কলমের খোঁচা

{ভয়ংকর পরিকল্পনা}


রোহন ঘোষঃ-নিজস্ব প্রতিবেদন: চিন্তন নিউজ:২২/০৮/২০২৩:- ১৭০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যভাগে ইউরোপ এবং পরবর্তীতে আমেরিকায় শিল্প বিপ্লবের সূচনা লগ্নে পুঁজির আবির্ভাব ঘটে, সেইসঙ্গে প্রয়োজন পড়ে কোটিপতিদের ব্যবহৃত স্বল্প মূল্যের শ্রমিক অর্থাৎ খাদ্যের প্রয়োজনে বা বর্তমানে অর্থের প্রয়োজনে খুব সামান্য বেতনে বহু শ্রমিক। এক কথায় শিল্প বিপ্লবের কারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বস্তু যা “সুলভ শ্রমিক”।

বর্তমান পৃথিবীতে “নব্য পুঁজিবাদের” সেই পাখির চোখ যা হলো কম বেতনে কাজে ইচ্ছুক শ্রমিক। যা পাওয়া দুষ্কর হয়েছিল ভারতবর্ষের সর্বশিক্ষা, রাষ্ট্রীয় স্কুল এবং স্কুল মুখী করে তোলার জন্য স্বাধীনতার পরবর্তী থেকে বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলির এবং গণতন্ত্র প্রিয় মানুষদের প্রচেষ্টায় বিভিন্ন পরিকল্পনা যা শ্রমিকের ও কৃষকের সন্তানদের দিয়েছে সুস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাদ্য এবং তার সাথে সাথে শিক্ষা (বামপন্থী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের পরিকল্পনায় এবং পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের উদ্যোগে “মিড ডে মিল” প্রকল্প) এছাড়াও স্বাধীনতার পরবর্তীতে ভারতের বাম শক্তির সাফল্যের ফলে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা পায়। ঠিক সেই সময় আন্তর্জাতিকভাবে বল প্রয়োগ না করতে পারা মার্কিন পুঁজিবাদ দিশেহারা হয়ে পড়ে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকতাবাদী দের মতো পুঁজিবাদের নজর ছিল ভারতের বিপুল জনসংখ্যায়, ন্যূনতম বেতনে এবং কোন রকমের শ্রম আইন শ্রমিকদের পক্ষে না রেখে শ্রমিক তৈরীর করার জন্য। কিন্তু সারা পৃথিবীর মতো এখানেও বামপন্থীরা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রথমত আধুনিক প্রযুক্তির বিরোধী কখনোই বামপন্থীরা ছিল না। বামপন্থীরা মানুষের অধিকারকে সুনিশ্চিত করার পর দেশে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরীর স্বপক্ষে সর্বদা সম্মত থাকে। যা কোন রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

আর এই সমস্ত কারণে পুঁজিবাদী শক্তির দালাল রাজনৈতিক দলগুলি বাম গনতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। রাজ্যে ৭৭ এর পর বামপন্থীরা মানুষের অধিকারের জন্য বিভিন্ন আইন বলবৎ করেছিল তাকে নষ্ট করতে এবং বাম ইউনিয়নগুলিকে ভেঙে ফেলার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস আজ বহু অংশের এগিয়ে গেছে। তেমনি পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক শক্তি প্রসার না ঘটাতে পারলেও সমগ্র দেশে বিজেপি তাদের সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষ মারণ রোগের মত ছড়িয়ে দিচ্ছে। শুধুমাত্র মানুষকে তাদের অধিকার থেকে দূরে রাখতে। বা বলা যায় মানুষের অধিকার সম্পর্কে মানুষকে না জানিয়ে একপ্রকার হতাশ গ্রস্ত এবং শিক্ষা থেকে দূরে নেশাগ্রস্ত করে এক বিষাক্ত সমাজ যেখানে পুঁজিপতিরা বাদে বাকি মানুষরা বসবাস করবে। এর ফলে যখন যাকে খুশি সেই নরক থেকে তুলে নিয়ে এসে কিছু অর্থের বিনিময়ে বা বলা যায় ভালো রাখার কথা শুনিয়ে তাদের কার্যসিদ্ধি করে নেবে। আর এটাই বর্তমানের “সুলভ শ্রমিক” তৈরীর ভয়ানক পরিকল্পনা।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে সাম্প্রদায়িকভাবে গেরুয়াকরণ করার পাশাপাশি। বিশেষভাবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের হাত ধরে শিক্ষাঙ্গন থেকে সর্বাপেক্ষা বিজ্ঞানসম্মত মতবাদ মার্কসবাদ কে দূরে রাখার চেষ্টা আর এর জন্যই বাম ছাত্রদের ওপর চলছে আক্রমণ। আসলে এখানেই শেষ নয় পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের সাফল্যকে সম্পূর্ণভাবে মুছে দেওয়ার যে পরিকল্পনা এই সমস্ত রাজনৈতিক দল একত্রিত ভাবে নিয়েছে এবং প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে বামপন্থীদের উৎখাত করার ডাক দিচ্ছে তারা। বিশেষত যে মহাবিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে গরিব মেধাবী ছাত্ররা উচ্চশিক্ষিত হতে পারে সেইখানে আঘাত আনছে এই সমস্ত নিম্ন মানসিকতা সম্পন্ন রাজনৈতিক শক্তি গুলি। যারা কেবল পুঁজিবাদের সুবিধার জন্য কাজ করে‌। যেমন পুঁজিবাদের পোষ্য বিজেপি এবং তাদের পোষ্য রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

বর্তমানে ভারতের যে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দলটি সরকার চালাচ্ছে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সমস্ত রাষ্ট্রয়াত্তা সম্পত্তি বেসরকারীকরণ অর্থাৎ কোনভাবেই যেন বিদ্যালয় বা মহাবিদ্যালয় সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত না থাকে। এর ফলে গরীব মেধাবী ছেলে-মেয়েরা উচ্চশিক্ষিত না হতে পেরে কম পয়সায় শ্রমে নিযুক্ত হবে আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাহায্য করছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস।

এর থেকে বোঝা যাচ্ছে আগামী দিনের লড়াইয়ের দিক হতে চলেছে এক বৃহত্তর সচেতন বামপন্থী জঙ্গি আন্দোলন যা জাগাতে পারে ভারতের ভবিষ্যৎকে এবং তছনছ করতে পারে এই ভয়াবহ পরিকল্পনাকে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।