দেশ

অমিত পুত্রের অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধির নেপথ্যে জটিলতা।


শাশ্বতী ঘোষাল: চিন্তন নিউজ:৪ঠা নভেম্বর:– বিজেপি সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র পুত্র জয় শাহ’র মালিকানাধীন “কুসুম ফিনসার্ভ” দিনে দিনে অর্থনৈতিক দিক থেকে ফুলে ফেঁপে উঠছে। সংস্থাটির এই অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে অনেক জটিলতা। সোজা পথে যে আঙুল ফুলে কলা গাছে পরিণত হতে পারে না এ কথাই বলছে বিরোধী দল গুলি। তাদের এই অভিযোগের কারণ হলো অমিতপুত্রের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ যে ক্রমশ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে তা পুরোটাই বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর। জয় শাহ’র মালিকানাধীন ” কুসুম ফিনসার্ভ”এর আর্থিক মূল্য বেড়েছে ২৪.৬১ কোটি টাকা। বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর এই সংস্থা র ব্যবসা বেড়েছে ১১৬.৩৭ কোটি টাকার। যা রীতিমত আশ্চর্যজনক। কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে বাণিজ্যিক সংস্থা সম্পর্কিত তথ্যে জানা গেছে “কুসুম ফিনসার্ভ “এল এল পি সংস্থার আর্থিক লেনদেনের হিসাব খতিয়ে দেখছে সংবাদ বিষয়ক ওয়েবসাইট “দ্য ক্যারাভান “।

দ্য ক্যারাভানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে ২০১৫ এবং ২০১৯ এর মধ্যবর্তী অর্থবর্ষ গুলিতে জয় শাহর সংস্থা র বাজারে দর বেড়েছে ২৪. ৬১ কোটি টাকা। স্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে ২২.৭৩ কোটি টাকার এবং বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৩৩.০৫ কোটি টাকা। ২০১৮ তে ক্যারাভান জানিয়েছিল ২০১৬ সালে “কুসুম ফিনসার্ভ” এর ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা বিস্ময়কর ভাবে বেড়ে যায়। অথচ তার আগের বছরই এই সংস্থা র অর্থনৈতিক সাফল্যের হার যথেষ্ট খারাপ ছিল। ঐ বছর অমিত শাহ নিজে তাঁর দুটি স্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রেখে ছেলের ব্যবসার জন্য ২৫কোটি টাকার ঋণ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন।

দ্য ক্যারাভান আরো জানিয়েছে যে কুসুম ফিনসার্ভ এল এল পি র “লিমিটেড লয়াবিলিটি পার্টনারশিপ” অর্থাৎ যে সংস্থা য় অংশীদারদের আর্থিক দায় সীমিত তাদের প্রতি বছর ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আয় ব্যয়ের বার্ষিক হিসেব দাখিল করতে হয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রকের কাছে ।অন্যথায় প্রতি বার পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হয়। মোদীর রাজত্বে একাধিক সংস্থা এই জরিমানা দিতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু জয়ে শাহ র সংস্থা পর পর দু বছর (২০১৭ এবং ২০১৮)এই হিসেব জমা দেয় নি। অথচ তার জন্য তাদের কোনো জরিমানা দিতে হয় নি। কুসুম ফিনসার্ভের আর্থিক সাফল্যের হিসেব ও সঠিক সময়ে জমা পড়ে নি।। এই সংস্থা র মূল ব্যবসা যে কি তা ও পরিস্কার নয়। আমেদাবাদের “রেজির অফ্ কম্পানিজ ” নামে যে কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্থা টি নথিভুক্ত সেখানে লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হলেও কোনো উত্তর মেলে নি বলে দ্য ক্যারাভান জানিয়েছে। তবে এটা এখন পরিস্কার যে যে সময়টায় জয় শাহ’র সংস্থা নিজেদের হিসেব দাখিল করেনি সেই সময়েই তার সংস্থা’র অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে।

কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ অভিযোগ জানিয়ে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী র উচিত এ ব্যাপারে সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া যে কেন প্রধানমন্ত্রীর দলের সভাপতি র ছেলেকে এভাবে সবক্ষেত্রে বাড়তি আর্থিক সুবিধে পাইয়ে দেওয়া হলো।



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।