রাজ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য

এন আর এস কান্ডের জেরে তৃণমূলের অন্দরে উঠল ঝড়!!!



মল্লিকা গাঙ্গুলী: চিন্তন নিউজ: ১৪ই জুুুন:—গত১০ই জুন এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শ্রেষ্ঠতম হাসপাতাল নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজে যে নিন্দাজনক ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে গেছে, তা এখন রাজ্য থেকে দেশ, দেশ ছাড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য বাজারে আছড়ে পরেছে। এন আর এস কান্ডের প্রভাব সমগ্র বিশ্বের চিকিৎসক সমাজ কে এক মেরুতে দাঁড় করিয়েছে। যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকার সঠিক নিরপেক্ষ তদন্ত করে এই ঘটনার মোকাবিলা করতে পারতেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী যদি দক্ষ শাসকের ভূমিকা নিয়ে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন তাহলে হয়তো জল এত দূর গড়াতো না! দুঃখের বিষয় প্রশাসনিক প্রধান হয়েও তৃণমূল সুপ্রিমো এন আর এস কান্ডের আসল অপরাধী দের আড়াল করতে তাঁর স্বভাবগত ঔদ্ধত্যে SSKM এ দাঁড়িয়ে ঐ জুনিয়র ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে অকথ্য, অনৈতিক, অন্যায়, তর্জন গর্জন করে গেলেন। মাননীয়া হয়তো তাঁর অতি সূক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তায়(মোটা মাথায়) ধরে নিয়েছিলেন যে, জুনিয়র ডাক্তারদের ঘাড় ধরে বার করে দেওয়া, হস্টেল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া এমন কি ESMA মতো অমানবিক অনৈতিক হুমকি দিলেই তারা সুড়সুড় করে কাজে ফিরবে? তার কূটনৈতিক বোধ হয়তো বলেছিল, কয়েক দিন ডাক্তার দের কর্মবিরতি চললে রাজ্যে রোগী মৃত্যু বাড়বে যা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের তথা আন্দোলনরত ডাক্তারদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, আর সেই জনরোষ ডাক্তার দের ছত্রভঙ্গ করে দেবে, অথবা ভেবেছিলেন SSC হবু শিক্ষক দের মতো ডাক্তারদের ধর্মঘট ও তেমন প্রভাব ফেলবে না! কিন্তু ফল হলো বিপরীত! স্বাস্থ্য নামক অতি জরুরী পরিষেবা আর ডাক্তার নামক মানবসম্পদের অপব্যবহার জনগন মেনে নিতে পারে না! অচিরেই সারাদেশের সরকারি বেসরকারি, সিনিয়র-জুনিয়র সমস্ত চিকিৎসক দলমত জাতিধর্ম নির্বিশেষে NRS এর পাশে। এবেলা ওবেলা দলে দলে ডাক্তার বাবুরা ইস্তফা পত্র পেশ করছেন। এতদূর পর্যন্ত ও ঠিক ছিল। কিন্তু গতকাল থেকে রাজ্যবাসী প্রত্যক্ষ করছেন, খোদ সরকারী দলের ভিতরে ক্ষোভের আগুন তীব্র ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। নেত্রীর ছায়া সঙ্গী ফিরহাদ হাকিমের কন্যা ডঃ শাবা হাকিম স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ডাক্তারদের প্রতি তৃণমূলের নিষ্ক্রিয়তায় তিনি লজ্জিত। তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, যদি জুনিয়র ডাক্তাররা নিজেদের নিরাপত্তা হীন মনে করেন তারা যেন তার KPC তে চলে আসেন। যে বুদ্ধিজীবীদের বড় বড় তকমা দিয়ে সরকার পুষছেন, যাঁরা একসময় সিঙ্গুর বা নন্দীগ্রাম কান্ডে মাননীয়ার বাহুবল বুদ্ধিবল হয়ে মিছিলের সামনের সারিতে হেঁটেছিলেন সেই সুশীল সমাজের বিশেষ বিশেষ মুখ অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন, বিভাস চক্রবর্তী, রূপম ইসলাম, অনুপম রায়, রা আর কোনো রাখঢাক না করেই এই চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন। কৌশিক সেন প্রশ্ন তুলেছেন, “ক্লাবকে দেওয়ার টাকা আছে স্বাস্থ্য খাতে কেন বরাদ্দ হচ্ছে না?” অপর্না সেন আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জবাব চেয়েছেন, “সমস্যা সমাধান না করে কেন হুমকি দেওয়া হচ্ছে? এরা যদি রাজ্য ছেড়ে চলে যায় তাহলে কি ভালো হবে?” এমনকি নেত্রীর ভাইপো ভাইঝিরাও মুখ্যমন্ত্রীর আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যে কাকলি ঘোষ দস্তিদার কে দিদির দ্বিতীয় সংস্করণ বলা হয় তার ছেলে ও দল বিরোধী কথা বলছেন। এন আর এসের পাশে দাঁড়াতে এইমসের ডাক্তাররা কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানানোর যে বিবৃতি দিয়েছেন তাতে সই করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ শান্তনু সেন। দেশ জুড়ে ডাক্তাররা এন আর এস আন্দোলনে সামিল, এখানে প্রশ্ন হলো, রাজ্যে সরকারি হাসপাতালের সমস্ত ডাক্তারই কি তৃণমূল বিরোধী, এত দিনে তাহলে রাজ্যের ডাক্তাররা সরকার অনুগামী হয়ে ওঠেন নি?? তর্কের খাতিরে না হয় মেনে নেওয়া যায় যে, একই পেশায় যুক্ত জীবন জীবিকার নিরাপত্তার খাতিরেই ডাক্তাররা এন আর এসের আন্দোলন মঞ্চে সামিল। কিন্তু যেভাবে তৃণমূল নেতা কর্মী, মন্ত্রী, সাংসদ, বিশেষ করে তৃণমূল সংস্কৃতির বাহক সুশীল সমাজ প্রত্যক্ষভাবে তাদের দিদির বিরোধিতা করছেন এ কোন অশনি সংকেত!! NRS কান্ডের প্লাবনের জল দলের মাথার ওপর দিয়ে বইতে শুরু করেছে! সাহস করে এখনও যারা মুখ খুলতে পারছেন না, খুব শীঘ্রই আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন সন্দেহ নাই। NRS কান্ডকে আর নিছক ডাক্তারদের বিশেষ অংশের বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা বলা যায় না! রাজ্য রাজনীতির ঘরের ভিতরে ঢুকে পড়েছে এই আন্দোলন। মাননীয়ার তর্জন গর্জন হম্বিতম্বি জুনিয়র ডাক্তারদের দমন করতে তো পারলোই না, বরং তা আরও প্রকট আরও বিস্তৃত হলো। আর সঙ্গে সঙ্গে এতদিন ছাইচাপা আগুনের মত তৃণমূল দলের অন্দরে যে ক্ষোভ ধিকিধিকি জ্বলছিল, NRS নামক দমকা হাওয়া সেই তুষের আগুনকে দাবানলের মতো ছড়িয়ে দিয়েছ। অচিরেই এই আগুন মূল ফুল থেকে দলের শেষ বৃক্ষটিকেও পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়ার জন্য চিকিৎসক আন্দোলন ইতিহাস গড়তে চলেছে। একেই বোধ করি বলা যায়
শেষের শুরু, শুরু হতে চলেছে


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।