দেশ

জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ১০০ কোম্পানি আধা সেনা প্রত্যাহার।


কাকলি চ্যাটার্জী:-চিন্তন নিউজ:-২০শে আগস্ট:- জম্মু ও কাশ্মীরের অবস্থা স্বাভাবিক হচ্ছে প্রমান করতে কেন্দ্রীয় সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করল। সিআরপিএফ এর ৪০ কোম্পানি,বিএসএফ এর ২০ কোম্পানি , সিআইএসএফ ও এসএসবি এর ২০ কোম্পানি করে মোট ১০০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ঐ সেনাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, উগ্ৰপন্থীদের পাথর ছোঁড়া প্রভৃতি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সেনাদের নিয়োগ করা হয়েছিল।

বুধবার নয়াদিল্লিতে কাশ্মীরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার শেষে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রায় ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অফিসাররা জানান দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে উপত্যকায় বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল যাদের এবার ফিরিয়ে আনা দরকার। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং এবং সন্ত্রাসবাদীরা পিছু হটেছে বলে তাঁদের অনুমান। এর আগে গত ডিসেম্বরে প্রায় ৮২ ব্যাটেলিয়ন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

২০১৯ সালের ৫ই আগস্ট কেন্দ্রীয় সরকার জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কাশ্মীরের বাসিন্দাদের আন্দোলন স্তব্ধ করে দিতে এই সেনাদের নিয়োগ করা হয়েছিল । ২০১৮ সালে কাশ্মীরে ৫৩২, ২০১৯ এ ৩৮৯ টি পাথর ছুঁড়ে আক্রমণের ঘটনা ঘটলেও এ বছর এখনও পর্যন্ত মাত্র ১০২ টি ঘটনা ঘটেছে। উপত্যকায় কর্মরত সিনিয়র অফিসাররা দাবি করেছেন যে স্থানীয় অধিবাসীরা সন্ত্রাসবাদ নির্মুল করতে বিশেষ অভিযানে আর বাধা না দিয়ে সহযোগিতা করছেন। এখন কাশ্মীর উপত্যকায় সিআরপিএফ এর ৬৭ ব্যাটেলিয়ন এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের অতিরিক্ত ৪০০ ব্যাটেলিয়ন আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা রইলো।

সত্যিই কি শান্তি বিরাজ করছে কাশ্মীর উপত্যকায়? ‌‌তবে যে শান্তি আছে সেটা শ্মশানের শান্তি! কয়েকদিন আগেই বিদ্রোহী-সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৬ জন! সমস্ত ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন অন্তর্হিত। ওমর আবদুল্লা মুক্তি পেলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি গৃহবন্দী। ২০১৯ সালের ৫ই আগস্টের আগে যে সমস্ত রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা হয়েছিল তাঁদের অনেকেই আজও ভারতের বিভিন্ন জেলে বন্দী। থ্রিজি, ফোর জি পরিষেবা এখনও অমিল—দীর্ঘদিন পরে শুধুমাত্র টুজি পরিষেবা মিলছে। গত এক বছরে একমাসও খোলা থাকেনি স্কুলকলেজগুলো। পরিবর্তন তখনই সদর্থক হয় যখন সবরকম পরিষেবা চালু থাকে, রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালু থাকে।

বিশ্বের দরবারে কাশ্মীর শান্ত, সব ঠিক আছে এটা প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লেগেছে দিল্লির রাজনৈতিক কুশীলবরা। তাই এই সুমহান প্রচেষ্টা সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের। আগামী দিন বলবে কাশ্মীর কেমন আছে, কেমন আছেন কাশ্মীরের শান্তিকামী মানুষজন!


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।