জেলা

জলপাইগুড়ি জেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আবর্জনা নিষ্কাশনে বাধ্য হয়ে পথে নামল জেলা প্রশাসন।


দীপশুভ্র সান্যাল, জলপাইগুড়ি,: চিন্তন নিউজ:২০শে মে:- জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়ালো জলপাইগুড়ি পৌরসভা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানালেও,ইতিমধ্যে সক্রিয় ডেঙ্গু মশার জীবন চক্র  নির্দিষ্ট সময়ের পরেই ভাঙা সম্ভব , জানাচ্ছেন স্বাস্থ্য দপ্তরের বিশেষজ্ঞরা।

ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ি জেলার বাগরাকোর্ট  চা বাগানেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪, অন্যান্য ব্লক মিলিয়ে এই সংখ্যা ১০০ পার করেছে।
সাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যে যুদ্ধকালীন তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, পাশাপাশি সাস্থ্য দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের মতে বাগরাকোর্ট চা বাগানে দীর্ঘদিন থেকে অসাবধানতাবশত যে  দুটি প্রজাতির মশা এই ডেঙ্গুর বাহক যার মধ্যে একটি হলো এডিস ইজিপ্টেটাই, অন্যটি এলবো পিকটাস, তার বংশ বিস্তার করে ফেলেছে ,তার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে কীটনাশক ব্যবহার করার পরেও মশার জীবন চক্রের ওপর নির্ভর করতেই হবে, সেই হিসেবে আগামী দশ থেকে পনেরো দিন এই ডেঙ্গুর প্রভাব বজায় থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে আসবে, যদিও এরই মধ্যে সমস্ত সতর্কতা মূলক ব্যাবস্থা কঠিন নিয়মের সাথে পালন করতে হবে বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
জেলায় ডেঙ্গুর প্রভাব প্রসঙ্গে উপ মুখ্য সাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার মৃদুল ঘোষ জানিয়েছেন , মূলত একটি চা বাগানেই এবার জমা জলে ব্যাপক হারে জন্ম নিয়েছে ডেঙ্গুর বাহক মশা, যার ফলে ওই অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে জেলা সাস্থ্য দপ্তর দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে, প্রতিনিয়ত পরিস্থির ওপর নজর রাখা হচ্ছে ।

যদিও জলপাইগুড়ি পৌরসভার চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল জানান, সারা বছর ধরেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কাজ করা হয় , এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়তি নজরদারির পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানালেও বাস্তবে বিগত পৌর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৫ টি আসনের মধ্যে ২২ টি তে জয়ী হওয়ার পর নিজেদের আভ্যন্তরীন গোলযোগের কারণে পৌরপতি শপথ নেওয়ার দুমাস পেরিয়ে গেলেও তৈরি করা যায়নি পৌরবোর্ড। যার জেরে বিঘ্নিত হচ্ছে জঞ্জাল নিষ্কাশন থেকে শুরু করে পৌরসভার দৈনন্দিন পরিষেবামুলক কাজকর্ম। জলপাইগুড়ি শহরের বিভিন্ন এলাকায় আবর্জনার স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা গেলেও আবর্জনা নিষ্কাশনে উদাসীন পৌর প্রশাসন ।

অন্যদিকে জেলায় ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়ে চলায় পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসনের উপর ভরসা না করে এবার রাস্তায় নামল জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন। সংক্রমণের মাত্রা বৃদ্ধিরোধ করার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সাফাই অভিযানে জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার সকালে জেলাশাসকের নির্দেশে জলপাইগুড়ি শহরেও শুরু হয়েছে সাফাই অভিযান। ডেপুটি ম‍্যাজিস্ট্রেট অরিন্দম বিশ্বাসের উপস্থিতিতে দুপুর থেকেই অভিযান চলছে শহরজুড়ে। জলপাইগুড়ি শহরের যেসব জায়গায় নোংরা আবর্জনা জমে রয়েছে তা পরিস্কার করাচ্ছেন তিনি। এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার মহাকুমার বাগরাকোটে ৫৪ জন ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হয়েছেন। গোটা জেলা‌য় আক্রান্তের সংখ্যা এই মুহূর্তে শতাধিক। তাই আগাম সতর্কতার জন্য লাগাতার এই সাফাই অভিযান চলবে বলে ডেপুটি ম‍্যাজিস্ট্রেট জানান। জেলা‌র সর্বত্রই মানুষ‌কে আরও বেশি করে সচেতন হওয়া‌র আবেদন করেছেন তিনি। প্রশাসন সূত্রের খবর পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না চলে যায় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও জেলা প্রশাসন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।