দেশ

অসমের প্রলয়ঙ্করী বন্যা এবং মহারাষ্ট্রের বিসম্বাদের রাজনীতি


সীমা বিশ্বাস, আসাম: চিন্তন নিউজ:২৫ শে জুন:২০২২:– রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষিত অসম তথা গুয়াহাটী বর্তমানে বিশেষ চর্চার বিষয় হয়ে পড়েছে।মহারাষ্ট্রের প্রায় ৪৪ জন বিধায়ককে গুয়াহাটির পঞ্চ তারকা হোটেল ‘রেডিসন ব্লু’ তে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে অসমের কয়েকজন মন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে যে অসমে বর্তমান৩৫টা জেলার মধ্যে ৩২টা জেলার যখন প্রায় ৫০লাখ  মানুষ বন্যার কবলে পড়ে গৃহহীন হয়ে জীবনের সবকিছু হারিয়ে একমুঠো অন্নের জন্য হাহাকার করছেন, ইতিমধ্যে একশো র উপর মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, আশ্রয় শিবিরগুলোতে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রীর অভাবে ভয়াবহ জীবন অতিবাহিত করতে বাধ্য হচ্ছে সেই সময় একাংশ নেতা-মন্ত্রীরা বিশাল অর্থব্যয়ে মহারাষ্ট্রের বিসম্বাদী বিধায়কদের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যস্ত থাকাটা অসমে বিজেপি দলের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। গেরুয়া রাজনীতির  শক্তিশালী ভিত্তি থাকা গুজরাটের সুরাট থেকেও  শিবসেনার বিরোধী কার্যকলাপের জন্য অসম অধিক নিরাপদ  ভাবাটা সেই সঙ্গে মূলত শিবসেনার একটা আভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও বিজেপির ক্ষমতা দখলের  লিপ্সা তাতে জড়িত আছে।

দিল্লির আস্থাভাজন  হিসাবে ডক্টর শর্মা ইতিমধ্যে তাঁর বিচক্ষণতায় সেই আস্থা অর্জন করেছেন । অসমের এই বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি মুম্বাইয়ের বিসম্বাদী বিধায়কদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয়েছেন।

গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটা সরকারকে অস্থির করে ভাঙন ধরিয়ে কখনো টাকার টোপ দিয়ে কখনো ইডি , সিবিআই এর ভয় দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করার কৌশল ভারতীয় রাজনীতিতে সুলভ দৃশ্য হয়ে পড়েছে অদুর অতীতে কর্ণাটক ,মধ্যপ্রদেশ, গোয়া ,মেঘালয়, মনিপুরে এই ধরনের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার উদাহরণ আছে। দলীয় নীতি-আদর্শ থেকে ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের অংককে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শিবির পরিবর্তন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে বিজেপি দল নিজেকে পারদর্শী করে তুলেছে। এই কাজের মধ্য দিয়ে বিজেপি গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করেছে। দল ত্যাগবিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কৌশলে প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার কারবার ভারতীয় রাজনীতিতে গভীরে প্রবেশ করেছে ।  মহারাষ্ট্রের ঘটনা তার জ্বলন্ত উদাহরণ ।

কিন্তু এই রাজনৈতিক নাটক করা একটা দুর্যোগপূর্ণ রাজ্যে করতে যাওয়াটা জনগণের দুখ দুর্দশার  প্রতি চরম উপহাসস্বরূপ বিবেচিত হয়েছে।অসমে বানসাহায্যের জন্য হাজার কোটি টাকা সাহায্য দাবি করার পর মাত্র ৫১ কোটি টাকা সাহায্য দেওয়াটাও সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদি সরকারের চরম অবহেলার পরিণাম ।২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির অসমকে বানমুক্ত মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল । মানুষ অনেক আশা ও বিশ্বাস নিয়ে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করে বিজেপিকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল। আজকের বিজেপি নেতৃত্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যর্থতা প্রমাণ করে দিয়েছে যে এই সরকার জুমলাবাজি  সরকার।  বিশ্বাসঘাতক এবং গণতন্ত্র বিরোধী বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে   আগামী দিনে জনগণকে আরো বেশি  সজাগ হতে হবে।



মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।