বিদেশ

চক্রব্যুহে বন্দী রাশিয়া শেষ পর্যন্ত বাধ্য হলো ইউক্রেন আক্রমণের পথে যেতে।



চৈতালি নন্দী;-চিন্তন নিউজ;-২৮শে ফেব্রয়ারি— সবরকম কূটনৈতিক সমঝোতার পথ ব‍্যর্থ হলে রাশিয়া বাধ‍্য হলো ইউক্রেন আক্রমণের পথে যেতে। যদিও রাশিয়া বার বার স্মরণ করিয়ে দিয়েছে ইউক্রেন  দখল করা তার উদ্দেশ্য নয়। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙনের পূর্বে (১৯৯১) ইউক্রেন সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এর পরেও যথেষ্ট বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল দুই দেশের মধ‍্যে।
                   পরবর্তীতে পরিকল্পিত ভাবে ন‍্যাটো’র সদস‍্যভুক্ত দেশগুলির সাহায্যে ঘিরে ফেলা হচ্ছিল রাশিয়াকে। বহুবার রাশিয়ার  আবেদন ও হুঁশিয়ারি সত্বেও আমেরিকা ইউক্রেনকে উস্কানি দেওয়া বন্ধ না করে  ক্রমাগত অর্থ ও সামরিক সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করে গেছে, যা রাশিয়ার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।  রাশিয়াকে নতিস্বীকার করাতে ইউক্রেনকে  বোড়ে হিসেবে ব‍্যবহার করে চলেছে আমেরিকার নেতৃত্বে ন‍্যাটো।
         
                  অনিবার্য যুদ্ধের ভূমি প্রস্তুত  হয়েছিল ৩০ বছর আগে। ১৯৯১ সালেই সোভিয়েত ইউনিয়নকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ন‍্যাটো পূর্ব ইউরোপে পা রাখবেনা। কিন্তু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ক্রমশ পূর্ব ইউরোপে সম্প্রসারিত হতে থাকে ন‍্যাটো। এর লক্ষ্য ছিল মার্কিন সামরিক শিল্পজোটের মুনাফা ও রাশিয়াকে ক্রমশ একঘরে করে দেওয়ার পরিকল্পনা। শান্তিরক্ষাকারী হিসেবে নিজেদের প্রচার করলেও ন‍্যাটো হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে একটি আগ্রাসী সামরিক জোট। এর অজস্র উদাহরণ রয়েছে। কসভো, লিবিয়া, আফগানিস্তান, সিরিয়া যারা ন‍্যাটোভুক্ত দেশ না হয়েও অন‍্যায় আক্রমণের শিকার হয়ছিল।

        ইউক্রেনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্ররোচিত করার পাশাপাশি তাকে ন‍্যাটোভুক্ত করার জন‍্যেও চাপ আসছিল আমেরিকার তরফ থেকে। উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। অপরদিকে রাশিয়াকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে বন্দি করার ঘৃণ‍্য চক্রান্ত। আটকে দেওয়া হয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম ব‍্যাঙ্কগুলির সম্পত্তির লেনদেন, রয়েছে রপ্তানি বাণিজ‍্যের বিভিন্ন বিধিনিষেধ। ‘সুইফট’সহ  দেশের পুঁজিপতিদের আন্তর্জাতিক লেনদেনের  বাজার থেকে সরিয়ে আনার উদ্দশ‍্যেই তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবন্ধকতা। ২৭ সদস‍্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলি সহ আরও কয়েকটি দেশ এই নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সওয়াল করতে বাধ‍্য হচ্ছে।
                             এই পরিস্থিতিতে পুতিনের প্রস্তাব ছিল ইউক্রেন অস্ত্রসংবরন করলে তারা আলোচনায় বসতে রাজি। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে বার বার ইউক্রেন শান্তিপূর্ন আলোচনা থেকে সরে আসে।  প্রথম থেকেই ইউক্রেন দখলের যে কোনো অভিপ্রায় তার নেই তা স্পষ্ট করে দিয়েছিল পুতিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাজনৈতিক অনভিজ্ঞতার কারনে তা অস্বীকার করলেও সর্বশেষ পরিস্থিতিতে এই শান্তি আলোচনায় বসতে সহমত প্রকাশ করেছে। খবরে প্রকাশ বেলারুশ সীমান্তেই হতে চলেছে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

                মনে রাখতে হবে এই যুদ্ধ রাশিয়ার পক্ষে আত্মরক্ষার্থে অপরিহার্য ছিল। শেষপর্যন্ত কোনো যুদ্ধই মানবসমাজের কল‍্যাণ সাধন করেনা। উপরন্তু বয়ে আনে মৃত্যু, ধ্বংস, সম্পদক্ষয় ও জীবনহানি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই  আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে যুদ্ধ কোনো সঠিক দিশা দেখাতে পারেনা, করতে পারেনা স্থায়ী সমাধান। উল্টে আরও গভীর হয় সম্পর্কের ক্ষত। যুদ্ধের দায় কোনো পক্ষই এড়িয়ে যেতে পারেনা। দায় শুধুমাত্র রাশিয়ার নয়, ইউক্রেনের পিছন থেকে এই যুদ্ধকে বাস্তব রূপ দিয়েছে আমেরিকার নেতৃত্বে ন‍্যাটো বাহিনী। বন্ধত্বপূর্ন পরিবেশে দুপক্ষের যুক্তিপূর্ণ  আলোচনা আনুক স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, জয়ী হোক মানবতা।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।