দেশ রাজ্য

আমফান বিপর্যস্ত এলাকায় সরকারি কাজের ধীরগতি মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে।


সূপর্ণা রায়:চিন্তন নিউজ:২৬শে মে:- আমফান তার তান্ডব চালিয়েছে আজ সাতদিন পার হয়ে গেল। এদেশ ছেড়ে বিদেশেও শক্তি হারালো। কিন্তু মিটলো না জল ও বিদ্যুতের সমস্যা। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের দূর্ভোগ শেষ হচ্ছে না কিছুতেই। আজ সাতদিন পার করেও জল ও বিদ্যুতের জন্য হাহাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে। কোন উপায়ান্তর না দেখে শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন জায়গায় পথ অবরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন সাধারণ মানুষজন।। তাঁরা জানিয়েছেন যে তাঁদের প্রশাসনের উপর আর কোন ভরসা নেই তাই বাধ্য হয়েই পথ অবরোধে সামিল হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও কলকাতা কর্পোরেশনের দাবী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিন্তু বাস্তবে তা এত ধীরগতিতে হচ্ছে যে কাজের কোন অগ্রগতিই ঘটছে না বলে খবরে প্রকাশ।। মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গুঁড়িয়ে ছাড়খাড় হয়ে যাচ্ছে।। এরই সাথে যুক্ত হয়েছে সিইএসসি ও কলকাতা কর্পোরেশনের উদ্ভট কার্যকলাপ। প্রশাসন মানুষের চাহিদা পূরণ করতে তো পারছেই না উল্টে স্থানীয় তৃনমুলের দাদারা ও মাঝারি নেতারা গুন্ডামি করে বিদ্যুৎ কর্মী ও বিপর্যয় মোকাবিলা করার গাছ কাটার দলকে ছিনতাই করে নিজের এলাকায় কাজ করানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছে। যে যে অঞ্চলে বামপন্থী কাউন্সিলর আছেন সেখানে কাজই করতে দিচ্ছে না এই মহাশক্তিধর নেতা কুল।। এই সব কান্ডকারখানা দেখে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছেন।। বিভিন্ন স্থানে সিইএসসি ও যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পর্ষদের টীম কাজ করছে রীতিমতো তাঁদের নিয়ে টানাটানি চলছে।। মাঝখানে পড়ে এই সমস্ত কর্মীরা কাজ করতে পারছেন না এবং ভয়ানক হেনস্থার শিকার হচ্ছেন।। বিক্ষোভ তাঁদের ভিতরেও ঢুকে পড়ছে।। কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও জল এসেছে ফলে তাঁরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন।। কিন্তু এখনও অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ ও জল আসে নি ফলে ওই সব এলাকার মানুষ এর দূর্ভোগ ও শেষ হয়নি।। দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ আসে নি।। উঃ ২৪ পরগনার নিউব্যারাকপুরের মাসুন্দ অঞ্চলের বাসিন্দারা জল ও বিদ্যুৎ না পেয়ে সারারাত ধরে পথ অবরোধ ও বিক্ষোভ চালান __পরে সোমবার সকালে সেই জায়গায় বিদ্যুৎ আসে।। এদিনও বন্ধ ছিল সাজিরহাট ও পানিহাটি শ্মশান।। যেসব এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে মানুষ সেই সব এলাকায় তৃনমুল এর গুন্ডা বাহিনী ও পুলিশ একযোগে আক্রমণ চালাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।।বিলকান্দা ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধানের ভাই দের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সিপিআইএম এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এই গ্রেফতার এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।। বিদ্যুৎ দিতে পারছে না অথচ পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করাচ্ছে ,এই খবর জানতে পেরে মানুষ আর ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।।

কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অনেক বড় বড় বহু প্রাচীন ও দামী গাছ মাটি থেকে উপড়ে পড়ে গেছে।। ঘটনা ঘটার তিন দিন পর অর্থাৎ বেশ দেরি করেই সেনাবাহিনী নামানো হয় গাছ কাটার জন্য।। পাশের রাজ্য ওড়িশা পশ্চিমবঙ্গকে গাছ কাটার জন্য দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা টীম পাঠিয়েছে।। এত কিছু সাহায্য স্বত্বেও পশ্চিমবঙ্গের সরকার কাজের গতি আনতে পারে নি।। মানুষের পানীয় জলের প্রচন্ড অভাব। আগুন দরে খাবার জল কিনতে হচ্ছে।। জেনারেটার চালিয়ে বহুতল গুলোতে জল তোলার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।। কিন্তু আগুন দর হাঁকছেন জেনারেটর মালিকরা।। একেকবার জল তুলতে ৬০০/- টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে।। অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ বৃদ্ধারা এই প্রচন্ড গরমে।।।
অব্যবস্থা দেখে বামফ্রন্ট পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী বিস্তর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।। তিনি বলেন অনেক দিন আগের থেকেই এই ঘূর্ণিঝড়ের খবর ছিল তাও কেন রাজ্যসরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে নি বলে স্পষ্ট অভিযোগ করেন।। তিনি জানতে চান কবে হবে জেলার গ্রামাঞ্চলের পুনর্গঠন।। রাজ্যসরকারের সাহায্যের প্রয়োজন থাকলে নির্দ্বিধায় বলতে বলেন বামফ্রন্ট সাহায্য করতে প্রস্তুত।।

ইতিমধ্যে সিইএসসি এর ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে তৎপর রাজ্যসরকার অথচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে আঁকা ছবি সিইএসির কর্নধার কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন তখন তিনি খুব ভালো ছিলেন।। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিটি বিদেশ সফরের সঙ্গী সিইএসসির এই কর্নধার।। সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য শুধু সুখের সময় থাকলে হবে না বিপদে পড়লে স্বচ্ছ ভাবে কাজ করতেও হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।