দেশ রাজ্য

দিদি ও মোদির শাসনে বেকারত্ব কি অভিশাপ?


দেবু রায়, চিন্তন নিউজ, ২২ জুলাই: ২১শে জুলাই এর ভাষনে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অনেক কথাই বললেন। কিন্তু বেকারত্ব নিয়ে উনি একটি কথাও খরচ করলেন না। এই যে লক্ষ – লক্ষ ছেলে মেয়েরা পাস করছে, তাঁদের ভবিষ্যত কি? না এটা নিয়ে কোনো একটি বাক্য খরচ করলেন না। এই ছেলে মেয়ে গুলোর ভবিষ্যত কি? এটা নিয়ে কোনো আলোচনা নেই, শুধু এটা দেব আর ওটা দেব; অতএব আমাকে আনুন।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটা ছেলে ১৬ বছরে মাধ্যমিক, ১৮ বছরে উচ্চ মাধ্যমিক, ২১ এ স্নাতক, ২৩ এ মাস্টার্স, ২৫ এ বি.এড, তারপর এস.এস.সি. দিয়ে মাস্টারের চাকরির জন্য আবেদন অর্থাৎ ২৬ বছরে এস.এস.সি.তে বসা। যে ছেলেটি ১৯৮৬ সালে জন্ম, সে ২০১২ তে এস.এস.সি.-র জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু ২০১২ এর পরে কটা ssc হয়েছে? আজ ২০২০তে দাঁড়িয়ে ১৯৮৬ সালে যে ছেলেটির জন্ম তার বয়স ৩৪ বছর, অর্থাৎ জীবনের মুখ্য সময়টা তার শেষ।

কি সুন্দর এবং সুনিপুনভাবে যুব সমাজের একটা প্রজন্মকে শেষ করে দেয়া হলো। আর অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিতরা টিকে গেল নেতা হয়ে। অথচ বাম আমলে প্রায় প্ৰতি বছর এস.এস.সি.-র মাধ্যমে অসংখ্য ছেলে মেয়ের শিক্ষক হবার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা হয়েছিলো। ১৯৯৮ সালে এস.এস.সি. গঠন করার পর থেকে ২০১১ পর্যন্ত তেরো বছরে প্রায় দুই লক্ষ নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এছাড়া পি.এস.সি-র মাধ্যমে অনেক রিক্রুটমেন্ট হয়েছে, কিন্তু আজ?

১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পরে উদ্বৃত্ত জমি বন্টন, সেচ এর উন্নতি, মাছ চাষে উন্নতির ফলে রাজ্যের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মানের অনেক উন্নতি হয়। এর ফলে রাজ্যে শিক্ষিত ছেলে-মেয়ের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অর্থাৎ অর্থনীতির ভাষায় যাকে বলে স্কিল শ্রমিক বা শিক্ষিত শ্রমিকের যোগান বেড়ে যায়, ফলে চাপও বাড়ে। এই অবস্থা দেখে সপ্তম বাম সরকার বিশেষ করে মুখ্য মন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচাৰ্য নজর দেন শিল্পর দিকে। সেজন্য উনি অনেক গুলি প্রকল্প আনেন। যেমন শালবনিতে এশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা, নয়াচরে কেমিক্যাল হাব, সিঙ্গুরে অটোমোবাইল শিল্প, রাজারহাটে ইনফোসিস ইত্যাদি। এখানে সরাসরি নিয়োগ হতো কম করে পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ, আর এদের অনুসারী শিল্পে আরও নিয়োগ হতো প্রায় দশ থেকে বারো লক্ষ।

কিন্তু দুর্ভাগ্য রাজ্যবাসীর যে, সেই সময় বাস্তবটা না বুঝে কিছু মানুষ ভুল করলেন। আর তার খেসারত দিতে হচ্ছে একটা গোটা প্রজন্মকে। সেই সময় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমাকে আনুন আমি ছয় মাসের মধ্যে দেখিয়ে দেব কিভাবে শিল্প করতে হয়।” ছয় মাস কেটে আজ কিন্তু নয় বছর হয়ে গেল, কিন্তু কটা কারখানা হয়েছে? প্ৰতি বছরে ঘটা করে শিল্প সম্মেলন হয়, অনেক মৌ স্বাক্ষর হয়, কিন্তু বাস্তবে কটা হয়েছে? তাই তো সিঙ্গুরের মানুষ আজ চোখে সর্ষে ফুল দেখছে।

অনেকে ভাবছেন বিজেপি এলে ছেলে-মেয়েরা কাজ পাবে! কিন্তু সেরকম কিছু কি আদৌ হবে? যারা ক্ষমতায় আসার জন্য বছরে দু কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতা দখল করে, তার পর সেটা পালন করে নি! উল্টে ভুলভাল নীতির জন্য সর্বত্র ছাটাই বি.এস.এন.এল. বিক্রি, ছাটাই কয়েক লক্ষ, রেল বিক্রি, ছাটাই হতে চলেছে প্রায় বারো লক্ষর মতো। এল.আই.সি. বিক্রি, এয়ার ইন্ডিয়া বন্ধ, হ্যাল বিক্রি, কয়লার খনি বিক্রি, ব্যাংক বিক্রি, কর্মী ছাটাই। আর এরপরেও কি বিশ্বাস করতে হবে যে বিজেপি রাজ্যের বেকার ছেলে-মেয়েদের চাকরির ব্যবস্থা করবে!

বিজেপির নেতারা আবেগ দিয়ে বেকারত্বর কথা তুলবে ভোট পাবার জন্য, তারপর ভোট শেষ তো সব শেষ। পাশের রাজ্য ত্রিপুরাতে ভোটে সময় প্রতিশ্রুতি ছিলো মিস কলে চাকরি। কটা মিস কলে চাকরি হয়েছে কেউ বলতে পারবে না। পারবে না, কারন ওটাও ছিলো ভোটে জেতার জন্য জুমলা। এরাজ্যে এস.এস.সি. পাস করেও হবু শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের অনশনে বসতে হয়। সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার আগে মায়ের পেটে মরতে হয়। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনে পাস করেও চাকরি হয় না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।