দেশ

দিল্লির দাঙ্গাবিধ্বস্ত মুস্তাফাবাদের গৃহহীন মানুষের শেষ আশ্রয় কেড়ে নিল করোনা।


মল্লিকা গাঙ্গুলি:চিন্তন নিউজ:২৮শে মার্চ:–ভস্মীভূত গৃহেই ফিরতে বাধ্য মুস্তাফাবাদের মানুষরা। জীবনের নাম টিকে থাকা! মাত্র একমাস আগে ভয়ংকর হিংসার লেলিহান অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিল উত্তর পূর্ব দিল্লির মুস্তাফাবাদের এক বিস্তীর্ণ এলাকা। সর্বস্ব খুইয়ে নিরন্ন মানুষ গুলির সাময়িক ঠাঁই হয়েছিল স্থানীয় ঈদগাহ্ এর ত্রাণ শিবিরে। বৃথা আশা মরিতে মরিতে ও মরে না! প্রায় বৃদ্ধ আনসার মালিকের মতো ঐ বস্তির অনেকেই ভেবেছিল এই শিবির থেকেই যতটুকু সম্ভব নিজেদের মাথার পুড়ে যাওয়া ছাদ বাঁশের খুঁটি জোড়া লাগিয়ে আবার তৈরি করে নেবে তাদের নিশ্চিত আশ্রয় টুকু।

কিন্তু দুঃসময় এই অসহায় সম্বল হীন মানুষ গুলোর যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ে না! কিছু দিন আগেই কেন্দ্র সরকারের এন আর সি/ সি এ এ যাদের অনিশ্চিত ঠিকানায় ঠেলে দিয়েছিল, যাদের অদম্য জেদ আর প্রাণশক্তি বাস্তুহারা হয়েও ত্রাণ শিবিরে টিকিয়ে রেখেছিল। এখন আবার মৃত্যু জীবানু করোনা ভাইরাসের ছোবল সেই মানুষ গুলোকে শিবির হারা করেছে। এই মুহূর্তে বিশ্বের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারতের উপর থাবা বসিয়েছে কোভিড ঊনিশ! যার সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে সমগ্র দেশবাসী গৃহবন্দি।

গত ২৪শে মার্চ সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে আগামী ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত মানুষকে থাকতে হবে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে যে যার নিজের ঘরে বন্দী হয়ে! এই মর্মে দিল্লির মুস্তাফাবাদের ত্রাণ শিবিরটি ভেঙে দেওয়াও হয়েছে। অবশ্যই চিকিৎসা বিজ্ঞানের নির্দেশ করোনার করাল গ্রাস থেকে মানব জীবনকে রক্ষা করতে ঘরবন্দিই একমাত্র পন্থা। কিন্তু যাদের গৃহই নাই যারা সর্বহারা তাদের কি বন্দোবস্ত? সরকারই জানিয়ে দিয়েছেন মুস্তাফাবাদের ঈদগাহ্ শিবিরে আশ্রিত মানুষদের ফিরে যেতে হবে তাদেরই ফেলে আসা চাল চুলোহীন আগলহীন বস্তিতে।

রাজার আদেশ অমান্য করার উপায় নেই, তাই মুস্তাফা বাদের গৃহহীন মানুষেরা আনসার মালিকের সঙ্গে ভস্মীভূত বস্তিতেই ফিরে যেতে বাধ্য। এ যেন গৃহহীন গৃহে গৃহবন্দির প্রহসন!! এত গুলো পরিবার আবার সেই অগ্নিদগ্ধ দগদগে জ্বলন্ত স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হলো। তারা জানে না আগামী দিন তাদের জন্য কোন নতুন বিপর্যয় অপেক্ষা করছে! তারা অস্বাস্থ্যকর পোড়া বস্তিতে করোনা আক্রমনে মরবে না নতুন কোনো সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বলি হতে হবে! দিল্লিবাসী ও কি নিশ্চিত হতে পারে ত্রাণ শিবির থেকে ভস্মীভূত বস্তিতে নিরাশ্রয় মানুষ গুলোকে সরিয়ে রাজধানীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে না? প্রশাসন হুকুম জারি করে অস্থায়ী শিবির গুড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু এতগুলো মানুষের নিরাপদ গৃহকোণে সুরক্ষা দানের কথা ভাবার প্রয়োজন ছিল। দিল্লির মুস্তাফাবাদের গৃহহীন মানুষদের জীবনের নিরাপত্তা এবং সমগ্র দেশে করোনা সংক্রমণের মোকাবিলা করতে সরকারি বেসরকারি সমবেত প্রচেষ্টায় মুস্তাফাবাদ পুনরায় প্রাণ ফিরে পাক!


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।