কলমের খোঁচা

স্বার্থপর ও ধান্দবাজের ইতিকথা:–


দেবু রায়: নিজস্ব প্রতিবেদন: চিন্তন নিউজ:১৯শে মে:– মানুষ আজ নেই মানুষ, দুনিয়াটা শুধুই স্বার্থপরদের। ভাই বন্ধু পরিজন , সবাই নিজের ব্যক্তিগত ধান্দা বাজিতে বিশ্বাসী!

হ্যাঁ গত লকডাউন এর সময় থেকেই আমরা দেখেছি , একদিকে অপরিকল্পিত লকডাউনের ঘোষণার ফলে অনেক মানুষকে পড়তে হয় চরম দুর্দশার, মধ্যে। কারোর ঘরে খাবার ছিলো না, কি ভাবে বাড়ি ফিরবে তার কোনো উত্তর ছিলো না, যারা অসুস্থ্য ছিলো তাঁদের চিকিৎসার কি হবে? তার কোনো উত্তর ছিলো না, রক্তের দরকার হলে কি হবে ? এই সব হাজার প্রশ্ন’র মধ্যে দিয়ে শুরু হয় লকডাউন ,
সেই সময় বাম ছাত্র যুব সংগঠন শুরু করলো শ্রমজীবী বাজার, যার মাধ্যমে বিনা পয়সায়, সবজি , চাল- ডাল সহ খাদ্য সামগ্রীর বিতরণ. বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে! ঢাকুরিয়া যাদবপুর থেকে শুরু করে দমদম বেলঘরিয়া সহ সারা রাজ্যে প্রায় সাতশো অঞ্চলে।
এর ফলে শুধু গরিব বস্তিবাসী অঞ্চলের মানুষেই উপকৃত হননি , উপকৃত হয়েছিলেন অনেক ফ্ল্যাটে থাকা মধ্যবিত্তরাও, কারন সবচেয়ে এফেক্টড ছিলো এঁরাই, রোজগার কমে যাওয়া, বা কাজ চলে যাওয়া র কারনে।

শুধু সবজি বাজার বা ক্যান্টিন নয়, তার সাথে রক্তদান, ঔষধ ইত্যাদি, যার ফলে অনেক মানুষ উপকৃত হন .এর পরেই মে মাস থেকে শুরু হলো যাদবপুর থেকে শ্রমজীবী ক্যান্টিন, ক্রমে সেটা পড়তে শুরু করলো সোনারপুর থেকে বেহালা, দমদম থেকে রায়গঞ্জ, প্রায় সাতশো মতন জায়গায় প্রতিদিন কুড়ি টাকার বিনিময়ে খাবার বিতরণ , আমি নিজেই দেখেছি যাঁরা খাবার নিচ্ছেন তাঁদের সকলেই প্রায় মধ্যবিত্ত অথবা নিম্ন মধ্যবিত্ত, যাঁদের লকডাউনের সময় রোজগার হয় কমে গেছে নয়তো কাজ বন্ধ। কিন্তু এই মানুষ গুলো এতো উপকার পাবার পরে কি প্রতিদান দিলেন সেটা আমরা দেখতে পেলাম পরবর্তী কালে।

আমফান পরবর্তী সময় বিদ্যুৎ পাঁচ -ছয় দিন না থাকার ফলে কী সমস্যা বা পনের টাকার আলু পঞ্চাশ এই গুলো না হয় বাদ দিলাম, কিন্তু যাঁরা যাঁরা এতো উপকার পেলেন তাঁদের প্রতিদান বলে আর তাঁদের লজ্জায় ফেলতে চাই না,
আজও ইউনিভার্সিটি র কৃতি বাচ্চা -বাচ্চা ছেলেরা নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথাকে না ভেবেই এই পেন্ডেমিক অবস্থায় রেড ভলেন্টিয়ার নাম দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে কিন্তু কাদের জন্য?. যারা সবসমই নিজেদের ধান্দা, স্বার্থ টাকে বড়ো করে তাঁদের জন্যে?. সত্যি একএক সময় মনে এই বাচ্চা ছেলে গুলো কতো বোকা!

আমি একটা প্রশ্ন করছি বলুনতো এই সময় কেন চিৎকার করছি, অক্সিজেন নেই, ভ্যাকসিন নেই, বেড নেই, আচ্ছা বলুন তো আমাদের কি নৈতিক অধিকার আছে ? এই বিষয়ে সরকার এর দিকে আঙ্গুল তোলার? আমরা কি ভোটের সময় এই গুলো ভেবেছিলাম? আমাদের কাছে প্রধান ছিলো মন্দির, পাকিস্তান, বাংলাদেশ। আমরা মন্দির পেয়েছি , পাকিস্তান আজ চুপ , চিন ঠান্ডা , তাহলে কেন আমরা স্বাস্থ্য, টিকা, অক্সিজেন, বেকারত্ব এই সব নিয়ে প্রশ্ন তুলবো?অথচ দেখুন আমরা সবাই কত শিক্ষিত, আমাদের বিবেক আমরা কোথায় বিক্রী করে দিয়েছি ভাবুন গঙ্গায় যখন লাশ দেখি তখন আমাদের কষ্ট হয় না, কিন্তু আজ যদি গঙ্গায় মানুষের বদলে গরুর লাশ দেখতাম তাহলে কুরুক্ষেত্ৰ বেঁধে যেত। সত্যি সেলাম জানাই এই সমাজকে, যেখানে অধিকাংশ মানুষের কাছে লোভ, ধান্দাবাজি, স্বার্থপরতাটাই মুখ্য।আর এই ভাবেই চলবে .

দুঃখের বিষয় হলো আমরা যতটা ধর্ম নিয়ে সচেতন তার সিকি ভাগ যদি নাগরিক অধিকারের বিষয় সচেতন হ’তাম তাহলে আজকে দেশে যা দেখছি তার অনেক কিছুই হয়তো দেখতে হতো না, দেশটা অন্য ভাবে তৈরি হতো।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।