রাজ্য

নজিরবিহীন ভাবে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড এর সাথে কোনরকম আলোচনা না করে ১৪০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকার তুলে নিয়েছে


সুপর্ণণা রায়: চিন্তন নিউজ:২২শে জানুয়ারি:–নির্মাণ শ্রমিকদের ১৪০০ কোটি টাকা গায়েব করল রাজ্যসরকার। নির্মান শ্রমিকদের জন্য বামফ্রন্ট সরকার এর আমলে কল্যাণ তহবিল গঠন করেছিল তিল তিল করে।। নির্মাণ শ্রমিকদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ওই তহবিল থেকে তাদের প্রয়োজনীয় টাকা দেওয়া হত।।

বেনজির ভাবে ঐ তহবিল থেকে বর্তমান তৃনমুল পরিচালিত সরকার ১৪০০ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে।। এই কাজের পথপ্রদর্শক হল বিজেপি শাসিত গুজরাট সরকার।। গুজরাট সরকার শ্রমিক কল্যাণ এর টাকা নিজের তহবিল এ রেখে দেয় এবং শ্রমিকদের প্রয়োজন হলে সরকার এর কাছ থেকে অনুমোদন মিললে তবে টাকা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে আসে।। এবার পশ্চিম বাংলার সরকার গুজরাট সরকারকে অনুসরণ করে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ তহবিল এর টাকা তে থাবা বসালো।।এই তহবিলে ২৭০০ কোটি টাকা জমা হয়েছিল আর তার থেকে নজিরবিহীন ভাবে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড এর সাথে কোনরকম আলোচনা না করে ১৪০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকার তুলে নিয়েছে নিজের ইচ্ছামত।।একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের টাকা জমা থাকে আর সেখান থেকে ওই ১৪০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকারের ট্রেজারি যে এসেছে।।

সরকারের এই কাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড এর বৈঠকে এবং অবিলম্বে ওই টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়ার দাবি উঠেছে।।এই টাকা হাতানোর একটা কারণ হলো সামনে রাজ্য বাজেট আর বিভিন্ন কোষাগারের ঘাটতি মেটাতে রাজ্যসরকার টাকা জোগাড় করতে সব দপ্তরের তহবিল এর সঞ্চিত টাকা যে থাবা বসাচ্ছে।।অর্থদপ্তর জানতে পেরেছিল নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আছে আর কালবিলম্ব না করে ১৪০০ কোটি টাকা সরকারি ট্রেজারি তে সরিয়ে ফেলেছে নবান্ন।।আর তার থেকেও বড় কথা নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ এর কাছ থেকে কোন অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি শ্রম দপ্তর।। নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড কে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে এই পরিমাণ অর্থ সরিয়ে ফেলা হয়েছে।।যা সম্পূর্ণ অবৈধ কাজ।।শ্রম দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ তহবিল টাকা স্টেট ব্যাঙ্ক এর একাউন্টে জমা থাকত ।। ঐ একাউন্ট থেকে ১৪০০ কোটি টাকা সরিয়ে আনা হয়েছে ট্রেজারি তে যা এখন ওখানেই থাকবে।। এই টাকার উপরে ব্যাঙ্ক যেমন সুদ দেয় সরকারো সুদ দেবে।। এসমস্ত কাজের জন্য শ্রম দপ্তর কোন অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ বোর্ড এর।। শ্রম দপ্তর জানিয়েছে নবান্ন এর নির্দেশেই টাকা ট্রেজারি তে আনা হয়েছে।। এখন যে প্রশ্ন উঠেছে তা হলো শ্রম দপ্তর কি সরাসরি টাকা তুলতে পারবে না অর্থ দফতর এর থেকে অনুমতি নিতে হবে __যার কোন উত্তর মেলে নি।।

২০০৩ সালে যখন সরকারে বামফ্রন্ট ছিল তখন পশ্চিম বাংলা তে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদ এর তহবিল গঠন করা হয়েছিল।।১০ লক্ষ টাকার উপরে নির্মাণ কাজে ১ শতাংশ সেস আদায় করা হতো নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে আর ঐ টাকা তেই তিল তিল করে গড়ে উঠলো তহবিল।।ঐ টাকা খরচ করা হতো নির্মাণ শ্রমিক দের কল্যাণ কাজে।।২০১১ সালে পালাবদল হল কিন্তু আগের পদ্ধতি তেই টাকা জমা হতে থাকলো তারপর একসময় সেই টাকার পরিমাণ বিপুল আকার ধারণ করলো আর সেই টাকা তেই বেআইনি ভাবে হাত বসালো নবান্ন।।১৯৯৬ সালে কেন্দ্র সরকার নির্মাণ শ্রমিক দের কল্যাণ এর কথা মনে করে একটি আইন তৈরি করে এবং তার দুবছর পর বিধি তৈরি করা হয়।আর তার ভিত্তিতে বামফ্রন্ট সরকার পশ্চিম বাংলা তে নির্মাণ শ্রমিক কল্যাণ কাজে তহবিল গঠন এর কাজে হাত দেয়। সেই টাকার পরিমাণ এখন ২৭১৮ কোটি টাকা।। এখন কার সরকার নিজেদের স্বার্থে এ কষ্টার্জিত টাকা থেকে ১৪০০ কোটি টাকা বেআইনি ভাবে সরিয়ে নিয়েছে।।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।