জেলা রাজ্য

আবালবৃদ্ধবনিতার ডানা মেলার জায়গা মাঠ, সেই মাঠ আক্রান্ত


মিতা দত্ত: চিন্তন নিউজ:১৩ই সেপ্টেম্বর,২০২০:- উদ্বাস্তু কলোনীর জীবন যন্ত্রণার কথা আমরা সকলেই জানি। নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে নিরুদ্দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা, শেষে কোনো একটা এলাকায় একত্রিত হয়ে একচিলতে মাটি আঁকড়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখা। এইরকমই একটি উদ্বাস্তু কলোনীর নাম বলরামপুর। বেশ কয়েকঘর মানুষ জঙ্গল পরিস্কার করে বসবাস করতে শুরু করে ও বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা ভিটেমাটির অধিকার পায়। এই গ্রামের মানুষের উত্তরসূরীদের জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার জন্য বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে ও প্রয়োজনকে বাস্তবে রূপ দেবার জন্য নিজেরাই বিদ্যালয় স্থাপনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। সেই বিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা ও গ্রামের ছেলেমেয়েরা খেলতে পারে , সে বিষয়ে সরকারের কাছে আর্জি জানিয়ে বিদ্যালয় ঘেঁযা একটি মাঠও আদায় করে।

সেই বিদ্যালয় আজ গ্রামের অহংকার। মাঠ আবালবৃদ্ধবনিতার ডানামেলার জায়গা। এই মাঠ কিছুদিন ধরে আক্রান্ত। এক ব্যবসায়ী মাঠ ঘেঁষা কিন্তু অন্য মৌজায় জমি কিনে সসের কারখানা করে। এই মাঠে সে আধপঁচা কুমড়ো স্তুপিকৃত করে রাখে যা গোটা এলাকায় দূষণ ছড়ায়। এছাড়া এই মাঠটিকে সে তার গাড়ি চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে। গ্রামের ছেলেরা বলতে গেলে, তাদের নামে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। চৌদ্দজন ছেলের বিরুদ্ধে কেস করে। কিন্তু গ্রামবাসী পিছোপা হয় না। তারা প্রশাসনকে জানায়।

গ্রামবাসীদের উদ্যোগে মাঠ মাপা হয়। মাপে দেখা যায় তার বাড়িটিই মাঠের মধ্যে । ভাবুন কি দুঃসাহস! গ্রামবাসী পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর বিজ্ঞান কেন্দ্র ও গোরাবাজার বিজ্ঞান চক্রকে গাছ লাগানোর আবেদন করে। সেই মোতাবেক মাঠ ঘিরে গাছ লাগানো হয়। কিছু শুভানুধ্যায়ী গাছ লাগানোর জন্য লোহার খাঁচা দেয়। আগে একদিন মাঠে গাছ লাগানো হয়, আজ‌ও আবার গাছ লাগানো হয়েছে। এই গ্রামবাসীদের লড়াইয়ে সর্বস্তরের মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।