রাজ্য

জামিন পেয়েই সটান স্কুলে গিয়ে ক্লাসও নিলেন চাকরি দুর্নীতিতে গ্রেফতার হ‌ওয়া স্কুল শিক্ষক


সুপর্ণা রায়:চিন্তন নিউজ:- ০৮/০২/২০২৩:- টাকা নিয়ে চাকরী পাইয়ে দেওয়ার ঘটনা এখন পশ্চিমবঙ্গে জলভাত । এমনই অভিযোগ ছিল শিলিগুড়ি র বরদাকান্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষক পঙ্কজ বর্মন এর বিরুদ্ধে । ঘটনায় জানা যায় চাকরী দেওয়ার নাম করে তিনি ১৭ লক্ষ টাকা হাতিয়ে ছিলেন এবং গ্রেফতার ও হন। এরপরেই ঘটে এক অত্যাশ্চর্য ঘটনা । ঐ শিক্ষক এর টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য পনের দিন এর জেল হেফাজত হয় । ২০শে জানুয়ারি গ্রেফতার হন পঙ্কজ এর পর টানা ১৫ দিন জেল হেফাজত ও পুলিশ হেফাজতে কাটিয়ে ৪ ই ফেব্রুয়ারি জামিন পান । আর জামিন পেয়েই সটান স্কুলে চলে যান এবং ক্লাসও নেন। কেউ তাঁকে বাঁধা দেন নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে তারা জানেই না যে পঙ্কজ এতদিন ধরে জেলে ছিল এক জঘন্য অপরাধ করে ।

আইন অনুযায়ী কোন সরকারী কর্মচারী র আটচল্লিশ ঘণ্টা জেলে থাকলে তিনি কাজ থেকে সাসপেন্ড হন এবং পরবর্তীতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে কাজে যোগ দেন । কিন্তু এক্ষেত্রে কোন নিয়মনীতি মানা হয় নি । জেল থেকে ছাড়া পেয়ে খোশমেজাজে স্কুলে এসে পড়াতে শুরু করেন পঙ্কজ বর্মন । তার চাইতেও বড়ো কথা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানেনই না যে পঙ্কজ বর্মন এই রকম জঘন্য কাজ করে জেলে গেছেন । বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন যে তিনি সরকারি নিয়মনীতি জানেন কিন্তু পঙ্কজ বর্মন যে জেলে ছিলেন একথা সরকারী ভাবে স্কুলকে জানানো হয় নি । তাঁদের যেহেতু সরকারি ভাবে কোনকিছু জানানো হয় নি তাই পঙ্কজ বর্মন ছুটি নিয়েছেন ভেবে তাঁকে তাঁর কাজ করতে আটকানো হয়নি।

আর ঠিক এই জায়গাতেই উঠছে প্রশ্ন।

একজন সরকারি শিক্ষাকর্মী গ্রেফতার হ’লে তার পুলিশের তরফে তা জানানো হয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষা দফতরকে । বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে তাঁরা জানেই না যে পঙ্কজ বর্মন গ্রেফতার হয়েছেন — তাহলে কি সরকারি নিয়মে বড়োসড়ো কোন গাফিলতি আছে?? মুখে মুখে ঘুরছে এই প্রশ্ন।

এ বি টি এর সদস্য সহ শিক্ষকদের একটা বড়ো অংশ এর প্রশ্ন এই কান্ডে কাকে আড়াল করা হচ্ছে?? গুরুতর অভিযোগে একজন সরকারি শিক্ষকের জেল হলো — তিনি পনের দিন জেলে কাটালেন আর শিক্ষা দফতর কিছু জানলোই না ?? এই দিনটাকে তাঁরা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার একটি কালো দিন বলেই মনে করছেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।