কলমের খোঁচা

ওরাই নূতন যৌবনের দূত


শান্তনু বোস : নিজস্ব প্রতিবেদন: চিন্তন নিউজ: ১০/০৬/২০২৩:- গরমের দাপট অব্যহত। সকাল দশটায় বাড়ির বাইরে থাকলে জামাকাপড় ঘামে ভিজে চুপচুপে হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ রাস্তায় দেখা হয়ে গেলো কয়েকজনের সাথে। অভিষেক বসু, সুপ্রিয়া এবং আরও কয়েকজন। সবার নাম মনে থাকে না, কিন্তু মুখ গুলো চেনা। এই আত্মকেন্দ্রীকতার যুগে এরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর দল। নিজের যৌবনের ছায়া দেখতে পাই এদের মধ্যে। তাই দাঁড়িয়ে একটু কথা বলি। এরা কোভিড পরিস্থিতিতে রেড ভলেন্টিয়ার হয়েছিল। এরা রাজনীতি করে। হ্যাঁ, এরা সেই রাজনীতি করে, যারা দীর্ঘ এক যুগ ধরে ক্ষমতার ধারে কাছেও নেই। শুনলাম, এরা রক্তদান শিবির করছে। এই দাবদাহে হাসপাতাল গুলোতে রক্তের যোগান স্বাভাবিক ভাবেই কম থাকে। হাসপাতালে রক্তের যোগান ঠিকঠাক রাখতে এরা সাংগঠনিক ভাবে ক্যালেন্ডার তৈরি করে হাসপাতালে রক্তের যোগান ঠিকঠাক রাখতে চেষ্টা করে। আমার মতো সামাজিক সংকট থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা ছা-পোষা মধ্যবিত্তের কাছে এরা বনের মোষ তাড়ানোর দল।


দুপুরের খাওয়াদাওয়া সেরে শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঘরে চোখটা একটু লেগে এসেছিল। হঠাৎ খেয়াল হল চারটের সময় ওদের সান্ধকালীন রক্তদান শিবির শুরু হওয়ার কথা। উঠে পড়লাম। জামাটা গায়ে চাপিয়ে বের হওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছি। গৃহিণী বললো,
—-“এই গরমে রোদের মধ্যে কোথায় চললে?”
আমি বললাম,
—–” সমাজে বাস করি তো, তাই কিছু দেনা তৈরি হয়ে গেছে। সেই দেনা কিছুটা শোধ করার চেষ্টা করতে যাচ্ছি।”
গৃহিণী তো মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝলো না। এমন ভাবে তাকিয়ে রইলো, মনে হল আমাকে একবার মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছে।
মেরেকেটে দশ-বারোটা ছেলে মেয়ে। এই দগ্ধ দিনে রক্তদান শিবির করার হিম্মত দেখিয়েছে। হিম্মতের উৎস বলতে একটা আদর্শ। যে আদর্শ সমাজটাকে অন্য রকম ভাবে দেখতে শেখায়। যে আদর্শ গোটা পৃথিবী জুড়ে সবাই মিলে বেঁচে থাকার লড়াইয়ের নেশা ধরায়। শুধুমাত্র সংগঠনের সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে লেখার জন্যে কর্মসূচী নয়, সেটা শীতকালেও করা যেতে পারতো। জুন মাসের দগ্ধ দিনে এটা একটা বৈপ্লবিক কাজ। ওই দশ-বারোটা ছেলে মেয়ে আমার কাছে দশ-বারোটা অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। এরাই পারে দাবানলের বহ্নিশিখা সমাজে ছড়িয়ে দিতে। পুড়িয়ে ছারখার করে দিতে পারে জরাজীর্ণ সিস্টেমটাকে। মোট ৫৪ জন রক্তদাতা যার মধ্যে ১০ জন মহিলা। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরের দিবানিদ্রার আবেশ কাটিয়ে এদের পাশে না দাঁড়ানোটা পাপ। এই পাপের বোঝাই বয়ে বেড়াচ্ছে গোটা সমাজ আর নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে সামাজিক অবক্ষয় আর দূর্নীতির জন্যে হাহুতাশ করে চলেছে।
ভারতের গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন, হুগলী এড়িয়া কমিটি এবং ৩ নং শাখার সদস্য সদস্যাদের কুর্নিশ করি। এরাই আশা জাগায়, এরাই বাঁচিয়ে রাখে যৌথ খামারের স্বপ্ন।



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।