রাজনৈতিক রাজ্য

বিচ্ছিন্নতাবাদের কালো মেঘ উত্তরবঙ্গের আকাশে


দীপশুভ্র সান্যাল জলপাইগুড়ি:চিন্তন নিউজ:৩১শে জুলাই:– বিজেপির সাংসদদের উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য ঘোষণা করার দাবির সাথে সাথেই আবারো দানা বাঁধছে কামতাপুরি আন্দোলন। নব্বইয়ের দশকে কামতাপুর আন্দোলনের নাম করে গোটা জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ শক্তি মাথাচাড়া দেয়। সে সময় কেপিপিপির পাশাপাশি কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন কে এল ও সক্রিয়তা লাভ করে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জঙ্গলে জঙ্গল ঘেরা বিভিন্ন বনবস্তিতে শুরু হয় কে এল ওর ট্রেনিং ক্যাম্প। সেই সময় বহু সিপিআইএম কর্মী নেতৃত্ব এই বিখ্যাত আদিশক্তি কেলোর হাতে শহীদ হন। কেলোর শেষ বড় অপারেশন ধুপগুড়িতে সিপি আই এম পার্টি দপ্তরে ঢুকে একসাথে ৫ জন পার্টির কমরেড ও কর্মী-সমর্থকদের খুন করা।

সেই সময় লাগাতার বামপন্থী গণআন্দোলনের রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্নতাবাদ এর বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম এর পাশাপাশি বামফ্রন্ট সরকারের প্রশাসনিক উদ্যোগে কেএল ও,কেপিপিকে জনবিচ্ছিন্ন করা হয়। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অনুরোধে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদভানির উদ্যোগে ভুটানের জঙ্গলে ভারত ভুটান যৌথ বাহিনীর তৎপরতায় বিভিন্ন ট্রেনিং ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় আটক হন বহু কেএলও জঙ্গি। ঠিক এই সময় ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির শ্লোগান তুলেছিলেন উত্তর দক্ষিণে মমতা। পরবর্তীতে কেপিপির সাথে বোঝাপড়া করে উত্তরবঙ্গের বেশকিছু আসন নিয়ে জয়যুক্ত হয় তৃণমূল কংগ্রেস। ধুপগুড়ির প্রাক্তন বিধায়ক মিতালী রায় একসময় কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন এর সদস্য ছিলেন। এক সময় পাশের জেলা কোচবিহারে গ্রেটার কোচবিহারের নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দানা বাঁধে। গত বিধানসভা নির্বাচনে কেপিপির একটি অংশকে সাথে নিয়ে ভোটের ময়দানে অবতীর্ণ হয় ভারতীয় জনতা পার্টি। বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায় নির্বাচনের আগে রাজবংশী অংশের মানুষের মধ্যে বিজেপি প্রচার করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তারা জয় যুক্ত হলে উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য ঘোষণা করা হবে। ক্ষমতায় না আসতে পেরে সেই সুর ধরে রেখে পৃথক রাজ্যের দাবি করে বসেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ জন বার্লা এর মধ্যেই বহুদিন আত্মগোপনে থাকা কি হলো প্রধান জীবন সিংহের বিভিন্ন ভিডিও টেপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় এবং সেখান বিভিন্ন আঞ্চলিক দাবি-দাওয়ার পাশাপাশি কামতাপুরী জনগণকে একত্রিত হওয়ার ডাক শোনা যায় সেই ভিডিওতে। এদিনের ডেপুটেশন কর্মসূচির পর কেপিপি নেত্রী জ্যোতিমা রায় জানান তাদের দাবি পূরণ না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এদিন জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের এক গুচ্ছ দাবি দাওয়া নিয়ে স্মারকলিপি দিল কেপিপি । পৃথক কামতাপুর রাজ্য সহ একাধিক দাবিতে শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়ি জেলা শাসক দপ্তরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন কেপিপি নেতারা। আন্দোলনকারী কেপিপি নেতারা জানান আলাদা কামতাপুর রাজ্যের দাবির পাশাপাশি কামতাপুর ভাষাকে অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্তি ঘটানো, বীর চিলা রায়ের নামে সেন্টাল ইউনির্ভাসিটি গঠন, বীর চিলা রায়ের জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা, উত্তরবঙ্গে এইমস হাসপাতাল সহ একাধিক দাবিতে স্মারকলিপি জমা দেন তারা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।