দেশ

” ছাত্রদের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার পথে।” নিট এর প্রশ্নপত্র ফাঁসে গ্রেফতার আট


পাপিয়া মজুমদার: চিন্তন নিউজ:১৫ই সেপ্টেম্বর:– ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলছে অবাধ ছিনিমিনি খেলা। নিট (সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা) -র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজস্থানের জয়পুর পুলিশ ৮(আট) জনকে গ্রেফতার করেছে। গত রবিবার (১২ই সেপ্টেম্বর) এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ধৃত ৮ জনের মধ্যে ১৮ বছরের এক নিট পরীক্ষার্থীও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। ঐ পরীক্ষার্থীর এক নিকট আত্মীয়ও রয়েছেন, যিনি একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক।

চলতি মাসের গোড়ায় ‘ নিট ‘ পশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পরে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নেট মাধ্যমে সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পরীক্ষা বাতিলের দাবি ও উঠেছিল। যদিও পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা ‘ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি ‘ -র তরফে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিল।

জয়পুর পুলিশের ডিএসপি ‘ রিচা তোমর ‘ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, – জয়পুরে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো প্রশ্নপত্রের সিল খোলা হয়েছিল। পরে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিদর্শক রাম সিং ও ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মুখেশ তার ছবি তোলেন এবং তা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে তা দীনশ্বরী কুমারী নামে এক পরীক্ষার্থীর আত্মীয়কে পাঠিয়ে দেন।

রাজস্থানের শিকার এবং মধ্য প্রদেশের চিত্রকূট সহ বিভিন্ন জায়গায় ও-ই প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ‘ রিচা তোমর ‘। সেই প্রশ্নপত্রের উত্তর ও খুব দ্রুত তৈরি হয়ে যায়। আর সেই উত্তর পত্র রাম ও মুখেশ পরীক্ষাকেন্দ্রে দীনেশ্বরীকে জালিয়াতিতে সাহায্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

১০ (দশ) লক্ষ টাকার বিনিময়ে সেই প্রশ্ন পত্র ফাঁস এবং সাহায্যের জন্য দীনেশ্বরীর আত্মীয়ের সাথে রাম ও মুখেশ এর রফাদফা করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্র প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অলওয়ারের এক ‘কোচিং সেন্টার’ -র মালিক এবং একটি ‘ই-মিত্র’ কেন্দ্রের মালিককেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

একাধারে ছাত্রদের পড়াশোনা তথা পরীক্ষা পদ্ধতি সবকিছুই আজ ব্যবসায় পরিণত হয়ে উঠেছে। সত্যিকারের মেধাবীরা সেই রফা ব্যবসার কাছে হেরে যাচ্ছে। সত্যিকারের মেধাবীরা তাদের যোগ্য স্থান হতে বঞ্চিত হচ্ছে। অন্যদিকে অযোগ্য রা রফা র সুযোগ নিয়ে উচ্চতর স্থানে অধিষ্ঠিত হওয়ার ফলস্বরূপ অদক্ষতার কারণে দেশের সমাজের বৃহত্তর ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ হেনো অবস্থা চলতে থাকলে, আগামীতে দেশের কিংবা সমাজের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে যেতে সময় লাগবে না বলেই অভিমত সমাজ বিজ্ঞানীদের।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।