির এই নির্দেশ নিঃসন্দেহে খুশির বার্তা। শিক্ষক ঘাটতি পূরণ এবং শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীদের কর্ম সংস্থানের লক্ষ্যে ২০০৮ সালে বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই রাজ্যের সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৯০০ অস্থায়ী শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগ করা হয়। সেই সময় তাদের বেতন ছিল ৬০০০ টাকা, তা ধীরে ধীরে বেড়ে হয় ১০০০০ টাকা। এই পার্শ্ব শিক্ষকরা বেশ কিছু বছর কাজ করার পর দাবি তোলেন তাঁদের কাজের চাপ স্থায়ী শিক্ষকদের সমান।

২০১১ সালের পর স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় বিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংখ্যার হিসাবে শিক্ষকের সংখ্যা কমতে থাকলে এই প্যারা টিচারদের কাজের পরিধি বাড়তে থাকে। তাঁরা বিদ্যালয় এবং ছাত্রছাত্রীর স্বার্থে কাজ করলেও পরিস্থিতি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার তথা শিক্ষাদপ্তর সেই আর্জি খারিজ করে দিলে ক্ষুব্ধ শিক্ষক শিক্ষিকারা ২০১৪ সালে সরাসরি হাইকোর্টে বেতন বৃদ্ধির জন্য আপিল করে। দীর্ঘ পাঁচ বছর বিভিন্ন শুনানির পর রাজ্য শীর্ষ আদালত ২০১৭ সালের এই মর্মে গৃহীত সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায় বিবেচনা করে আজ “সমকাজে সমবেতন” নীতির সমর্থনে রায় দান করে।

বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের রায়ে পরিস্কার করে বলা হয়েছে চুক্তি ভিত্তিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের বেতন স্থায়ী শিক্ষকদের মূল বেতনের সমান হবে, এবং এই রায়ে পার্শ্বশিক্ষকদের পাশাপাশি উপকৃত হবেন বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষা কর্মীরাও। অর্থাৎ উচ্চ আদালতের এই নির্দেশ সমস্ত চুক্তি ভিত্তিক বিদ্যালয় কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। অস্থায়ী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ হলেও বর্তমান রাজ্য সরকার মহামান্য হাইকোর্টের রায় গ্রহণ করে কখন থেকে অস্থায়ী শিক্ষকদের নতুন বেতন নির্ধারণ ক’রে বাস্তবিক পক্ষে শিক্ষক শিক্ষিকা দের মুখে হাসি ফোটান এটাই এখন দেখার বিষয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।