দেশ

প্রয়োজন রেশনের, ভাষণের নয়, আপাদমস্তক পরনির্ভরশীল দলের মুখে আত্মনির্ভরশীল হ’তে বলা শুধু পরিহাস


স্বাতী শীল : চিন্তন নিউজ:১৭ই মে:- যে দলটি নিজেই আপাদমস্তক পরনির্ভরশীল তার মুখে আত্মনির্ভরশীলতার কথা শোভা পায় না। বিজেপি দলটি একসময় কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়ার এজেন্ডা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তারা আদপে নিজেরাই কংগ্রেস নির্ভর একটি দল। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভরশীল ভারত গড়ার মন্তব্যকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম।

গত মঙ্গলবার অর্থাৎ ১২ ই মে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতকে আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে কুড়ি লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী, যার আদপে কোন সারবত্তা নেই।ভারতকে আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে দেশীয় পণ্য কেনার জন্য উৎসাহ দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করে একটি ফেসবুক লাইভে মহম্মদ সেলিম বলেন যে, প্রধানমন্ত্রীর পেন- চশমা- ঘড়ি -গাড়ী- জুতো, এমনকি তাঁর জন্য বিশেষ বিমান,সবই তো আসে বিদেশ থেকে। এমন কি খাবারে যে মাশরুম তিনি খান তাও আসে সেই বিদেশ থেকেই। আর তিনি জনগণকে লোকাল জিনিস কিনতে বলছেন। সাধারণ মানুষের সাথে এর চেয়ে বেশি প্রহসন আর কি হতে পারে?

কেন্দ্র সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেছেন যে রাফায়েল বিমান তৈরীর বরাত অভিজ্ঞ রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি হ্যাল(HAL) কে না দিয়ে রাতারাতি গজিয়ে ওঠা অনিল আম্বানির কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছিল। একে কি স্বনির্ভরতা বলা যায় নাকি এটা নিছকই স্বজনপোষণ? আসলে আদানি আম্বানিদের মত যারা টাকা দিয়ে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতার শীর্ষে বসিয়েছে আর মোদি মোদি বলে চিৎকার করিয়েছে সবাইকে দিয়ে, তাদেরকে এভাবে সুদে আসলে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এইভাবে চললে বর্তমানে আমাদের দেশে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, কাজ হারানো মানুষদের যে প্রবল আর্থ সামাজিক সংকট,তা বিন্দুমাত্র দূর হবে না, বরঞ্চ তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেছেন। তিনি আরো বলেন যে, গুজরাটের বল্লভ ভাই প্যাটেলের মূর্তি চীন থেকে আনা। এমনকি মেক ইন ইন্ডিয়ার লোগো পর্যন্ত কোন ভারতীয় সংস্থা নয় বিদেশি সংস্থাকে দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যেখানে,সেখানে এই সরকার কিভাবে আর কোন মুখে আত্মনির্ভরতার কথা বলে? তিনি বলেন যে,” আগে বিজেপি বলুক যে আমরা আত্মনির্ভর, আমরা অন্য দলের সাংসদ বিধায়কদের কিনব না। তারপর না হয় দেশের মানুষকে আত্মনির্ভর হতে বলবে।” একটি আপাদমস্তক পরনির্ভরশীল দলের মুখে আত্মনির্ভরশীলতার কথা নিতান্তই হাস্যকর,,

লক ডাউনের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিযায়ী বা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে মহম্মদ সেলিম বলেন যে, ভোটের সময় বা ভোটের প্রচার এর সময় যখন এই মোদি শাহ র নির্বাচনী সভা হয় তখন বিজেপি একসাথে দশ-বারোটি ট্রেন বুক করে ফেলে। বিনামূল্যে খাবার দিয়ে ট্রেনে করে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষকে আনা হয় সভাস্থলে। আজ সেই মানুষগুলোর থেকে জানতে ইচ্ছে করছে যে, আজ যখন আপনাদের অভিবাসী ছেলে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনের প্রয়োজন, তখন সরকার ট্রেন দিচ্ছেন না কেন? কেন লকডাউন এর ৫০ দিন পরে ট্রেন দেওয়া হলেও কাজ হারানো ক্ষুধার্ত ,আশ্রয়হীন, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় ভীত মানুষগুলোর থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে সরকার এর কি সত্যি কোন উত্তর আছে ?

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত আর্থিক প্যাকেজ সম্পর্কে তিনি বলেন যে, কুড়ি কোটি টাকার প্যাকেজ এর পরতে পরতে রয়েছে মহামারীর সুযোগ নিয়ে বেসরকারি পুঁজিকে আরো শক্তিশালী করে তোলার নগ্ন সরকারি কৌশল। তিনি আরো বলেন যে,যেই সরকার কিছুদিন আগেই রিজার্ভ ব্যাংকের রিজার্ভ টাকা থেকে ১লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকা কার্যত চুরি করেছিল, সেই সরকারের কাছে প্যাকেজের জন্য ২] লক্ষ কোটি টাকা কিভাবে আর কোথা থেকে আসবে? সবটাই মিথ্যে। আমাদের ট্যাক্সের টাকা হিসাবের কারসাজি করে প্যাকেজ বলে চালাতে চাইছে এই নির্লজ্জ সরকার।

তিনি বলেন এই দুঃসময়ে সরকারের কাছে সিপিআইএমের দাবি গুলি হ’ল,

১)সমস্ত অভিবাসী শ্রমিকদের বিনামূল্যে ও নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হবে। এই নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য তরজা বন্ধ হোক।

২) চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী দের যথাযথ সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩)আরো বেশি বেশি করে কোভিড ১৯ টেস্ট করতে হবে।

৪) রেশন কার্ড থাক বা না থাক এই দুঃসময় দেশের খাদ্য ভান্ডার থেকে সবাইকে খাদ্যশস্য দিতে হবে।

৫)মানুষের হাতে নগদ টাকা দিতে হবে।

৬)কোভিদ নাইনটিন নিয়ে কোন প্রকার তথ্য গোপন করা চলবে না। যত বেশি তথ্য মানুষ জানবে ততো বেশি সচেতন হবেন মানুষ।

পরিশেষে বলা যায়,শুধুমাত্র বড় সড় প্যাকেজ ঘোষণা করে বা দিনের পর দিন শুধু ভাষণ দিয়ে অনির্দিষ্টকাল ধরে চলা লক ডাউনে সাধারণ মানুষের সাধারণ চাহিদা গুলো পূরণ সম্ভব নয়।মানুষ খাদ্য চায়,নিরাপত্তা চায়।এর জন্য রেশনের প্রয়োজন,ভাষণের নয়।কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের এই চাপানউতোর মানুষের ক্রমবদ্ধর্মান সমস্যাকে কমানো তো দুর,আরও বাড়িয়ে তুলছে।সময় এসেছে প্রশ্ন করার।এখন এটাই দেখার সরকার সঠিক উত্তর দিতে পারে কি না।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।