দেশ রাজ্য

বস্তি উচ্ছেদ করে রেলের রাস্তা তৈরি বন্ধ রাখতে বাধ্য করলো স্থানীয় মানুষ


কিংশুক ভট্টাচার্য:চিন্তন নিউজ:১৮ই মে:–বাঁকুড়া শহরের স্টেশন এলাকায় (সেমিটারী রোড)  এক কিলোমিটারের মধ্য চারটি রেল গেট রয়েছে। চারটি রেলগেটকে  একটি রাস্তা দিয়ে জুড়বে রেল কর্তৃপক্ষ  এ পর্যন্ত বিষয়টা ঠিক ছিল, কিন্তু ঐ রেল লাইনের দুই পাশে দীর্ঘ ৬০/৭০ বছর ধরে প্রচুর মানুষ বসতি তৈরি করে বসবাস করছেন। এই রাস্তা করতে তাদের উচ্ছেদ করার নোটিশ ধরিয়েছে রেল। এই ইস্যুতে বামফ্রন্ট, এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রথমে পৃথকভাবে আন্দোলন শুরু করলেও, পরে একত্রে ঐ বস্তি বাসীদের পূণর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলনের জেরে সমস্যাটি নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের নিয়ে শুনানির  কথা হয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও  রেলকর্তৃপক্ষ বসতিবাসীর কাছে লিখিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যে তারা স্বেচ্ছায় এই জমি ছেড়ে দিচ্ছে। খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষজন একত্রিত হয়ে রেলের ঐ কর্মসূচি বন্ধ করেন। এবং রেল সাময়িকভাবে রাস্তার কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয়।,এবং তখনকার মত কথা দেয়, পূণর্বাসন না দিয়ে রাস্তা তৈরি হবে না।

কিন্তু এই লকডাউনের মধ্যে হঠাৎ গত তিন/চারদিন আগে থেকে কিছু বাইরের লোক ঐ এলাকায় এসে থাকতে শুরু করে। খোঁজ পাওয়া যায়, তারা রাস্তা তৈরির কাজ করতে এসেছে, পরে আবার বামপন্থীদের নেতৃত্বে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাবি জানানো হয় প্রথমে পূণর্বাসন, পরে রাস্তা। একটি দরখাস্ত লিখে গণস্বাক্ষর নেওয়া হয়। সব কিছু ব্যবস্থা হ‌ওয়ার পর শোনা যায়, স্থানীয় সাংসদ বিজেপির সুভাষ সরকার বসতি এলাকায় তাঁর দল নিয়ে ঘুরছেন, এবং মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যাতে স্বেচ্ছায় তারা বসতি ছেড়ে দেন।

সমস্যাটি প্রাক্তন সাংসদ কমরেড বাসুদেব আচারিয়ার নজরে আনলে তিনি আদ্রার ডি আর এমের নজরে বিষয়টি এনে এই উচ্ছেদ বন্ধের দাবী জানান। পাশাপাশি সি পি আই ( এম) নেতা অধ্যাপক প্রতীপ মুখার্জী, সি আই টি ইউর সর্বভারতীয় কাউন্সিল সদস্য কিঙ্কর পোষাক, এরিয়া কমিটির সম্পাদক প্রভাত কুসুম রায়, সি পি আই নেতা ভাষ্কর সিনহা, ওয়ার্ড কমিশনার প্রদীপ দাস,অনন্যা চক্রবর্ত্তী, কংগ্রেসের অভিষেক বিশ্বাস এবং ডি ওয়াই এফ‌আই এর দুই যুবনেতা সন্দীপ বিশ্বাস, রমিত ভট্টাচার্য ও সুমন কর্মকারের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারা সাংসদের কাছে পৌঁছে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান। মানুষের দাবিতে সাংসদ পিছু হটতে বাধ্য হন। তিনি বলেন, যে এখন এই কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে । সাংসদকে ক্যামেরার সামনে এই বিবৃতি দিতে বললে ,প্রথমে তিনি তা নাকচ করে দেন, পরে পিছু হটতে বাধ্য হন।
  এ ব্যাপারটি স্থানীয় মানুষ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তাদের সাফল্য বলেই মনে করছেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।