রাজ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

জীবন দায়ী ভেন্টিলেটর অকেজো হয়ে পড়ে আছে দিনের পর দিন, হঁশ নেই স্বাস্থ্য দফতরের


সূপর্ণা রায়:চিন্তন নিউজ:১৬ই জুন:– আইডি হসপিটালের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য দপ্তর কতটা অকর্মণ্য আবার তা প্রমাণিত হলো। কোভিড ১৯ হলে তার অন্যতম প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র আই ডি হসপিটাল।। করোনা সংক্রমণ দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে এবং এখন তা প্রায় নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে।। এখন পশ্চিমবঙ্গের মোট করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত এগারো হাজার মানুষ।। করোনা চিকিৎসা করতে ভেন্টিলেটর দরকার হয়।। আর সেই অতিপ্রয়োজনীয় মানুষের জীবন দায়ী ভেন্টিলেটর অকেজো হয়ে পড়েছে একদিন নয় দিনের পর দিন।ডাক্তার, নার্স নিরুপায় আর সব কিছু জেনেও নিরুত্তর পশ্চিমবঙ্গের সরকার।। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বাস্থ্য মন্ত্রীও। তাঁর দপ্তরের এই হাল কার্যত নির্বাক রোগীর পরিবার পরিজন এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা। কলকাতার কোন হসপিটালে এখন সিসিইউ বেড় খালি নেই। রোগীতে রোগীতে একেবারে ছয়লাপ।। এখন কারোও সংক্রমণ হলে কোথায় চিকিৎসা করাবেন বা প্রয়োজনে ভর্তি হবেন সেই নিয়ে সকলেই প্রচন্ড রকম চিন্তিত।।

এখন বেলেঘাটা আই ডি হসপিটালে আর কোন রোগের চিকিৎসা হচ্ছে না, শুধুমাত্র করোনা ভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা চলছে। আর সেখানেই সব ভেন্টিলেটর খারাপ।। স্বাস্থ্য দফতর কিছুদিন আগে আটটি ভেন্টিলেটর বসানো হয়েছিল কিন্তু প্রতিটি ভেন্টিলেটর এর সঙ্গে জড়িত “সাকশান” যন্ত্র অকেজো এবং তার জন্য রোগীকে প্রয়োজন এ ভেন্টিলেটর এ দিয়ে কার্যকরী ফললাভ হচ্ছে না।। স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিক দের সঙ্গে কথা বলেছেন বারবার চিকিৎসক রা কিন্তু স্বাস্থ্য দফতর কোন ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠায়নি যন্ত্রগুলো ঠিক করার জন্য। চিকিৎসকদের আক্ষেপ এই যে তাঁদের পরিশ্রম বিফলে যাচ্ছে কারন চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তারা পাচ্ছেন না।। তাঁরা আরও বলেন যে শতচেষ্টা করলেও ডাক্তার বাবু রা তো আর ইঞ্জিনিয়ার এর কাজ করতে পারবেন না।।

খবরে প্রকাশ এক চিকিৎসক জানান যে কোভিড আক্রান্ত রোগীর ভেন্টিলেটরে দিয়েও তার শ্বাস নালীর মধ্যে লালা কফ ইত্যাদি জমে থাকে ।। ভেন্টিলেটর এর সঙ্গে যে সাকশান যন্ত্র থাকে তাই ব্যবহার করে ওই লালা ইত্যাদি বার করে দিতে হয়।। আইডি হসপিটালে ওই সাকশান যন্ত্রেই গন্ডগোল আর তার ফলে যে রোগীর সুস্থ হয়ে যাওয়ার কথা সেও আরও বেশী মরনাপন্ন হয়ে যাচ্ছে।। ভেন্টিলেটর গুলো বসিয়ে দিয়ে হাত উল্টেছে পশ্চিমবঙ্গের সরকার। সেগুলো সত্যি সত্যি কাজ করছে কিনা তা দেখার জন্য কেউ নেই।। স্বাস্থ্য দফতর এর চরম অপদার্থতায় ভুগছেন রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এবং ডাক্তার, নার্স স্বাস্থ্য কর্মী সবাই।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।