দেশ

অতিমারীর মোকাবিলা করার চেয়ে যখন ধর্মপ্রচার শাসকদলের প্রধান কাজ !!


স্বাতী শীল: চিন্তন নিউজ:৩০শে জুলাই:- করোনার বিরুদ্ধে সমগ্র বিশ্ব একত্রে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ভিন্ন ভিন্ন দেশ ভিন্ন ভিন্ন তাদের অস্ত্র। কেউ লকডাউনে বিনামূল্যে খাদ্য,ঔষধ প্রভৃতি সরবরাহ করছে ,কেউ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও উন্নততর করে তুলেছে । আর যারা এসব কোন কিছুই করতে পারছে না তারা কখনো ভাষণ, কখনো বা করোনা বিতরণের অভূত পূর্ব নিদান দিচ্ছেন। যেমন কখনো গোমূত্র পান,কখনো দিনে পাঁচ বার জপ তপ,থালা-বাটি বাজানো। আবার কখনো বা মন্দির স্থাপন।

আগামী ৫ ই আগস্ট অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত রাম মন্দিরের ভূমি পুজো। সমগ্র জেলা জুড়ে স্বভাবতই সাজো সাজো রব ।আর হবে নাই বা কেন? কিছুদিন পূর্বেই তো মধ্যপ্রদেশের প্রটেম স্পিকার রামেশ্বর শর্মা ঘোষনা করেন যে রাম মন্দির তৈরি হলেই দেশ থেকে চিরতরে বিদায় নেবে করোনা । এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী সহ আরো৫০ জন ভিভিআইপি। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বর্ষিয়ান বিজেপি নেতা লাল কৃষ্ণ আদ্ভানি, মুরলী মনোহর যোশী, উমা ভারতী, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত এবং অন্যান্য আরো অনেকে।

জানা গেছে মন্দির স্থল থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে তৈরি হেলিপ্যাডে এসে নামবে প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার ।রাস্তাঘাট ইতিমধ্যেই আরও চওড়া করা হয়েছে।রামচন্দ্রের জীবন কাহিনী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কারুশিল্পের মাধ্যমে, স্থানীয় দেওয়ালে দেওয়ালে ।সমগ্র শহর জুড়ে বসেছে বড় বড় পর্দার সিসিটিভি ।যাতে শহরের তথা রাজ্যের প্রতিটা উৎসাহী জনতা রাম মন্দিরের ভূমিপূজার উৎসব নিজের চোখে দেখতে পারেন।

করোনা সংক্রমনের আবহে এই ধরনের রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজনের বিষয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যদিও অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদের বক্তব্য হলো কোভিদ ১৯ এর সকল প্রকার প্রটোকল মেনেই তারা তাদের সব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন।যাতে কমবেশি প্রায় ২০০ জন মানুষের জমায়েত হতে চলেছে। আর এই সমস্তটাই তাঁদের প্রিয় রামলালার আশীর্বাদ লাভের কামনায়। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মান্ধতা যে কখনই রোগমুক্তির উপায় হতে পারেনা তা আরও একবার প্রমাণিত হল বর্তমান রিপোর্টে।এই রিপোর্ট অনুযায়ী মন্দিরের কাজে ডিউটিরত ১৬ জন পুলিশ অফিসার ও মন্দিরের এক সেবায়েত সহ মোট ১৭ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ঘটেছে।এটি নিঃসন্দেহে ভাবনার বিষয়।

কেন্দ্র সরকার সরকারের টিম হয়তো তাদের সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা করার জন্য কিন্তু তা কি সত্যি যথাযথ ফল দিচ্ছে ?যেখানে সংক্রমণ সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়তে বাড়তে এখন একদিনে ৫০,০০০ এ এসে পৌঁছেছে, সেখানে অত্যাধুনিক কোন হাসপাতাল তৈরি বা চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগের পরিবর্তে মন্দির তৈরীর জন্য এই ধরনের জমায়েত যে নিঃসন্দেহে একটি প্রাণঘাতী সিদ্ধান্ত তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।