রাজ্য

বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে জেলা শ্রদ্ধার সাথে ভাষাশহীদদের স্মরণ


  • নিউজ ডেস্ক: চিন্তন নিউজ:২১শে ফেব্রুয়ারি: মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে অনুপম মিশ্র জানান ২১ফেব্রুয়ারি আন্তজার্তিক মাতৃভাষা স্মরনে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি মুর্শিদাবাদ জেলা শাখা* শতবর্ষে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি মুর্শিদাবাদ জেলা শাখার উদ্দোগ্যে সারম্ভরে পালিত হল আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস বহরমপুরে সমিতির জেলা কার্যালয়ে , সভা শুরু হয় শহীদ বেদিতে মাল্যদানের মধ্য দিয়ে। সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন সমিতির জেলা সভাপতি কমরেড জুলফিকার আলি। সভায় উপস্থিত ছিলেন সমিতির সর্বজেষ্ঠ সদস্য কমরেড সুনিতি বিশ্বাস। এছাড়াও ছিলেন সমিতির জেলা সম্পাদক কমরেড দুলাল দত্ত সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন ওয়েবকুটার সদস্য অধ্যক্ষ মাননীয় অজয় অধিকারী । আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তিনি তুলে ধরলেন এই দিনের গুরুত্ত্ব।
  • মাতৃভাষা আন্দোলনের ইতিহাস প্রসঙ্গে উঠে এলো বাংলভাষী পুর্ববঙ্গের মানুষের উপর উর্দুভাষী পাকিস্থানি মৌলবাদি শক্তির আক্রমন। আর সেই আক্রমনকে প্রতিহত করে মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল ততকালীন পূর্ব বঙ্গের মুক্তিযোদ্ধারা। এই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিল বরকত, রফিক, জাব্বার প্রমুখেরা। সেই শহীদদের সম্মানে ইউনেস্কো এই ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তজার্তিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি দেয়। এই প্রসঙ্গে উঠে আসে বিশ্বের বিভিন্ন কোনে গড়ে উঠা ভাষা আন্দোলনের কথা।
    এই আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে এবিটিএ এই দিনটিতে আয়োজন করে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। সঙ্গীত, আবৃত্তি, নাটক, নৃত্য পরিবেসনের মধ্য দিয়ে ভাষা দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধাঞ্জলি জানায় ছাত্রছাত্রীরা ও বিশিষ্ট শিল্পী সাহিত্যিকেরা। সকলের উপস্থিতিতে আওয়াজ উঠে
    ” **আমার ভায়ের রক্তে   রাঙানো
           ২১ শে ফেব্রুয়ারি ,
    আমি কি ভুলিতে পারি।”

বীরভূম জেলা জুড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের কথা জানালেন রাহুল চ্যাটার্জি। পূর্বে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর – ডিসেম্বরে ভাষা-বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৪৮ সালের মার্চে এ নিয়ে সীমিত পর্যায়ে আন্দোলন হয় এবং ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি তার চরম প্রকাশ ঘটে। ঐদিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাজপথে বেরিয়ে এলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। মাতৃভাষা বাংলার “রাষ্ট্রীয় ভাষা”-র মর্যাদা আদায়ে ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের এই নির্মম গুলিবর্ষণে শহিদ হন রফিক, সালাম, বরকত, জব্বর প্রমুখ। পুঁজির বিশ্বায়নের কু-প্রভাবে যেখানে অনেক জাতির নিজ ভাষা আজ অবলুপ্তির পথে, সেই জায়গায় সে দেশের সরকারি ও প্রধান ভাষা বাংলা । সেই প্রেক্ষাপটে রফিকুল ইসলাম এবং আব্দুস সালাম প্রাথমিক উদ্যোক্তা হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব কোফি আন্নানের কাছে ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে। ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারি কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসঙ্ঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। ২০১০ সালের ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে এখন থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করবে জাতিসংঘ। এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়েছে।  আজ এই বিশেষ দিনে ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইলামবাজার লোকাল কমিটির উদ্যোগে ছাতারবান্দী গ্রামে কচিকাঁচাদের আনন্দের সাথী ” অঙ্কন প্রতিযোগীতা ” অনুষ্ঠিত হল ৷
– প্রবন্ধ লেখা,স্বরচিত কবিতা, বসে আঁকো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভাষা শহীদ দিবস পালন হয় ডিওয়াইএফ‌আই সাঁইথিয়া লোকালের উদ্যোগে,  সাথে এন‌আরবি ক্যাম্প। নলহাটি তে ২১ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির সফল হলো জুড়ে দেবেন- dyfi-sfi এর উদ্যোগে ভাষা শহীদ দিবস পালন, রামপুরহাট ও লোহাপুরে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।