বিদেশ

ব্রিটেনে জোরালো হচ্ছে ভাঙনের শব্দ।।


চৈতালি নন্দী: চিন্তন নিউজ:২৮শে জুলাই:– একদিকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের(ই ইউ) সঙ্গে  অর্থনৈতিক চুক্তির অমিমাংসিত ধাক্কা, অপরদিকে দিন দিন জোরালো ও তীব্র হচ্ছে স্কটল‍্যান্ডের স্বাধীনতার দাবী। এই দুই জোড়া ফলায় বিধ্বস্ত ব্রিটেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মনে করেন বর্তমানে ই ইউ ব্রিটেনের পক্ষে উপযুক্ত নয়, জনমত প্রতিফলিত হয়েছে ব্রেক্সিট এর মধ‍্যে দিয়েই। এরই মধ‍্যে স্কটল‍্যান্ডের স্বাধীনতার দাবী তীব্রতর হচ্ছে প্রতিদিন। যা শেষপর্যন্ত ব্রিটেনকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।
একসময়ে শাসক ও ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ছিল ব্রিটেন। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন মনে করেন নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। ব্রিটেনের শক্তিশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু স্কটল্যান্ড কে বাদ দিয়ে ব্রিটেন কিভাবে ফিরে পাবে তার হৃত সম্মান!

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এর এক বার্তায় মন্তব্য করা হয়েছে, মহামারীর সময়ে স্কটল্যান্ড ব‍্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, জনপ্রিয়তা লাভ করেছে সে রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী নিকোলার জনকল‍্যাণকামী ভাবমূর্তি, যা ব্রিটেনের সরকারি স্তরে নেওয়া হয়নি। এতে জনসমর্থন বাড়তে থাকে মুখ‍্যমন্ত্রী নিকোলার, জোরদার হতে থাকে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবি।

এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ২০১৪ সালে স্বাধীনতার প্রশ্নে স্কটল‍্যান্ডের যে গণভোট হয় , তাতে বিপক্ষের কাছে স্কটল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী দল ১০% ভোটে পরাজিত হলেও তাদের আশা ছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ স্বাধীনতার পক্ষেই রায় দেবে। তাদের সেই প্রচেষ্টার পূরণ হয় ২০১৫ সালে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে স্কটল্যান্ডের ন‍্যাশনালপার্টি (এসএনপি), যারা স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। তারা হাউস অব কমন্সে ৫৯টি আসনের মধ‍্যে ৫৬ টিতে জয়লাভ করে। ঠিক এর পরের বছর ব্রেক্সিটের পক্ষে ব্রিটেনের বিরুদ্ধে রায় দেয়‌ বিপুল সংখ্যক স্কটল‍্যান্ডবাসী।
মহামারীকালে এই ব‍্যবধান বেড়ে যায় স্কটল‍্যান্ডের মুখ‍্যমন্ত্রী নিকোলার সুচিন্তিত জনকল‍্যাণকামী কর্মসূচির মাধ‍্যমে, যদিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল স্কটল্যান্ড।অন‍্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর হঠকারী পদক্ষেপের ফলে আক্রান্ত বরিস জনসন তথা ব্রিটেন পিছু হটতে থাকে, যা এককথায় সংঘাতের চেহারা নিয়ে বিচ্ছেদের দিকে নিয়ে যায় স্কটল্যান্ডকে। বাড়তে থাকে ব‍্যবধান, ৯০ এর দশক থেকে ব্রিটেন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব‍্যবস্থাকে রাজ‍্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছিল। সেই ক্ষমতাবলে একেরপর এক  সিদ্ধান্ত নিতে থাকে মুখ‍্যমন্ত্রী নিকোলা, যা ব্রিটেনের ভূল নীতি সম্বন্ধে জনগনকে সচেতন করে।

স্কটল্যান্ডের শিক্ষাবিদ ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জন কার্টিস বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন গত একবছরে স্কটল‍্যান্ডবাসীর মানসিকতার প্রভূত পরিবর্তন হয়েছে, যারা ব্রেক্সিটের পক্ষে ছিলেন তারা ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার কথা বলছেন। কর্টিসের কথার প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে এন এন পি সাংসদ টমি শেফার্ডের কন্ঠেও। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী যতো স্কটল‍্যান্ডে আসবেন, স্বাধীনতার আওয়াজ ততোই তীব্র হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।