দেশ রাজনৈতিক

ইভিএমে ভিভিপ্যাট সংযোগ নিয়ে বিষ্ফোরক পদত্যাগী আইএএস


মল্লিকা গাঙ্গুলী, চিন্তন নিউজ, ২৮ সেপ্টেম্বর: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের বিশেষ চমক ইভিএম ভিভিপ্যাট সংযোগ। ভোটার ভেরিফায়েবল পেপার অডিট ট্রায়াল বা ভিভিপ্যাট একটি গালভরা নাম এবং জনগনের কাছে আস্থার বিষয়; কারন এর আগে ইভিএম-এ ভোটার ভোট দিয়ে নিজের ভোট সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারতেন না। এবার ছাপানো কাগজে সেই প্রমাণপত্র ভেসে উঠলো যা ভারতের নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতারও প্রমাণ।

কিন্তু সেই ভিভিপ্যাট নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, আর এই প্রশ্ন কোনো রাজনৈতিক দল নয়, প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমানের এক বিতর্কিত আই.এ.এস. অফিসার কান্নান গোপীনাথন। এক বিশেষ প্রতিবাদী মুখ কান্নান সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বিলোপকে গনতন্ত্রের কণ্ঠরোধ বলে বিরোধীতা করে নিজেই সরকারের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। এবার তিনি দেশের নির্বাচন পদ্ধতির নতুন সংযোজন ভিভিপ্যাট নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন।

গোপীনাথন তাঁর নিজস্ব ট্যুইটারে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ট্যুইটে নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা এবং প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশিকে ট্যাগ করে লেখেন- ইভিএম-এ ভিভিপ্যাট সংযোগ করে নির্বাচন অনেক সহজ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। এতে খুব সহজেই মেশিন হ্যাক করা গেছে। তার যুক্তি ভিভিপ্যাট আসলে প্রোগ্রামেবল মেমরি যা ব্যালট ইউনিট ও কন্ট্রোল ইউনিটকে যুক্ত করেছে। এই ব্যবস্থায় ইভিএম-এ একটা শূন্য স্থান তৈরি হয় যা হ্যাকিংকে সহজ করে তোলে। এই হ্যাকের পদ্ধতি বর্ণনা করে তিনি বলেন ভিভিপ্যাটে একটি প্রসেসর এবং একটি প্রোগ্রাম মেমরি থাকে যা ভোট রেজিস্টার করে। এই ব্যবস্থায় ডাউনলোড করা যে কোনো ম্যালওয়্যার দিয়েই সম্পূর্ণ সিস্টেমের অপব্যবহার করা যেতে পারে!

গোপীনাথন তার বক্তব্যের সমর্থনে উপযুক্ত ছবি দিয়ে জানিয়েছেন এই সমস্ত তথ্য এবং ফটো তিনি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকেই সংগ্রহ করেছেন। তিনি আরও বলেন প্রথমবার ভিভিপ্যাট ব্যবহার করেই তার ধারনা বদলে যায়। তিনি ভিভিপ্যাট ইভিএম নিয়ে যা বলেছেন সেই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি অনড়।

কান্নানের ট্যুইট গুলি মঙ্গলবার প্রকাশ হওয়ার মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়। অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেন তিনি পদে থাকাকালীন কেন এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নি? উত্তরে অফিসার জানান তিনি এ বিষয়ে আই.আই.ডি.ই.এম. অফিসারদের ট্রেনিং এর সময়ই প্রশ্ন তোলেন। কিন্তু তখন যেমন কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেননি, এখন নির্বাচন কমিশনকে ট্যুইট করে এ বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করতে অনুরোধ করা হলেও কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

কান্নান গোপীনাথনের মত অফিসার নির্বাচন পদ্ধতির স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এত বড় পদক্ষেপ নিলেও সরকারের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই! এখন দেখার বিষয় ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি এবং দেশের সচেতন জনগন নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এবং গনতন্ত্রকে রক্ষা করতে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।