বিদেশ

আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক জমায়েতের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন জ্ঞাপন করা হলো।


কিংশুক ভট্টাচার্য: চিন্তন নিউজ: ২২শে জুলাই:- বিশ্বের পাঁচ মহাদেশের একশত তিরিশটি দেশের প্রায় সাড়ে দশকোটি শ্রমিকজীবির প্রতিনিধিত্ব কারি আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়ন ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়ে মার্কিন শ্রমিক সংগঠন গুলোর ডাকা জমায়েতের প্রতি সংহতি জানিয়েছে। এই জমায়েতের দাবীগুলি বর্ণবৈষম্যের অবসান, উন্নত স্বাস্থ‍্য ব‍্যবস্থা এবং কোভিড-১৯জনিত অতিমারি রুখতে নিরাপত্তা উন্নত ব‍্যবস্থা করা। সংগঠন সব কটি দাবীর সাথে সহমত পোষণ করে বলে জানা গিয়েছে।

মার্কিন দেশে শ্রমিক সংগঠনগুলির জমায়েতের সমর্থনে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে ওয়ার্লড ফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়ন বিশ্বের শ্রমজীবি শ্রেণির সংগঠনগুলির একটি পরিবারের মতো এবং সবসময়েই তাঁরা সব ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহন করে। তাঁরা জোড় দেয় জাতিগত ও সব ধরনের বৈষম‍্যের বিরুদ্ধের লড়াইয়ে। তাঁরা মনে করেন সব শ্রেণী ভিত্তিক ইউনিয়ন সর্বোপরি বিশ্ব শ্রমজীবীদের অত‍্যন্ত গুরুত্বের সাথে জাতিবিদ্বেষ তথা বিশ্বপূঁজিবাদের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই সংগঠিত করতে হবে। তাঁরা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে আসলে বিশ্ব সব ধরনের অসাম‍্য এবং যেকোনো ধরনের অনাচার ও বঞ্চনার জন্ম নেয় পূঁজি বাদের গর্ভে।

এই বিবৃতিতে একথাও বলা হয় যে মার্কিন শাসক শ্রেণীকে প্রতিবাদী শ্রমিক সংগঠনের উপর নির্যাতন মূলক দমন পীড়ন ছড়িয়ে দেবার নীতি থেকে অবিলম্বে সরে আসতে হবে। এবং এত্দসত্তেও সংগঠন মার্কিন শ্রমজীবি দের দাবীগুলিকে সমর্থন করে ও তাঁদের লড়াইয়ের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছে।

সম্পাদকমন্ডলীর পক্ষ থেকে বিশ্বের সব ইউনিয়ন গুলির কাছে আবেদন জানিয়ে বলা হয় এই জমায়েতকে সমর্থন করা প্রয়োজন। তাঁরা মনে করেন আন্তর্জাতিকতা বাদের প্রতি আস্থা ও মার্কিন শ্রমজীবি জনগনের সাথে তাদের একাত্মতা প্রকাশের স্বার্থেই এই সমর্থন জরুরী। সম্পাদক মন্ডলী মনে করে আমরা এই আন্দোলনগুলিতে অংশগ্রহনের ও আলোচনার মধ‍্য দিয়েই বর্তমানে উদ্ভূত সমস‍্যাবলী সঠিকভাবে নির্দিষ্ট করতে পারবো। একইসাথে এই ধরনের সমস‍্যাগুলোর উৎপত্তি ও জন্মের সত‍্যি কারের কারনগুলো খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।তাঁরা বলেন সমকালীন জনপ্রিয় জরুরি দাবী সমূহকে আমাদের আন্দোলনে উত্থিত দাবী সমূহের সামনের সারিতে নিয়ে আসা অত‍্যন্ত জরুরি। একইসাথে স্বীকৃত সমস্ত ইউনিয়ন গুলিকে তাদের নেতৃত্বের মধ‍্যেকার দোদুল্যমান ও পূঁজিবাদী শক্তির প্রতি দাসত্ববৃত্তির মানসিকতা সম্পন্ন অংশের মুখোশ খুলে উন্মোচিত করার উদ‍্যোগ গ্রহন করতে হবে। তাঁরা সব স্তরের মানুষের সত‍্যিকারের ঐক‍্যের উপর জোড় দেবার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের অভিমত একমাত্র সব শ্রমিক, বেকার, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, গৃহহীন ও গরীব মানুষের জাতি ধর্ম বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সত‍্যিকারের ঐক‍্য অবশ‍্য প্রয়োজনীয়। একমাত্র এই পথেই আমরা মানবজাতির জন‍্য একটা উন্নত ভবিষ‍্যত ও সামাজিক ন‍্যায় ও অর্থনৈতিক মুক্তি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো (সূত্র ডব্লুএফটিইউ, সরকারি ওয়েবসাইট)।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।