রাজ্য

সিঙ্গুরের ভাঙা কারখানার জমিতে কাশ ফুলের আর্তনাদ।


সূপর্ণা রায়:চিন্তন নিউজ:১১ই সেপ্টেম্বর :–কাশবন নয়——সিঙ্গুর চায় কারখানা —– এখন শরত আসেনি——কিন্তু রতনপুর থেকে জয়মোল্লা পর্যন্ত আস্ত একখানা কারখানার জমিতে এখন কাশের মেলা।। কারখানা হল না হতভাগ্য সিঙ্গুরে—-হল কাশের বন।। কারখানার জমিতে শুধু কাশের ওড়াউড়ি। কাশফুল দেখলে যে কোন মানুষের মন আনন্দে মেতে উঠে।। বর্ষা চলে গিয়ে নীল আকাশের নীচে কাশের ওড়াউড়ি মানুষ কে জানান দেয় আগমনীর সুর।। আর মাত্র কদিন পরেই বাঙালীর সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপুজো।। কিন্তু সিঙ্গুর আজ অন্ধকারে ডুবে।। অতবড় ন্যানো কারখানা হয়েও হল না। অতি দুঃখের হাসি হেসে জয়মোল্লার পাখিরা পাড়ার বাসিন্দা বিকাশ পাখিরা বললেন —–“” একটা কাজই সরকার করতে পারে।।বাংলা সিনেমার শুটিং —–সিরিয়াল এর শুটিং —–শুরু করে দিক—-এত বড় জায়গা—–এমন ঘন কাশের বন—–এই সিঙ্গুর ছাড়া আর কোথায় পাবে? শুরু করে দিক—-কারখানা হল না —-চাষবাস আর হবে না——তাহলে কাশ যখন হচ্ছে তখন সেটাকেই কাজে লাগাক—-”

পাখিরাও জমি দিয়েছিলেন।। বললেন “এখন আর কারখানা নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করে না।। যতদিন যাচ্ছে পুরোটাই শ্বশ্মান হয়ে যাচ্ছে—-আর আমরা বাস করছি শ্বশ্মানে””- তার ঘরের আলমারিতে এখনো সযত্নে রাখা আছে টাটা মোটরর্স এর নিয়োগপত্র।। বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন থেকে কারিগরি শিক্ষার হাতেখড়ি।। তারপর পুনেতে টাটা মোটরর্সে নিয়োগ হন।। জানালেন— গ্রামের ছেলে তারা, কোনদিন ভাবেননি পরিস্কার জামা প্যান্ট পরে অফিস করবেন।। কিন্তু সুযোগ এসেছিল।। পুনেতে শিখে এসেছিলেন গাড়ীর যাবতীয় কাজকর্ম।। খুব আনন্দের সাথে কাজ শিখে এসে যোগ দিলেন সিঙ্গুরের কারখানায়।। আর এখন সেই সার্টিফিকেট আর নিয়োগ পত্র সযত্নে রাখা বাড়ীর আলমারিতে।। এই কথা বলতে বলতে পাখিরার গলা বুজে আসছিল কান্নায়।। অটোমোবাইল শিল্পের শিক্ষানবিশ ইঞ্জিনিয়ার এখন এক সওদাগরি অফিসের সিকিউরিটি গার্ড! আরও বললেন -“লিখে রাখুন ওই জমিতে কারখানাই করতে হবে——কারন চাষবাস ওখানে হবে না—–সিনেমার শুটিং হবে না।। কারখানাই করতে হবে।। বয়স থাকলে আবার কাজে লাগব কারখানায়।

পাখিরা পাড়া থেকে একটু দূরে বাড়ী সন্দিপ দের।। জানালেন পুনের ট্রেনিং নিয়ে ফিরে এসে আবার মজুর খাটেন—-চাষবাস করেন অন্যের জমিতে।। বললেন এই তৃনমূল সরকার তাদের মাঠেই আটকে রাখতে চায়——কিন্তু তারা মন থেকে চান ইঞ্জিনিয়ার হ’তে।। আরও বললেন ——“”লাস্ট যেদিন কারখানা থেকে বেরোলাম —–বাসের সামনে শুয়ে পড়ল কলকাতার বুদ্ধিজীবীরা—–হাতে লাঠি নিয়ে তেড়ে আসছে অচেনা সব লোক ——আমাদের থ্রেট করল বলল আজ চলে যাও কাল থেকে আর এদিক মাড়াবে না”। একটা আস্ত কারখানা নষ্ট করল সবাই মিলে।। কাজ হারাল হাজার হাজার বেকার যুবক।। যে কারখানা হলে আজ হুগলীর নাম জ্বলজ্বল করত আজ সেখানে শ্বশ্মানের স্তব্ধতা।। হাজার হাজার ছেলে মেয়ের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিনত হল।।

আগামী ১২ ই সেপ্টেম্বর সিঙ্গুর থেকে শুরু হতে চলা কাজ চাইবার লং মার্চে পা মেলাবেন বিকাশ—সন্দিপরা।। আরও বড় মিছিল হোক—যতদূর পারবেন হাটবেন।। কিন্তু কারখানা চাই।। মাঠে নয় ফিরে যেতে চান কারখানার গেটে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।