রাজ্য

‘এই মিছিল সব হারার, সব পাওয়ার এই মিছিল’।


শ্যামল: চিন্তন নিউজ:১৬ই ডিসেম্বর:– ২১ দিন পার হয়ে গেল। কর্পোরেট হাউসের স্বার্থে, আরো সুনির্দিষ্টভাবে বলা যেতেই পারে আদানী-আম্বানীদের স্বার্থে মোদী সরকারের আনা তিনটে নয়া কৃষি বিল সহ বিদ্যুৎ বিল বাতিলের দাবীতে লাখো লাখো কৃষক খোলা আকাশের নীচে অবস্থান আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। নানাভাবে এই আন্দোলনকে ভাঙ্গার চেষ্টা চালানো হয় এবং এখন হচ্ছে। প্রথমে কেন্দ্র সরকার ও বি জে পি দল আন্দোলন ভাঙ্গার জন্য নানাবিধ চক্রান্তও চালাচ্ছে। জনভিত্তি না গড়ে তার জন্য প্রথমে এই আন্দোলনকে একটি রাজ্যের আন্দোলন কিংবা খালিস্তানী আন্দোলন, আবার কখন জঙ্গীদের আন্দোলন বলে তকমা দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিনই এই আন্দোলন জন সমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের প্রতিটি রাজ্যের শুধু কৃষক সংগঠন নয় ছাত্র-যুব-শ্রমিকদের গণসংগঠনও এই আন্দোলনের সমর্থন করছে। বাম ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলিও সক্রিয়ভাবে সমর্থনে এগিয়ে এসেছে।
দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ১৬ ডিসেম্বর কলকাতার রাজপথে সারা ভারত কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটির পশ্চিমবঙ্গ শাখার আহ্বানে রাজভবন চলো অভিযানে রানী রাসমনি রোডে জমায়েতে অংশগ্রহন করে এই রাজ্যের ২১টি কৃষক ও ক্ষেতমজুর সংগঠন। সমর্থনে এগিয়ে আসে সি পি আই (এম) ও সি আই টি ইউ-ও। আমাদের রাজ্যেও কৃষকরা চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এখানেও কৃষকরা ফসলের নায্য দাম পাচ্ছে না, আত্মহত্যা করছেন। তাই, এই জমায়েত শুধুমাত্র দিল্লির কৃষকদের সমর্থনে নয়, আমাদের রাজ্যের কৃষকদেরও আস্থার বার্তা নিয়ে এসেছে। হ্যাঁ, আজ কলকাতার রাজপথ সেই গানটাই মনে করিয়েছে—
‘গ্রাম নগর- মাঠ পাথার বন্দরে তৈরী হও
কার ঘরে জ্বলেনি দীপ, চির আঁধার তৈরী হও।।
কার বাছার জোটেনি দুধ শুকনো মুখ, তৈরী হও,
ঘরে ঘরে ডাক পাঠাও, তৈরী হও, জোট বাঁধ,
মাঠে কিষাণ, কলে মজুর, নওজোয়ান জোট বাঁধ
এই মিছিল সব হারার, সব পাওয়ার এই মিছিল’।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।