রাজ্য

লকডাউনে বীরভূমের গ্রাম ও শহরে যুবকরা সদা জাগ্রত


রাহুল চ্যাটার্জি:চিন্তন নিউজ:২৫শে মার্চ:- মহামারী আটকাতে লক ডাউন অতি আবশ্যক। এই প্রক্রিয়া যত দীর্ঘায়িত হবে , ততো সুফল মিলবে। যেহেতু এই রোগ মহামারীর পর্যায়ে চলে গেলে এ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে , এতো বড় দেশে এই বিশাল জনসংখ্যার মাঝে তাকে আর সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না । তাই একে শুরুতেই আটকে দিতে হলে লক ডাউনের কোন বিকল্প নাই।তবে তা কেউ বুঝেছে- কেউ বুঝেও বুঝতে চাওয়ার মানসিকতা দেখাতে নারাজ।।

একদল জাগরিত এবং সচকিত, নিজের থেকে পদক্ষেপ নিয়ে দল গড়ে গ্রামের লোককে সাবধান করে চলেছে, বাইরে থেকে আসা লোকজনের প্রতি ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং দরকার হলে গ্রামেও লক ডাউন বা গ্রামে ঢোকার পথ বন্ধ করছে‌। আর আরেকদলের এখনো বক্তব্য, “আমরা পাড়া গাঁয়ের খেটে খাওয়া লোক। রোদে, জল, ঝড়ে বারো মাস কাজ করছি, অনেক জিনিস এলো আর গেলো, এটা আর এমন কি বটে”।
কিন্তু সময় বা পরিস্থিতি যে এই দ্বিতীয় পক্ষের মত নিয়ে চলার মত নয় সেটা বোঝেন বীরভূমের বুধিগ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত লাহা গ্রামের যুবকেরা ।।

আশেপাশের গ্রাম গুলিরও চিত্র মোটামুটি একই। কোনো গ্রামে হ্যান্ডবিল বিলি করে,কোথাও মাইকিং করে আবার কোথাও দেওয়াল লিখে চলছে মানুষকে সতর্ক করার চেষ্টা। কিছু কিছু এলাকায় মাস্ক-স্যানিটাইজার সহ সাবান বিলি করাও সম্ভব হয়েছে ক্লাব-বা এনজিও গুলির পক্ষ থেকে।। গতকাল তারাপীঠ শ্মশান এলাকার ভিক্ষুক-সাধু-সন্তদের দুপুরে খাবার ও মাস্ক বিলি করে একদল যুবক তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে।। পার্শ্ববর্তী তারাপুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেও শুরু হয়েছে তৎপরতার সাথে কাজকর্ম।। বাইরে থেকে যারা এই কদিনে এসেছেন তাদের কাউকে রাখা হয়েছে কোয়ারেন্টিনে বা গৃহবন্দি করে।। গ্রামের লোকজনের পাশাপাশি প্রশাসনও এ ব্যাপারে অবলম্বন করছেন চরম সতর্কতা।।

রামপুরহাট বাসস্ট্যান্ডে বাস শ্রমিকও অন্যান্যদের মধ্যে ডেটল সাবান বিতরণ ও করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতা কর্মসূচি নিয়েছেন একদল যুবক।

তবে কিছুদিন পর যাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পয়সা শেষ হবে তাঁদের কি হবে?? যারা দিন আনে দিন খায় , পরের অধীনে খাটে , লেবার , হকারি করে বা ছোটোখাটো ব্যবসা করে , গ্রামে গঞ্জে মাল ফেরি করে, ভীড় জনিত এলাকাই যাদের পেটের ভাত জোটে , মন্দির-মসজিদ চত্বরের ভিখারীরা , বর্জ্য কুড়িয়ে দিন গুজরান করা লোকেরা , রিক্সা-টোটো-অটো চালায় , তাঁদের গচ্ছিত পুঁজি ফুরিয়ে গেলে তাঁরা কি করবে ?
এই বিষয়ের ওপর ভেবে দেখাও দরকার বলে মনে করছেন বীরভূমের এই এলাকার যুব সম্প্রদায়।। বিভিন্ন এলাকায় তারা এগিয়ে এসে দায়িত্বও নিয়েছেন কিছুটা – অনেকটা সফলও।। তারা খুব ভালো করেই বুঝেছেন যেদেশে মাথাপিছু গড় আয়ের অংকটা বাকি দেশগুলোর থেকে কম , যেদেশে জনসংখ্যার তুলনায় কর্মসংস্থানের জায়গার ঘাটতি , যেখানে উৎপাদিত জিনিসের থেকে তা খরচ করার লোকের সংখ্যা বেশি , সেদেশের সরকারকেও বাকিদের এই সমূহ বিপদ নিয়ে আরও ভাবতে হবে এবং তা খুব তাড়াতাড়ি ।।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।