খেলাধূলা রাজ্য

বত্রিশের শারাপোভা বিদায় জানালেন টেনিস কে।।


সূপর্ণা রায়:চিন্তন নিউজ:টেনিস কে গুডবাই_নতুন সহস্রাব্দ এর গোড়ার দিকে কথা। উইলিয়ামস বোনেরা চুটিয়ে শাসন করছেন টেনিস দুনিয়া।। ঠিক সেইসময় হীরের দ্যূতি নিয়ে হাজির শারাপোভা।।সে দ্যুতি শরীরিক সৌন্দর্য ও টেনিসের।।কোনটা কম বা কোনটা বেশি তা নিয়ে তর্ক করা অবান্তর।।বত্রিশের শারাপোভা বিদায় জানালেন টেনিস কে।। হয়তোবা আরও কিছু সময় খেলতে পারতেন কিন্তু তাঁর মন বলেছে এটাই সেরা সময়।। এরপর আর কিছু পাওয়ার নেই।। বয়স বেড়েছে ফিটনেস কমেছে।। পুরোনো কাঁধের চোট সঙ্গ ছাড়েনি।। কোর্ট এ নামলেও অখ্যাত দের কাছে হারতে হচ্ছে।। এইতো কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন এ প্রথম রাউন্ডে ছিটকে গেলেন।।এটা সবাই জানে জানে তিনি হেরেছেন আর ফিকে হয়েছে টুর্নামেন্টের গ্ল্যামার।।তাই ভক্ত দের মনের মনিকোঠায় নিজের জায়গা রেখে বিদায় নেওয়া ভালো।।টানা একুশ সপ্তাহ র্্যঙ্কিঙ এক নম্বর এ থাকা হালফিলের র্্যঙ্কিঙ সাড়ে তিনশোর বেশি। ওয়াইল্ড কার্ড এর দৌলতে বড় টুর্নামেন্ট এ খেলার ছাড়পত্র মেলে।।সেখানেও ব্যার্থতা এটা মেনে নেওয়া কঠিন।।অত এব বিদায়।। তাছাড়া টেনিসে তাঁর প্রাপ্তি কম নয়।।ঝুলিতে পাঁচ পাঁচটি গ্রান্ড স্ল্যাম খেতাব।।চারটে গ্রান্ড স্ল্যাম এই চ্যাম্পিয়ন।। তাঁকে বাদ দিয়ে কেরিয়ার স্ল্যাম এর সন্মান পেয়েছেন মাত্র নয় জন মহিলা টেনিস খেলোয়াড়।। গলায় ঝুলিয়েছিলেন অলিম্পিকের পদক। রাশিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে দেশ কে চ্যাম্পিয়ন করেছেন ফেড কাপে।। জনপ্রিয় পত্রিকা ফোবর্স এর তথ্য অনুযায়ী টানা এগারো বছর তিনিই বিশ্বের সর্বোচ্চ উপার্জনকারী মহিলা ক্রীড়াবিদ।। বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা ব্রান্ডের সঙ্গে এন্ডোর্সমেন্ট।। তাঁর ইমেজ কে কাজে লাগিয়েছে বহু বহুজাতিক সংস্থা।।কোর্ট আর কোর্টের বাইরে আলোচনায় থেকে গেছেন তিনি।। সুতরাং বিদায় বেলায় তাঁর মনে কোন খেদ নেই।।একথা তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।। সত্যিই কি নেই??? যে প্রতিভা নিয়ে তিনি এসেছিলেন তাতে পাঁচটি গ্যান্ড স্ল্যাম এ আটকে থাকার কথা নয়।। কিন্তু বারবার তাঁর কাঁধের চোট টাই সাফল্যের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।।যে ফোরহ্যান্ড এর জাদুতে বিপক্ষ কে কাবু করতেন সেই ডান কাঁধটাই বিদ্রোহী হয়ে প্রতিহত করেছে তাঁর দূর্বার গতিকে।তবু তাঁকে দমিয়ে রাখা যায়নি।। কোর্ট এ ফিরেই তিনি বুঝিয়েছেন হারিয়ে যাওয়া র জন্য তিনি আসেন নি।।যার টেনিস তারকা হয়ে উঠার নেপথ্যে বিপর্যয় এর কাহিনী তিনি বিপর্যয় কে জয় করবেন সেটাই তো স্বাভাবিক।। মারাদোনা যে বছর দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন সেবার ভয়াবহ বিস্ফোরণ এ কেঁপে উঠেছিল চেরনোবিল।।এই জায়গা থেকে শারাপোভার পৈতৃক বাড়ি খুব বেশি দূরে নয়।। আতঙ্ক স্ত্রী ইলোনা কে নিয়ে সাইবেরিয়ার ন্যাগান প্রদেশে পাড়ি দেন ইউরি শারাপোভা।।পরের বছর সেখানেই জন্ম হয় মারিয়ার।।কিছূদিন বাদে কৃষ্ণ সাগরের নিকটবর্তী সোচি শহরে নতুন করে বাসা বেঁধেছিলেন সিনিয়র শারাপোভা।।এখানেই মারিয়ার টেনিসে হাতেখড়ি।। নব্বই দশকের গোড়ার দিকে সাবেক সোভিয়েত রাশিয়ার যখন অস্থিরতা তখন ছয় বছরের মেয়েকে নিয়ে আমেরিকার উদ্দেশ্য পাড়ি দেওয়া।।গুলির পকেটে তখন হাজার ডলার ও নেই।।আমেরিকায় গিয়ে মারিয়া কে দু’বছর বাবা মার থেকে দূরে থাকতে হয় যা মারিয়া কে মানসিক ভাবে শক্ত করেছিল।। গ্ল্যামার এর ছটায় উদ্ভাসিত ছফুট দু ইঞ্চি র মেয়ের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে এক অব্যাক্ত জেদ।সেটাকে হাতিয়ার করে উইলিয়াম সাম্রাজ্য ফাটল ধরিয়েছিলেন।মাত্র সতেরো বছর বয়সে উইম্বল্ডনের ট্রফি হাতে সেন্টার কোর্টের পোজ টা মানুষের মনে চিরকাল থাকবে।। ডপিঙ এ অভিযূক্ত হয়ে পনের মাসের নির্বাসনের কলঙ্ক ঢাকা পড়ে যাবে তাঁর সৌন্দর্য ও গৌরবগাথার কাহিনী যে।।।।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।