বিদেশ

হংকংয়ের সঙ্গে বানিজ‍্য বিচ্ছেদ ঘটালো ট্রাম্প।।


চৈতালি নন্দী: চিন্তন নিউজ:১৫ই জুলাই:- সম্প্রতি মার্কিণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি বিলে সই করেছেন, যাতে এখন থেকে হংকংকে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে আর বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবেনা। এরপর থেকে মার্কিণ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একই সারিতে রাখা হবে হংকং কেও।
হংকংয়ের উপর চীনের নতুন সুরক্ষা আইনটি বলবৎ হবার পর থেকেই ফুঁসছিল মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সুরক্ষা আইনে হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ  ধ্বংসাত্মক কাজকর্ম ও বিদেশী শক্তির সঙ্গে আঁতাতকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়। এর শাস্তিস্বরূপ সেই ব‍্যাক্তিকে আজীবন কারাবন্দি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তুলে নেওয়া হয় হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ক্ষমতা।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল‍্যান্ডের উস্কানিতে তৈরী হয় আতঙ্ক, প্রতিবাদে উত্তাল হয় হংকং।

১৯৮৪ সালের চীন-ইংল্যান্ড চুক্তি অনুযায়ী বলা হয়েছিল ,১৯৯৭ এ হংকং চীনের কাছে ফেরত যাবে । এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য যে একসময় ইংল্যান্ডের উপনিবেশ ছিল চীন। সেসময় চীনাদের উপর অকথ‍্য অত‍্যাচার ও দমনমূলক কাজকর্ম চালিয়েছিল ইংল‍্যান্ড। এরপর থেকেই হংকং বিভিন্ন ধরণের বাণিজ‍্য ও অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধা ভোগ করে আসছিল, যা চীনের কাছে যথেষ্ট মাথাব‍্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মার্কিণ প্রেসিডেন্টের বিল মোতাবেক এরপর থেকে হংকংয়ের  বাণিজ‍্য, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সুযোগসুবিধা খর্ব করা হবে। প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবেনা, যা ওবামা ও বাইডেনের সময় থেকেই পেয়ে আসছিল হংকং। ট্রাম্প অভিযোগ করেন অবাধে হংকংয়ের কাছে মার্কিণ ক্ষেত্রগুলিকে খুলে দেওয়ার ফলে তারা বিভিন্ন গোপন তথ‍্য বাইরে পাচার করেছে যা মার্কিনী দের পক্ষে ক্ষতিকর।
এতোদিন বিভিন্ন চীনা পণ‍্য হংকং হয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হোতো,(লজিস্টিক হাব ) যা বর্তমানে মার্কিনি হস্তক্ষেপ ও নিষেধাজ্ঞায় বন্ধ হতে চলেছে।  চীন যদি হংকংয়ের কোনো বিকল্প ক্ষেত্র পায় তবে তা রুগ্ন করবে হংকংকে। কারণ, যেসব  মার্কিনি ও অন‍্য দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলি এটিকে লজিস্টিক হাব হিসেবে ব‍্যাবহার করতো তারা আর সেই সুযোগ সুবিধা পাবেনা ।ফলে হংকং বানিজ্যিক গুরুত্ব হারাবে। এই অঞ্চলটিকে
লজিস্টিক হাব হিসেবে ব‍্যাবহার করার কারন ছিল ট‍্যাক্সের হার কম, ভৌগোলিক দিক থেকে সুবিধা জনক অবস্থান, এবং মূদ্রার সহজ বিনিময়যোগ‍্যতা।
         চীন আমেরিকার এই পদক্ষেপের উত্তরে জানাচ্ছে, চীনের অভ‍্যন্তরীন বিষয়ে আমেরিকা যেন হস্তক্ষেপ না করে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে,তারাও একইভাবে আমেরিকার উপর অবরোধ করার শক্তি ধরে । নিজেদের স্বার্থেই চীনকে এই হস্তক্ষেপ বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশ্বজুড়ে আমেরিকার একচেটিয়া দাদাগিরির বিকল্প শক্তিধর দেশ হিসেবে চীনের উঠে আসা কি হংকং কে কেন্দ্র করে এক নতুন ঠান্ডা যুদ্ধের জন্ম দেবে?


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।